• ঢাকা
  • শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১, ২৭ চৈত্র ১৪২৭
প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২১, ০২:৩৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ৪, ২০২১, ০৫:৩৬ পিএম

চলচ্চিত্রকে বিদায় জানাচ্ছেন জঁ লুক গদার

চলচ্চিত্রকে বিদায় জানাচ্ছেন জঁ লুক গদার

ফরাসি নবতরঙ্গ চলচ্চিত্র আন্দোলনের পুরোধা খ্যাতিমান ও প্রভাবশালী পরিচালক জঁ লুক গদার নব্বইয়ের ঘরে এসে ঘোষণা করলেন তিনি অবসর নিতে যাচ্ছেন। জীবন্ত এই কিংবদন্তি  সাত দশকের চলচ্চিত্র জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দেয়ার পর নড়েচড়ে বসে চলচ্চিত্র দুনিয়া। কেরালা ভার্চুয়াল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এক সাক্ষাৎকারে নিজের অবসরের কথা জানান তিনি। গদার নিশ্চিত করেন, হাতে থাকা দুটি সিনেমার কাজ শেষ করেই সিনেমাকে বিদায় জানাবেন।

নব্বই বছর বয়স্ক গদার বলেন, “আমার হাতে থাকা দুটি চলচ্চিত্রের কাজ শেষে পরিচালনা জীবনকে বিদায় জানাতে চলেছি। কাজ শেষে আমি বলব, বিদায় সিনেমা।”

২০০২ সালে সাইট অ্যান্ড সাউন্ড ম্যাগাজিন আয়োজিত সমালোচকদের ভোটে তিনি সর্বকালের সেরা দশ পরিচালকের তালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। বলা হয়ে থাকে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের যে কোনো চলচ্চিত্র নির্মাতার চেয়ে তাঁর কাজ ব্যতিক্রমী ও রাজনৈতিক। গদার চলচ্চিত্র সমালোচক ও তাত্ত্বিক হিসেবেও বেশ প্রতিষ্ঠিত।  

ফ্রান্সের এক ফ্রাঙ্কো-সুইস পরিবারে ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর গদারের জন্ম। তাঁর জন্মের চার বছরের মাথায় পুরো পরিবার সুইজারল্যান্ডে চলে যায়। সেখানেই শুরু হয় গদারের প্রাথমিক শিক্ষাজীবন। এরপর ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্যারিসে ফিরে ঐতিহ্যবাহী লিসি বুফোন স্কুলে ভর্তি হন। এ সময় প্যারিসের বেশ কয়েকটি সিনেমার ক্লাবে তাঁর অবাধ যাতায়াত শুরু হয়। এসব জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে তাঁর পরিচয় হয় জ্যাকুয়েস রিভেটি, ক্লদ শ্যাব্রল, ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো প্রমুখ চলচ্চিত্রপ্রেমীদের সঙ্গে। আর সে সুবাদে চলচ্চিত্র সমালোচক হিসেবে নাম লেখান গদার। প্রকাশ করেন চলচ্চিত্র পত্রিকা গ্যাজেট দ্যু সিনেমা

এরপর ১৯৫২ সালে সুইজারল্যান্ডে ফিরে যান গদার। সেখানে তিনি একটি বাঁধে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ নেন। এই কাজ করার সময়ই বাঁধটি নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের চিন্তা তার মাথায় আসে। সে অনুযায়ী ৩৫ মিমিতে তিনি নির্মাণ করেন অপারেশন কনক্রিট। এরপর একে একে অল দ্য বয়েস আর কলড প্যাট্রিক (১৯৫৭), চার্লট অ্যাট সান জুলস (১৯৫৮) ইত্যাদি।

গদারের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ব্রেথলেস (১৯৬০)। এই ছবিটিই তাঁকে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি এনে দেয় এবং ব্রেথলেসকে  ধরা হয় নবতরঙ্গের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। 

গদারের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে—দ্য লিটল সোলজার (১৯৬০), অ্যা উইম্যান ইজ অ্যা উইম্যান (১৯৬১), মাই লাইফ টু লিভ (১৯৬৩), কনটেম্পট (১৯৬৩), অ্যা মেরিড উইম্যান (১৯৬৪), পিয়েরে ল্য ফু (১৯৬৫), মেইড ইন ইউ. এস. এ (১৯৬৬), উইক অ্যান্ড (১৯৬৭), নিউ ওয়েভ (১৯৯০), জেএলজি/জেএলজি (১৯৯৪), গুডবাই টু ল্যাঙ্গুয়েজ (২০১৪) প্রভৃতি।

গদার ২০১০ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি চলচ্চিত্রে অবদান রাখার জন্য বিশেষ অস্কার পান। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

গদারের চলচ্চিত্র অনেক বিখ্যাত পরিচালকদের অনুপ্রাণিত করেছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মার্টিন স্কোরসিসি, কোয়েন্টিন টারান্টিনো, ব্রায়ান ডি পালমা, স্টিভেন সোডারবার্গ, ডি. এ. পেনবেকার, রবার্ট অল্টম্যান, জিম জারমুশ, ভিম ভেন্ডার্স, বেরনার্দো বেরতোলুচ্চি ও পিয়ের পাওলো পাসোলিনি।