• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৮, ২০২১, ১১:৪৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ২৮, ২০২১, ০৫:৪৬ পিএম

বছরের আলোচিত চরিত্র পরীমণি

বছরের আলোচিত চরিত্র পরীমণি
চিত্রনায়িকা পরীমণি

২০২১ সালের আলোচিত চরিত্র ছিলেন নায়িকা পরীমণি। তবে কোনও সিনেমার জন্য নয়, ব্যক্তি জীবন নিয়ে। তার করা বোটক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার হন ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ ও অমি। তবে দুই মাসের ব্যবধানে বাদী থেকে হয়ে যান আসামি।

বোট ক্লাব, বাসায় র‌্যাবের অভিযান, মামলা, রিমান্ড, গ্রেফতার, জামিন, মুক্তি। এমন সব ঘটনার সঙ্গে জুন থেকে ডিসেম্বর বারবার উচ্চারণ হয়েছে পরীমণির নাম। শুরুটা হয়েছিল ৯ জুন রাতে।

সেদিন রাতে পারিবারিক বন্ধু নিয়ে যান আশুলিয়ার একটি ক্লাবে পরীমণি। সেখানে জোর করে তার মুখে পানীয়র গ্লাস চেপে ধরে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে বলে জানান তিনি।

রুপালি পর্দার পরিচিত মুখ পরীমণি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ জনপ্রিয় তিনি।

১৩ জুন, হঠাৎ ফেসবুক লাইভে এসে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার শিকার হওয়া অভিযোগ তার। পরে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মলনে দাবি করেন, ঢাকা বোটক্লাবে ৯ জুন রাতে ঘটেছে সে ঘটনা।

এ অভিযোগে সাভার মডেল থানায় মামলা হলে গ্রেফতার হন ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমি সহ ৫ জন। উদ্ধার হয় মাদকদ্রব্য। ১৫ জুন তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে ডিবি কার্যালয়ে যান পরীমণি। জানান, পুলিশের ওপর তার আস্থা আছে।

এরপর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ৯ জুন রাতে বনানী থানায় দেখা যায় তাকে। সামনে আসে বোটক্লাবের ফুটেজও। তাতে দেখা যাচ্ছে অচেতন পরীমণিকে গাড়িতে তোলা হচ্ছে।

এর কদিন পর বোটক্লাবের ভেতরের ফুটেজে, অভিযুক্ত নাসিরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায় পরীমনিকে। গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবের ফুটেজেও তার ভাঙচুরের দৃশ্য চোখে পড়ে।

এর ১৫ দিনের মধ্যেই ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা এবং পুলিশের করা মাদক মামলায় জামিন পান ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ।

দুই মাসেরও কম সময়ে বাদী থেকে আসামি হন এই চিত্রনায়িকা। এর পর ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমণিকে আটক করেছে র‌্যাব।

অভিযান চালানোর সময় ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে ফেসবুকে লাইভে এসে পরীমণি থানাপুলিশ ও ডিবির কর্মকর্তা এবং তার পরিচিতজনদের কাছে ফোন করে তাকে বাঁচানোর আহ্বান জানান। তবে পরে চালানো অভিযানে পাওয়া যায় মিনিবার, উদ্ধার হয় মাদক। ৫ আগস্ট পরীমণির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়।

পরীমণিকে গ্রেফতারের পর স্ববিরোধী বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী। ৬ আগস্ট তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকও করেছিল ডিবি। সেদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই মামলায় তাকে আদালতে তোলা হয়। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করে পুলিশ।

এর মধ্যে ৭ আগস্ট এফডিসিতে সংবাদ সম্মেলন করে পরীমণির সদস্যপদ স্থগিতের কথা জানায় চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। চার দিনের রিমান্ড শেষে ১০ আগস্ট আরও দুই দিনের জন্য রিমান্ডে নেয়া হয় পরীমণিকে।

পরীমণির মামলার তদন্ত প্রথমে থানা পুলিশ, পরে যায় ডিবির দায়িত্বে। তবে ৭ আগস্ট ডিবি কর্মকর্তা সাকলাইনের সঙ্গে এই চিত্রনায়িকার ঘনিষ্টতার ছবি ফাঁস হলে তদন্ত দায়িত্ব চলে যায় সিআইডির কাছে। ৩ দফা রিমান্ড দেয়া হয় পরীমণিকে। এ নিয়ে পরে হাইকোর্টে ক্ষমাও চান সংশ্লিষ্ট বিচারক। মামলার তদারক কর্মকর্তাকে পাঠানো হয় বাধ্যতামূলক অবসরে।

শুরুতে কেউ পাশে না থাকলেও পরে পরীমণির মুক্তির দাবি হয় মানবন্ধন। গ্রেফতারের ২৬ দিন পর পয়লা সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্ত হন তিনি। বাইরে এসেই হাতের লেখা দিয়েও আসেন আলোচনায়। আপস...

৬ সেপ্টেম্বর পরীমণির করা ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগ জমা দেয় পুলিশ। ১৩ ডিসেম্বর তা আমলে নিয়ে বিচার শুরু করে আদালত।

পরীমণির বিরুদ্ধে করা মাদক মামলার তদন্ত শেষেও ১৫ নভেম্বর অভিযোগপত্র দিয়েছে সিআইডি। এর অভিযোগ গঠন হতে পারে নতুন বছরের দোসরা জানুয়ারি।

জাগরণ/এসএসকে