• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০১৯, ০৯:৩৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ২০, ২০১৯, ০৩:৩৭ এএম

‘জাতির স্বার্থে নারী ও নদীকে রক্ষা করতে হবে’ 

ঢাবি প্রতিনিধি
‘জাতির স্বার্থে নারী ও নদীকে রক্ষা করতে হবে’ 

লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, ‘আমাদের দেশে নদ-নদীগুলো অত্যাচারিত হচ্ছে দিনের পর দিন। কাজেই বাংলাদেশের নারী ও নদীকে রক্ষা করতে হবে আমাদের জাতির স্বার্থেই। কোনোভাবেই যেন আমাদের নারীরা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার না হয়। কোনোভাবেই যেন আমাদের নদী দখল ও দুষণের শিকার হয়ে এই অবস্থায় (মৃত) পতিত না হয়।’

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গ্রীন ভয়েস-এর ১৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শাহবাগসহ দেশের ৬৪টি জেলায় একইসময়ে বুড়িগঙ্গা-ধলেশ্বরী-তুরাগ ও শীতলক্ষ্যাসহ সকল নদী দখল-দূষণমুক্ত ও নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবীতে একযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‍্যালি বের করেন তারা।

মানববন্ধনে গ্রীন ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর কবিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সৈয়দ আবুল মকসুদ সংগঠনটির ১৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। মানবন্ধনের সঞ্চালনা করেন গ্রীন ভয়েসের যুগ্ম সমন্বয়ক হুমায়ন কবির সুমন। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বাপার যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান মৃধা বেনু, মিহির বিশ্বাস, স্থপতি ইকবাল হাবীব, মানবাধিকার কর্মী ও বাপা নির্বাহী কমিটির সদস্য জাকির হোসেন, বিধান চন্দ্র পাল, সাংবাদিক শুভ কিবরিয়া, শ্রমিক নেতা আবুল বারাকাত, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইবনুল সাইদ রানা, সাবেক ছাত্রনেতা রুস্তম আলী খোকন প্রমুখ।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘বাংলাদেশে নদীর উপরে অত্যাচার হচ্ছে। একদিকে সরকার বলছে নদী রক্ষায় তারা সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অন্যদিকে আমরা সরকারকে তৎপর হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি, বিভিন্ন দাবি জানাচ্ছি, মানববন্ধন করছি, সভা-সমাবেশ করছি- কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। আমাদের নদীমাতৃক দেশ বলা হয়। কিন্তু এখন এটি নদী মৃত্যুর দেশ হিসেবে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে দুটি জিনিস এখন সবচেয়ে বিপন্ন। একটি বাংলাদেশের নারী, অন্যটি বাংলাদেশের নদী। ধর্ষক ও নিপীড়কদের দ্বারা বাংলাদেশের নারী আজ অত্যন্ত বিপন্ন। আর দখল ও দূষণকারদের কারণে বাংলাদেশের নদীগুলোর অস্থিত্ব বিপন্ন হওয়ার অবস্থা হয়েছে।’

মিহির বিশ্বাস বলেন, ‘সরকার আমাদের দাবী মেনে নিলেও বাস্তবায়নে সে রূপ সাফল্য আসেনি। সরকারের অনেক নীতি পরিবেশবান্ধব এটা আমরা লক্ষ করেছি। কিন্তু জনগণ সেই সুবিধা পাচ্ছে না। একচেটিয়াভাবে  নদী দখল হয়ে যাচ্ছে। যা আগে ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ছিল এখন তা ৩ থেকে ৫ কিলোমিটারে ঠেকেছে। বর্তমান সরকার কতটুকু নদী উদ্ধার করে তা এই পরিসংখ্যান থেকে তুলনা করে বুঝা যাবে। নদী দূষণ ভয়াবহ এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির পরিমাণ ও কমে গেছে। এমতাবস্থায় ভূ-পৃষ্ঠের পানি যথোপযুক্ত সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।’

এমআইআর/এসএইচএস