• ঢাকা
  • রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২১, ৪ মাঘ ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২১, ০৩:১৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১২, ২০২১, ০৪:৫৭ পিএম

সাক্ষাৎকার

সিনেমা দেখার চেয়ে পড়তে ভালোবাসি : সঞ্জয় সমদ্দার

রেজওয়ান সিদ্দিকী অর্ণ
সিনেমা দেখার চেয়ে পড়তে ভালোবাসি : সঞ্জয় সমদ্দার

সময়কে ধরতে পারা সমসাময়িক নাট্য নির্মাতা সঞ্জয় সমদ্দার। সময়ের কাঁধে ভর করে তার সাম্প্রতিক চিন্তাভাবনা শুধু সিনেমাকেন্দ্রিক। সিনেমা দেখার চেয়ে পড়তে ভালোবাসেন তিনি। কারণ, লক্ষ্য একটাই— সিনেমা নির্মাণ। সময়ের সঙ্গে বোঝাপড়া হয়ে গেলেই হাত দেবেন নির্মাণে। তত দিন শুধু অপেক্ষা।


জাগরণ : আপনি সময়ের আলোচিত একজন নাট্য নির্মাতা। আপনার নির্মাণে সময়কে কতটা ধরতে পেরেছেন?

সঞ্জয় সমদ্দার: আমি সব সময় সময়ের গল্প বলতে চাই। সময়ের ঘটনা, মানুষের মনস্তত্ত্ব, সংকট— সবকিছু তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তবে সময়কে কতটা ধরতে পেরেছি সেটা আমার পক্ষে বলা কঠিন। আমি চেষ্টা করে যাই। বিষয়টি নিয়ে দর্শক ভালো বলতে পারবে। 

জাগরণ: গল্পের সঙ্গে সময়ের সামঞ্জস্য থাকা জরুরি বলে মনে করেন?

সঞ্জয়: কিছু গল্প থাকে ঐতিহাসিক। দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন কিংবা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু নির্মাণ করতে গেলে সেই সময়টায় ফিরে যেতে হবে। তাই সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকতে পারে, না-ও থাকতে পারে। কিন্তু সময়ের গল্প বলার একটা দায় থেকে যায়। আমি যে সময় বাস করি, সে সময়টা তো আমার বেশি চেনা। সে ক্ষেত্রে সময়ের গল্প বলা অপেক্ষাকৃত সহজ। যুগে যুগে কবি-সাহিত্যিকরা তারা তাদের রচনায় নিজেদের সময়ের কথা বলেছেন। তাদের লেখা থেকে আমরা ওই সময় সম্পর্কে ধারণা পাই। সব মানুষ তার সময়ে বাস করে। সে চাইলেও তার সময়কে অস্বীকার করতে পারে না।

জাগরণ: নাটক কেবলই বিনোদনের মাধ্যম নাকি শিক্ষারও জায়গা, বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আছে। আসলে নাটক কেমন হওয়া উচিত? 

সঞ্জয়: বিনোদনের নানা ধরন আছে। কেউ কেঁদে বিনোদন পায়। তা না হলে মানুষ তো দুঃখের নাটক দেখত না। অনেকে হেসে আনন্দ পায়। তাই কমেডি সিনেমা দেখে। আবার নাটক কারো ভাবনার জায়গা প্রসারিত করে। দর্শক বিনোদন কীভাবে গ্রহণ করবে, সেটা একান্তই তার বিষয়। 

জাগরণ : বিভিন্ন মাধ্যমের জন্য প্রচুর নাটক নির্মিত হচ্ছে। সেসব নাটক মান বজায় রাখতে পারছে?

