• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০২ মার্চ, ২০২১, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২১, ০১:৩৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৯, ২০২১, ০১:৩৬ পিএম

৮৬তম জন্মদিন

শাপভ্রষ্ট দেবদূত হয়েই থাকবেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

শাপভ্রষ্ট দেবদূত হয়েই থাকবেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

মৃত্যুর আগে শেষ জন্মদিনে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, জন্মদিনের আদিখ্যেতা তাঁর ভালো লাগে না। তাই পরবর্তী জন্মদিনের আগে অন্য কোথাও চলে যাবেন তিনি। সৌমিত্র কথা রেখেছেন। ৮৬তম জন্মদিনের আগেই চলে গেছেন অনেক দূর। যেখান থেকে চাইলেই কেউ ফিরে আসতে পারে না। 

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। গত বছর নভেম্বর মাসে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে দক্ষিণ কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন প্রবীণ অভিনেতা। বিভিন্ন অসুখের সঙ্গে প্রায় ৪০ দিন লড়াই করে ১৫ নভেম্বর চিরঘুমের দেশে চলে যান তিনি।

বাঙালির আন্তর্জাতিক তারকা ছিলেন সৌমিত্র। সময়ের ধুলো কখনো তাঁর আভিজাত্যে স্পর্শ করেনি। অভিনয়, কবিতা, আবৃতি—সবকিছুতে পারদর্শী ছিলেন এই কিংবদন্তি। জীবদ্দশায় তিনি তাঁর কাজে দ্যুতি ছড়িয়েছেন নক্ষত্রের মতো। সেই নক্ষত্রের আলো এখনো জ্বল জ্বল করে জ্বলছে। 

দর্শকনন্দিত এই অভিনেতা ১৯৫৯ সালে সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় ‘অপুর সংসার’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করেছিলেন। তারপর সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় ১৪টি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। শুধু সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনা শুধু নয় তপন সিনহা, মৃণাল সেন থেকে শুরু করে তার পরের প্রজন্ম ও নতুন প্রজন্মের পরিচালকদের সঙ্গেও কাজ করেছিলেন সৌমিত্র।

এদিকে তাঁর জন্মদিনে প্রকাশ পেয়েছে ‘অভিযান’ ছবির টিজার। সৌমিত্রর জীবনী অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। এটি পরিচালনা করেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ছবিতে সৌমিত্রর তরুণ বয়সের চরিত্রে অভিনয় করেছেন যীশু সেনগুপ্ত। শেষ বয়সের চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্বয়ং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।  

বাবার জন্মদিনে ফেসবুকে আবেগাপ্লুত কথা লিখেছেন মেয়ে পৌলমী বসু। তিনি লেখেন, “আজ এত মন খারাপ হবে, সেটাই ভাবতে পারিনি। রাশি রাশি মন খারাপ কোথা থেকে যেন এসে আমায় গ্রাস করেছে। বাপি তুমি কোথায়? খুব মিস করছি তোমায়। আজ আর কিছু ভালো লাগছে না।”

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও এই টুইট বার্তায় স্মরণ করেছেন এই কিংবদন্তিকে। তিনি লেখেন, “সম্প্রতি আমার সৌভাগ্য হয়েছিল সৌমিত্রদার একটি প্রদর্শনী উদ্বোধন করার, যেখানে তাঁর আঁকা ছবি, সিনেমার পোস্টার এবং তাঁর ডিজাইন করা কাস্টিউম প্রদর্শিত হয়েছিল। তাঁর পরিবারের মানুষদের ভালোবাসা এবং উষ্ণতায় আমি অভিভূত।”

আজ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় নেই। কিন্তু আমরা দেখতে পাই এই নাগরিক বৃত্তের মধ্যেই তিনি জেগে আছেন এক শাপভ্রষ্ট দেবদূত হয়েই।