• ঢাকা
  • শনিবার, ২৮ মে, ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২২, ০৭:০২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৬, ২০২২, ০১:০২ পিএম

অক্ষয়ের সঙ্গে গোপনে বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন রাভিনা!

অক্ষয়ের সঙ্গে গোপনে বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন রাভিনা!

খান কিংবা কাপূর পরিবারের না হয়েও বছরের পর বছর তার ওপর ভরসা রেখেছে বলি‌উড। অক্ষয়ের নামের জোরেই নাকি বলিউডের অনেক সাদামাটা সিনেমা উতরে গেছে। নব্বইয়ের দশকে বলিউড কাঁপিয়ে দিয়েছিল অক্ষয় কুমার-রাভিনা টেন্ডনের জুটি। পর্দায় এবং তার বাইরেও।

অক্ষয়-রাভিনার রসায়ন নিয়ে সে সময় কম আলোচনা চলত না। বলিউডে গুঞ্জন ছিল, প্রেমপর্বের মাঝেই তা এক সময় বাগদান পর্যন্তও গড়িয়েছিল। এত বছর পরেও তা নিয়ে তর্ক জমে। বাগদান, প্রেম, বিয়ে ও তাদের সম্পর্কের অনেক কথা জানিয়েছেন রাভিনা।

অক্ষয় এবং রাভিনা দু’জনেই নব্বইয়ের দশকে বলিউডে পা রেখেছিলেন। এক সময় তাদের জমজমাট প্রেম নিয়ে বলিউডে কম গুঞ্জন ছড়ায়নি। এমনকি এখনও বলিউড-তারকাদের সম্পর্ক নিয়ে কথা উঠলে অক্ষয়-রাভিনার প্রসঙ্গ উঠে আসে। অনেকে বলেন, ‘মোহরা’র ‘টিপ টিপ বরষা পানি’ গানের দৃশ্যায়নের সময় দু’জনার রসায়ন চরমে উঠেছিল। সেটা ছিল ১৯৯৪ সাল। রাজীব রাইয়ের ওই ছবির পরেও একসঙ্গে কাজ করেছেন দু’জনে। তবে ভক্তদের দাবি, ওই গানটিই অক্ষয়-রাভিনা জুটির ফিল্মি কেরিয়ারের সোনালি অধ্যায় হিসেবে মনে থাকবে।

তবে সিনেমার পর্দার বাইরেও অক্ষয়-রাভিনার জুটি সুপারহিট হয়েছিল। বলিউডে গুঞ্জন ছিল, প্রেমপর্বের মাঝেই তা এক সময় বাগদান পর্যন্তও গড়িয়েছিল। দীর্ঘ দিন ধরে তা নিয়ে জল্পনাও চলেছিল। এক সময় বাগদানের কথা স্বীকারও করেন দু’জনে। তবে এখন দু’জনেই যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত।

টুইঙ্কল খান্নাকে বিয়ে করে চুটিয়ে সংসার করছেন অক্ষয়। অন্য দিকে, অনিল ঠান্ডানির সঙ্গে ঘর পেতেছেন রাভিনা। তবে অক্ষয়-রাভিনা দু’জনেই একে অপরের সঙ্গে ঘর বাঁধতে চেয়েছিলেন। একথা জানিয়েছেন দু’জনেই।

কবে, কখন বা কোথায় বাগদান হয়েছিল? সে সব খোলসা না করলেও তাদের সম্পর্কের অনেক কথা জানিয়েছেন রাভিনা। তার সঙ্গে যে অক্ষয় গোপনে মন্দিরে বিয়ে সেরে নিতে চেয়েছিলেন, তাও স্বীকার করেছেন সংবাদমাধ্যমে।

তবে তাদের সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত গড়াল না কেন? ‘খিলাড়ি’ অক্ষয়কে নাকি একেবারেই ভরসা করা যায় না, এমনই দাবি রাভিনার। অনেকে বলেন, রাভিনার এমন দাবির পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। এক সময় রাভিনা কটাক্ষ করে বলতেন, অক্ষয়ের সামনে যে মেয়েই আসুক না কেন, তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বসত। যে গতিতে ও এগোচ্ছে, তাতে মনে হয় মুম্বাইয়ের প্রতি তিন-চারটি মেয়ের বাবাকেই ওর মা-বাবা বলে ডাকতে হবে।

নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় সাসপেন্স-থ্রিলার ছবি ‘খিলাড়ি’তে কম খেলা করেননি অক্ষয়। তবে অনেকেই খোঁচা দিয়ে বলেন, ফিল্মি পর্দার বাইরেও অক্ষয় যে কত বড় খেলোয়াড় তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলেন রাভিনা। পরিচালক আব্বাস-মস্তানের ছবির নায়ককে সামাল দিতেই নাকি তাকে নাজেহাল হতে হয়েছিল।