সঞ্জয়: সব নির্মাণ যে ভালো হবে, এমন না। কিছু কাজ খারাপ হয়। সব দেশের ইন্ডাস্ট্রিতে এটা হয়ে থাকে। সবকিছু নির্ভর করে দর্শকের রুচির ওপর। কেউ চাইলে মানসম্পন্ন নাটক দেখবে। কারো ইচ্ছা হলে মানহীন নাটক দেখবে। এটাকে বড় কোনো সমস্যা বলে মনে করছি না। দর্শক যদি মানসম্পন্ন নাটক বেশি গ্রহণ করে, তাহলে মানহীন নাটক নির্মাণের সংখ্যাও কমে যাবে। তাই দর্শকের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

জাগরণ : আপনি নাটক নির্মাণের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখেন?

সঞ্জয়: আমি দুটি বিষয় মাথায় রেখে নাটক নির্মাণ করি। প্রথমত, আমি সিনেমা বানাতে চাই। সেই লক্ষ্যে আমি চেষ্টা করি, আমার নির্মাণকে সিনেমাটিকভাবে উপস্থাপন করতে। এ ছাড়া বলতে পারেন, নাটক বানিয়ে হাত পাকাচ্ছি। দ্বিতীয়ত, গল্পের বিষয় বস্তু। গল্পের কোনো একটা জায়গা যদি আমার ভালো লাগে তাহলে সেটা আমি চিত্রানাট্যে রূপ দিই। হতে পারে সেটা প্রেম, বিরহ, সামাজিক সমস্যা, পারিবারিক বিষয় কিংবা অপরাধ। দিন শেষে দেখা যায়, আমার সব নাটক, ওয়েব সিরিজে কিছু বার্তা উঠে আসে। 

জাগরণ: দর্শক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ভাবেন?

সঞ্জয়: ওই যে বললাম, প্রথমে আমার গল্পের বিষয়বস্তু নিয়ে ভাবি। আমি চারপাশ থেকে গল্পের বিষয় সংগ্রহ করি। আমার বিশ্বাস থাকে, যদি আমি বিষয়টা ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারি, তাহলে দর্শক গ্রহণ করবে। বলতে পারেন, বিশ্বাসের ওপর ভর করে নাটক নির্মাণ করি।

জাগরণ: আপনি বলছিলেন, সিনেমা বানাতে চান। কবে নাগাদ কাজ শুরু করছেন?

সঞ্জয়: সিনেমার স্ক্রিপ্ট নিয়ে আমি প্রস্তুত আছি। বেশ কয়েকজন প্রযোজকের সঙ্গে কথা চলছে। আসলে, সিনেমা অনেক বড় ক্যানভাস। হুট করেই নেমে পড়া যায় না। তবে চেষ্টা চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক মিলে গেলে শিগগিরই সিনেমায় হাত দেবো। আর যত দিন না সিনেমা নির্মাণে হাত দিতে পারছি, তত দিন প্রচুর সিনেমা দেখতে চাই। সিনেমাবিষয়ক বই পড়ে জ্ঞান নিতে চাই। আমি সিনেমা দেখার চেয়ে, পড়তে ভালোবাসি।

জাগরণ : থ্রিলারধর্মী ও প্রেমের নাটক বানাচ্ছেন নিয়মিত। আপনার পছন্দের বিষয় কোনটা?

সঞ্জয়: অবশ্যই থ্রিলার। এ নিয়ে গল্প বলতে ভালো লাগে। এতে টানটান উত্তেজনা থাকে। মানুষকে চমকে দেওয়া যায়। বর্তমানে দর্শকও থ্রিলার কিছু দেখতে পছন্দ করে। আমি নিজেও প্রচুর থ্রিলার দেখি।

জাগরণ: বাংলাদেশে থ্রিলার নাটক, ওয়েব সিরিজের বাজার কেমন? 

সঞ্জয়: দেশে ইতিমধ্যে দেশি-বিদেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থ্রিলার সিরিজ নির্মাণ করছে। সেসব কনটেন্ট দেখতে দর্শক কিন্তু হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এই জন্য আলাদা দর্শক তৈরি হয়েছে। যত দিন যাবে ততই থ্রিলারের জনপ্রিয়তা বাড়বে। আমার মনে হয়, এই জনপ্রিয়তা কমবে না।