• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২০, ২০১৯, ০৭:৫০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ২০, ২০১৯, ০৮:৪০ পিএম

মাঝারি শৈত্যপ্রবাহেই নাকাল জনজীবন

বিশেষ প্রতিবেদন
মাঝারি শৈত্যপ্রবাহেই নাকাল জনজীবন
কম্বলমুড়ি দিয়ে সড়কে পাশে শুয়ে আছেন এক ছিন্নমূল- ছবি : কাশেম হারুন

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। কনকনে শীতে কাঁপছে সারাদেশ। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক, আকাশ ও নদীপথে চলাচল বিঘ্ন হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানায়, সারাদেশে বৃদ্ধি পেয়েছে তাপমাত্রা। দেশের উত্তর/উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মৃদু শৈত্য প্রবাহ থাকলেও দিন এবং রাতের তাপমাত্রা পার্থক্য কম থাকায় রাজধানীতে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে

লেখা এসএম মুন্না  ছবি কাশেম হারুন

শীতের প্রকোপ বাড়ায় ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ আছেন চরম ভোগান্তিতে।  ২১ ডিসেম্বর (শনিবার) পর্যন্ত রাজধানীতে এই শীতের প্রকোপ অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ আ ক ম নাজমুল হক বলেন, রোববার (২২ ডিসেম্বর) থেকে তাপমাত্রা আবার বাড়তে পারে।

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে ২৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার (শনিবার সকাল ৯টা) পূর্বাভাসে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাতের ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

রাজশাহী, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এটি অব্যাহত থাকতে পারে।

জবুথবু অবস্থা উত্তরাঞ্চল

শীতে জবুথবু অবস্থা উত্তরাঞ্চলে। এতে বিপাকে ছিন্নমূল মানুষ। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে।

শীত নিবারনে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন ৮জন।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী এবং দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের যশোর, চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শনিবার পর্যন্ত থাকতে পারে।

রোববার (২২ ডিসেম্বর) থেকে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পাবে। তবে স্থানভেদে কোথাও কোথাও শৈত্যপ্রবাহ থাকতে পারে। এর সঙ্গে শুকবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে কাল সকাল পর্যন্ত কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে।

ঘন কুয়াশায় যান চলাচল ব্যাহত

ঘন কুয়াশায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে উভয়পাড়ে আটকা পড়েছে দুই হাজারের বেশি যানবাহন।

টাঙ্গাইল হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঘন কুয়াশার কারণে বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাত থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলছিল। বঙ্গবন্ধু সেতুর টোলপ্লাজাও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকে।

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পাড় থেকে টাঙ্গাইলের রসুলপুর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে দুপুরের পর থেকে কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে যান চলাচল।

ঘন কুয়াশায় দুর্ঘটনা এড়াতে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় ঘাট কর্তৃপক্ষ। এতে রাত থেকেই উভয় পাড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার সকালে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল শুরু হলেও পাটুরিয়ায় যানবাহনের সারি আরও দীর্ঘ হয়। কাঁচামালবাহী ট্রাক নিয়ে বিপাকে পড়েন চালক ও শ্রমিকরা।

যানজট কমাতে কাজ করে যাচ্ছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষ। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে প্রতিদিন ১৬টি ফেরি চলাচল করে।

বিমান চলাচলও ব্যাহত 

ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকালে অভ্যন্তরীণ আকাশপথে পাঁচটি ফ্লাইট দেরিতে ছেড়েছে। তবে আন্তর্জাতিক আকাশপথের ফ্লাইটগুলো সময়মতো ঢাকা ছেড়েছে।

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকা-যশোরে নভোএয়ারের ফ্লাইটটি বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে, ইউএস-বাংলার যশোরে ৯টা ৪০ মিনিটের ফ্লাইটটি বেলা ১১টা ৪৪ মিনিটে, নভোএয়ারের ঢাকা-যশোরের সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের ফ্লাইটটি এক ঘণ্টা পর বেলা ১১টা ৫১ মিনিটে, নভোএয়ারের সৈয়দপুরে ৯টা ৫০ মিনিটের ফ্লাইটটি দুপুর ১২টা ৩৯ মিনিটে এবং ইউএস-বাংলার ঢাকা-সৈয়দপুরের ৯টা ৩০ মিনিটের ফ্লাইটটি বেলা ১টা ৪২ মিনিটে শাহজালাল বিমানবন্দর ছেড়ে যায়।

শীতবস্ত্র কেনার ধুম

শীত বাড়ার সাথে সাথে ধুম পড়েছে গরম কাপড় কেনাকাটার। রাজধানীসহ সারা দেশে ফুটপাত থেকে শুরু নামি-দামি শপিংমলে শীতবস্ত্র কেনার জন্য ভিড় করছেন বিভিন্ন পেশা-শ্রেণির মানুষ।

পোশাক বিক্রেতারা জানান, শীত বাড়ার কারণে তাদের বিক্রি -বাট্টা আগের তুলনায় বেড়েছে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলেন, শীত বাড়ার মওকায় বিক্রেতারা পোশাকের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

ছবি কাশেম হারুন 

এসএমএম

আরও পড়ুন