রাভিনার সঙ্গে প্রেমপর্বের মাঝেই একের পর এক নায়িকার সঙ্গে অক্ষয়ের নাম জড়িয়েছিল। পূজা ভাট, শিল্পা শেঠি, টুইঙ্কেল খান্না। এমনকি, ‘খতরোঁ কি খিলাড়ি’ ছবির সময় নায়িকা রেখার সঙ্গে অক্ষয়ের প্রেম নিয়ে রসালো আলোচনা চলতি বলিপাড়ায়। যদিও রাভিনার দাবি, আমার মনে হয় না, অক্ষয়ের সঙ্গে রেখার সম্পর্ক ছিল। উল্টো রেখার কাছ থেকে দূরে পালাত অক্ষয়। ওই ফিল্মের জন্যই রেখাকে সহ্য করতে হত। এক সময় তো অক্ষয়ের জন্য বাড়ি থেকে দুপুরের খাবার নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন রেখা। সে সময়ই আমি বাধা দিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, (রেখা) বড্ড বাড়াবাড়ি করছেন।

অক্ষয় সম্পর্কে অনেকেই বলেন, ‘ক্যাসানোভা’ শব্দটা যেন ওঁর সমার্থক। সাধে কি আর রাভিনা বলেন, কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর পর তার প্রতি বিশ্বস্ত থাকাটাই আসল। আমার কাছে সেটাই বড় ব্যাপার। তবে অক্ষয়ের কাছে এসবের কোনো মূল্য নেই। ও আশা করে, প্রতি বারই আমি ওকে মাফ করে দেব। প্রায় তিন বছর ধরে সে রকমই করে এসেছিলাম। তবে শেষের দিকে আর নিতে পারছিলাম না!

তবে কয়েক বছরের প্রেম হলেও অক্ষয়-রাভিনার সম্পর্ক বিয়েতে পরিণতি পেতে চেয়েছিল। মহিলা ভক্তদের কাছে যাতে তার জনপ্রিয়তা কমে না যায়, সে জন্য তাদের বিয়ের কথা গোপন রাখতে চেয়েছিলেন অক্ষয়। এমন দাবিও করেছেন রাভিনা। তাতেও রাজি হয়েছিলেন তিনি।

বেশ সাদামাটা ভাবে বাগদানের অনুষ্ঠান হয়েছিল অক্ষয়-রাভিনার। রাভিনা বলেন, আচমকাই ঠিক করেছিলাম, বাগদানের অনুষ্ঠান করব। এমন এক জনের সঙ্গে সম্পর্ক হয়েছিল, যাকে আমি চিনি, জানি। আমিও সব ছেড়েছুড়ে সকলের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চেয়েছিলাম। বিয়ের আগে থেকেই অভিনয় ছেড়ে দেব বলেও স্থির করেছিলাম।

একটি মন্দিরে তাদের বাগদানের অনুষ্ঠান হয়েছিল বলে জানিয়েছেন রাভিনা। ওই অনুষ্ঠানের কথা যাতে ঘুণাক্ষরেও পাঁচকান না হয়, সে জন্য দু’জনের পরিবারের সদস্য ছাড়া কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি তখন। রাভিনার বলেন, কোনও জাঁকজমক নয়, বেশ ছিমছাম অনুষ্ঠান হয়েছিল। মন্দিরের পুরোহিত পুজাটুজা করছিলেন। অনুষ্ঠানে থাকার জন্য আমার আর অক্ষয়ের পরিবার দিল্লি থেকে এসেছিল। অক্ষয়ের পরিবারের একজন বয়স্ক মানুষ তো আমার মাথায় দোপাট্টা বেঁধে দিয়েছিলেন। হয়তো তিনি ভেবেছিলেন, আমাদের বিয়ে হচ্ছে!

বাগদান সত্ত্বেও বিয়ে করেননি। অক্ষয় এবং রাভিনা দু’জনেই সে দাবিই করেছেন। এ বিষয় নিয়ে দীর্ঘ দিন চুপ ছিলেন অক্ষয়। এক সময় সংবাদমাধ্যমে বলেন, আমার এবং রাভিনার কেবলমাত্র বাগদান হয়েছিল। যা পরে ভেঙে যায়। কিন্তু মাফ করবেন, আমারা কখনই বিয়ে করিনি!

বিয়ে পর্যন্ত না গড়ালেও দু’জনের মধ্যে তিক্ততা ছিল না বলে দাবি অক্ষয়ের। তিনি বলেন, রাভিনার সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে গেলেও আমরা দীর্ঘ দিন একসাথে কাজ করেছি।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।