• ঢাকা
  • বুধবার, ০৩ জুন, ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
প্রকাশিত: মে ১২, ২০১৯, ০৭:২৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ১২, ২০১৯, ০৭:২৫ পিএম

রাজধানীর অর্ঘ্য পার্ক রক্ষায় ১৭ বিশিষ্ট নাগরিকদের আবেদন

জাগরণ প্রতিবেদক 
রাজধানীর অর্ঘ্য পার্ক রক্ষায় ১৭ বিশিষ্ট নাগরিকদের আবেদন

রাজধানীতে ‘অর্ঘ্য’ নামে এক  প্রাকৃতিক পার্ক রক্ষার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন করেছেন জাতীয় অধ্যাপক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, কলামিস্ট, নাট্যকার ও বুদ্ধিজীবীসহ দেশের ১৭ বিশিষ্ট নাগরিক। 

আবেদনে বলা হয়, পার্কটি ঢাকা মহানগরীতে মিরপুর রোড ও গ্রীণ রোডের সংযোগস্থলে এ পার্ক প্রায় ২২ শতাংশ জায়গার উপর গড়ে উঠেছে।
 
আবেদনকারীরা হলেন- জাতীয় অধ্যাপক অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ও ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, লেখক ও সামাজিক আন্দোলন কর্মী সৈয়দ আবুল মকসুদ, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, শিক্ষক ও নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার. মামুনুর রশীদ, কবি নির্মলেন্দু গুণ. সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, গোলাম কুদ্দুছ ,নাসির উদ্দীন ইউসুফ. যাদু শিল্পী জুয়েল আইচ, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, আইনজীবী মনজিল মোরশেদ, স্থপতি ইকবাল হাবীব, প্রকৃতি ও নগর সৌন্দর্যবিদ রাফেয়া আবেদীন, বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন। 

আবেদনে বলা হয়, ইট পাথরের এ ঢাকা মহানগরীতে মিরপুর রোড ও গ্রীণ রোডের সংযোগস্থলে গড়ে উঠেছে ‘অর্ঘ্য’ নামের এক প্রাকৃতিক পার্ক। এ পার্কে বাসা বেঁধেছে ঝাঁকে ঝাঁকে প্রজাপতি এবং পাখিদের দল। ফুটেছে অসংখ্য প্রজাতির ফুল।এটি একটি কীট পতঙ্গের আধার।

গ্রিল দিয়ে ঘেরা এই পার্কটি প্রজাপতি, টিয়া পাখি, গাছ-গাছালি, কৃত্রিম লেক ও ছোট টিলায় প্রাণীদের-এ অভয়ারণ্য নগর জীবনের এক বৈচিত্রপূর্ণ সম্পদ। ঢাকা সিটি করপোরেশন থেকে বরাদ্দ নিয়ে ২০০৬ সালে এ পার্কটি গড়ে তোলেন প্রকৃতি ও নগর সৌন্দর্যবিদ রাফেয়া আবেদীন। নাগরিক সমাজের সহায়তাই তার এ কাজের মূল শক্তি।

বলা হয়, সিটি করপোরেশনে নান্দনিক সৌন্দর্যের এ পার্কটিকে পার্শ্ববর্তী জমির মালিক ‘বিআরবি কেবলস’ নামক একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিকট বরাদ্দ দেয়ার সংবাদে আমরা বিস্মিত, হতবাক এবং ক্ষুব্ধ। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে এই জায়গাটি ব্যবহার করবে, বিদ্যমান প্রজাপতি ও পাখিদের তাড়িয়ে দেয়া হবে, প্রাণীকূল মারা যাবে-এ দুষ্কর্ম কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এক বছর আগে এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়, জারি হয় নিষেধাজ্ঞা। আদালতের কারণ দর্শাও নোটিসের কোনো জবাবও তারা দেয়নি। এখন আবার ঐ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এ জায়গাটি দখলে নিচ্ছে। উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্যকরণ বিষয়টি থানা পুলিশকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।

সর্বজন বিদিত যে,সায়েন্স ল্যাবরেটরী সংলগ্ন এই মোড়টির যানজট প্রায় সার্বক্ষণিক। এখানে কোনো ব্যবসা ভিত্তিক বহুতল ভবন হলে তীব্র যানজটে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে, দিশেহারা হবেন ধানমন্ডি- গ্রীণ রোডের বাসিন্দা ও সকল শ্রেণীর জনগণ। আমরা  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট এ প্রাকৃতিক পার্কটি রক্ষা করার আবেদন জানাই।

টিএস/বিএস