• ঢাকা
  • বুধবার, ২৫ মে, ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: মে ১০, ২০২২, ০৪:৪৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ১০, ২০২২, ১০:৪৭ এএম

চলে গেলেন পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা

চলে গেলেন পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা
সংগৃহীত।

সন্তুরবাদক পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা আর নেই। আজ মঙ্গলবার মুম্বাইয়ে নিজের বাড়িতেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান শিবকুমার। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী মনোরমা এবং ছেলে রাহুল শর্মাকে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা ছয় মাস ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর ডায়ালাইসিস চলছিল।

প্রবীণ এ শিল্পীর প্রয়াণে ভারতের সাংস্কৃতিক জগতে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে শোক প্রকাশ করেন। শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অনেকে। নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, ‘আমাদের সাংস্কৃতিক জগৎ রিক্ত হলো পণ্ডিত শিবকুমার শর্মার প্রয়াণে। “সন্তুর” যন্ত্রটিকে তিনি বিশ্বের দরবারে বিশেষ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করেছেন।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘পণ্ডিত শিবকুমার শর্মার প্রয়াণে গভীরভাবে শোক প্রকাশ করছি। তিনি শুধু যে বিখ্যাত সন্তুরবাদক ছিলেন তা-ই নয়, বহু ভারতীয় চলচ্চিত্রে সুরও করেছেন তিনি।’

শিল্পীর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে ওস্তাদ আমজাদ আলী খান লিখেছেন, ‘পণ্ডিত শিবকুমার শর্মার প্রয়াণ একটি যুগাবসান। তিনি সন্তুর যন্ত্রটির অগ্রণী শিল্পী। আমার কাছে অবশ্য এটা ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্ত। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি। তাঁর সংগীত বাজতে থাকুক আমাদের হৃদয়ে।’

কাশ্মীরের বাদ্যযন্ত্র সন্তুর উপত্যকার বাইরে খুব একটা পরিচিত ছিল না। এ বাদ্যযন্ত্রকে ভারতে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল পণ্ডিত শিবকুমার শর্মার। সেতার, সরোদের মতোই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সন্তুর। অনেকেই বাদ্যযন্ত্রটির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ওঠেন। সন্তুর বাজানোর পাশাপাশি পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার সঙ্গে মিলে বিভিন্ন ছবির সংগীত পরিচালনাও করেন পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা। উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সিলসিলা’, ‘লামহে’, ‘চাঁদনি’।

১৯৩৮ সালের ১৩ জানুয়ারি জম্মুর একটি সম্ভ্রান্ত সংগীতজ্ঞ পরিবারে জন্ম শিবকুমারের। তাঁর বাবা উমা দত্তশর্মা ছিলেন প্রথিতযশা সংগীতশিল্পী। মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকেই শিবকুমার তাঁর বাবার কাছ থেকে শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রশিক্ষণ নেয়া শুরু করেন। উমা সন্তুর নিয়ে অনেক গবেষণা করেন এবং সিদ্ধান্ত নেন যে ছেলেকে তিনি সন্তুরবাদক হিসেবে গড়ে তুলবেন। 

এই চিন্তা থেকে শিবকুমারকে ১৩ বছর বয়স থেকে সন্তুরের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। পরবর্তীকালে ‘সন্তুর’ যন্ত্রটি নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন শিবকুমার। পরে শিবকুমার চলে যান মুম্বাই। তাঁর বিচরণক্ষেত্র গোটা বিশ্ব হলেও মূলত তিনি কাজ করেছেন মুম্বাই থেকেই।

সংগীত নাটক একাডেমিসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বহু পুরস্কার পেয়েছেন শিবকুমার। ২০০১ সালে পান পদ্মবিভূষণ। এ ছাড়া আমেরিকার সম্মাননীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা হয় তাঁকে।

 

এসকেএইচ//