• ঢাকা
  • সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৫, ২০২০, ০৫:৩০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ৫, ২০২০, ০৫:৩০ পিএম

সাক্ষাৎকার

সব সিনেমাই আমার কাছে কমার্শিয়াল: তিশা

রেজওয়ান সিদ্দিকী অর্ণ
সব সিনেমাই আমার কাছে কমার্শিয়াল: তিশা

অগ্রহায়ণের হেলে পড়া এক বিকেলে কথা হচ্ছিল নুসরাত ইমরোজ তিশার সঙ্গে। অভিনয়ে তিনি যেমন সাবলীল, কথা বলা ঠিক তেমন। সারাদিন শুটিংয়ের পর ক্লান্তিভাব থাকলেও, কথায় যেন তা প্রকাশ পেলো না। কথায় কথায় জানিয়েছেন তার নতুন ছবি ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’র আদ্যোপান্ত। সেই সাথে ক্যারিয়ারের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। 


জাগরণ: করোনার ভেতর শুটিং করছেন। কতটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সম্ভব হচ্ছে?

তিশা: আর্টিস্ট যখন মাস্ক খুলে আছে, ইউনিট তখন মাস্ক পরে আছে। আবার ইউনিট যখন মাস্ক খুলে আছে, আমি তখন মাস্ক পরে আছি। এভাবে সাবধানতা অবলম্বন করে কাজ করতে হচ্ছে। তারপরও খুব কষ্ট হচ্ছে। বলা যায়, মৃত্যু ভয় হাতে নিয়ে কাজ করছি। এছাড়া তো উপায় নেই। কারণ, শুটিং তো করতেই হবে। 

জাগরণ: ‘প্রীতিলতা’র মতো ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয়। বাড়তি কোনো চাপ কি অনুভব করছেন?

তিশা: যেকোনো চরিত্রে অভিনয় করতে গেলে বাড়তি চাপ থাকে। ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয় করতে গেলে তো কথাই নেই। ‘প্রীতিলতা’ চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে চাপটা বেশি অনুভব করছি। কারণ এটি প্রায় এক ‘শ বছর পুরোনো একটি চরিত্র। ওই সময়ের চরিত্রটা ঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারব কি পারব না—সেটা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আছে। তবে চাপমুক্ত হয়ে চরিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে আছি। 

জাগরণ: প্রস্তুতিপর্ব কিভাবে সেরেছেন?

তিশা: আমরা যখন ভাষা আন্দোলন বা একাত্তরের ওপর কাজ করি তখন ঠিকঠাক তথ্য পাই। ভিডিওচিত্র থাকে। যেগুলো দেখে চরিত্রায়ণ সহজভাবে করা যায়। কিন্তু এক ‘শ বছর আগের একটি চরিত্রের প্রস্তুতি নিতে সামনে তেমন কোনো তথ্য বা ভিডিওচিত্র পাইনি। যেটা দেখে নিজেকে প্রস্তুত করা যায়। তবুও আমি চরিত্রটি নিজের ভেতর ধারণ করার জন্য পরিচালক, লেখকের সাথে আলোচনা করেছি। সেলিনা হোসেনের ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’ উপন্যাসটি পড়েছি। এছাড়া ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়েছি। 

জাগরণ: এধরনের ঐতিহাসিক চরিত্র নিয়ে এক্সপেরিমেন্টের সুযোগ কী বেশি থাকে?

তিশা: সবধরনের চরিত্রে এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ থাকে। এটা নির্ভর করে শিল্পীর ওপরে। আর এই এক্সপেরিমেন্ট শুধু অভিনয়শিল্পী করতে পারেন তা নয়। পিরিওডিক্যাল চরিত্র বা মুহূর্ত তুলে ধরতে অভিনয়শিল্পীসহ পুরো ইউনিটের এক্সপেরিমেন্টের সুযোগ থাকে।
 
জাগরণ: অভিনয় করার সময় মনে হয়েছে প্রীতিলতার সাথে আপনার কোনো সাদৃশ্য আছে?

তিশা: এটা আমি দর্শকের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। দর্শক ছবিটি দেখে খুঁজে বের করবে আমার সাথে প্রীতিলতার কোনো সাদৃশ্য আছে কিনা! এতটুকু বলতে পারি, আমার তরফ থেকে আমি শতভাগ চেষ্টা করে যাচ্ছি। 

জাগরণ: আপনি খুব ব্যস্ত একজন অভিনেত্রী। সবধরনের চরিত্রে আপনি মানিয়ে যান। চরিত্রে মানিয়ে যাওয়ার জন্য কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখেন?

তিশা: (হাসি)। চরিত্রটি নিজের ভেতর ধারণ করি। চরিত্রটি কি চায়, সেটি বোঝার চেষ্টা করি। সহশিল্পীরাও আমাকে সাহায্য করেন। তবে সবথেকে বড় বিষয় হলো, দর্শকদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে মূলত আমি চেষ্টা করি ভালোকিছু করার। 

জাগরণ: বাণিজ্যিক ছবিতে আপনার উপস্থিতি নেই। কারণ?

তিশা: একটি বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করেছি। সব সিনেমাই আমার কাছে কমার্শিয়াল। প্রতিটা সিনেমাতেই টাকা ইনভেস্ট করা হয়। লগ্নিকৃত টাকা উঠিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়। 

জাগরণ: ছোটপর্দা নাকি বড়পর্দা—তিশার ভালোলাগার জায়গা কোনটি?

তিশা: আমার কাছে পর্দাই ভালোলাগার জায়গা। সেটা ছোট-বড় যেটাই হোক। এমনকি সেটা ইউটিউব, মোবাইল—যেকোনো কিছু হতে পারে।