• ঢাকা
  • শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯, ১১:২৩ এএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯, ১১:২৪ এএম

যে কারণে ‘ঢাকা’ বিশ্বের শীর্ষ দূষিত বায়ুর শহর

এসএম মুন্না
যে কারণে ‘ঢাকা’ বিশ্বের শীর্ষ দূষিত বায়ুর শহর
বায়ূ দূষণের হাত থেকে এক নারীর বাঁচার চেষ্টা -ছবি : বিবিসি

প রি বে শ

● বিশ্বে প্রতি বছর ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু বায়ু দূষণে
● বাংলাদেশে মৃত্যু ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষের
● বায়ু দূষণ শুধু ঢাকাতেই নয়, সারা বাংলাদেশেই
● কমছে ৩০ মাস আয়ু 
● বিশ্বজুড়ে প্রতি ১০জনের মধ্যে ৯ জন দূষিত বায়ু গ্রহণ করে

ঢাকা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দূষিত বায়ুর শহর। কিন্তু এর পেছনে পুরো দায় এই নগরীর নয়। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০ থেকে ৩০ শতাংশ দূষিত বাতাস আসে অন্য দেশ থেকে। হিমালয়ে জমে থাকা অতিসূক্ষ্ম ধুলিকণা ধেয়ে আসে অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত। তাই দূষণকারী দেশগুলোর সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার পরামর্শ তাদের।

গত কয়েক বছর ঘুরে-ফিরে বিশ্বের সবেচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর তালিকায় ঢাকা। কিন্তু, এতো দূষণের সবটাই কি বাংলাদেশের নিজের?

২০ বছর ধরে বায়ু নিয়ে গবেষণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম। বেসরকারি টিভি চ্যানেলটোয়েন্টিফোরকে তিনি বলেন, এদেশের মোট বায়ু দূষণের ২০ থেকে ৩০ ভাগ আসে আশ-পাশের দেশগুলো থেকে। এর কারণ বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান।

স্যাটেলাইটের চলতি বছরের অক্টোবরের ছবি দেখলে দেখা যায় কিভাবে দূষিত বায়ু ধেয়ে আসে বাংলাদেশে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ভারত, চীন ও নেপাল থেকে দূষিত বায়ু ধেয়ে আসে বাংলাদেশে।

২০১৬ সালে ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া ও পরিবেশ অধিদফতরের নির্মল বায়ু প্রকল্পের যৌথ গবেষণায় বলা হয়, ‘‘শুষ্ক মৌসুম জুড়ে ঢাকা এবং সীমান্ত এলাকাগুলার বাতাসে অতিক্ষুদ্র ধুলিকণা থাকে বাংলাদেশের স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে অনেক বেশি।’’

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন বায়ু দূষণ সম্পর্কিত বিভিন্ন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে তারাও যেন এক্সটারনাল বায়ু দূষণ কমায় সে ব্যাপারে বাংলাদেশের একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও আলোচনার প্রয়োজন। এই পদ্ধতিতে আমরা ট্রান্সবাউন্ডারি বায় দূষণ কমাতে পারি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তঃসীমান্ত বায়ু দূষণ কমানোর কাজটা যেহেতু কঠিন, তাই অভ্যন্তরীণ দূষণ কমানোর দিকেই বেশি মনযোগী হতে হবে বাংলাদেশকে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু নির্দিষ্ট কোনও গ্রাম বা শহরই নয়, বায়ু দূষণের এই সমস্যা এখন সারা বাংলাদেশের।

স্টেট অফ গ্লোবাল এয়ার এর এক গবেষণা প্রতিবেদন বলা হয়, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বাসিন্দাদের ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ কোনও না কোনওভাবে বায়ু দূষণের মধ্যে বাস করছে। এসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মানুষ কোন দূষিত এলাকায় বাস করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়ু দূষণের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর মারা যাচ্ছে ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষ আর ভারত ও চীনে মারা গেছে ১২ লাখ মানুষ। ২০১৭ সালের হিসাবে প্রতি ১০জনের মধ্যে একজন বায়ু দূষণের কারণে মারা যাচ্ছে।

বায়ু দূষণের স্বীকার হয়ে যে ১০টি দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি মারা যাচ্ছে সেসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম।

যেসব বয়স্ক মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কম তারা সবচেয়ে বেশি বায়ু দূষণের ঝুঁকিতে আছেন। কারণ তারা প্রায়ই ঘরের বাইরে নানা ধরনের কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকেন

................................

সংস্থাটি বলছে, সড়ক দুর্ঘটনা বা ধুমপানের কারণে মৃত্যুর হারের তুলনায় ২০১৭ সালে বায়ুদূষণের ফলে বেশি মানুষ মারা গেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।

বায়ু দূষণের স্বীকার হয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় প্রতিটি শিশুর ৩০ মাস করে আয়ু কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি, যদিও উন্নত দেশগুলোয় এই হার গড়ে পাঁচ মাসের কম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় বায়ুতে ক্ষতিকর বস্তুকণার পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেয়া সীমার ১০ গুণের বেশি।

ঢাকার একজন বাসিন্দা এন এম শাহিন বলছেন, সবসময়ে ধোঁয়া, ধুলার ভেতর দিতে যাতায়াত করার কারণে তার মাঝে মাঝে শ্বাসকষ্ট হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি প্রজন্ম যদি দীর্ঘসময় বায়ু দূষণের মধ্যে কাটিয়ে দেয়, তার মারাত্মক প্রভাব পড়ে পরবর্তী প্রজন্মের ওপর।

বায়ু দূষণ নিয়ে গবেষণা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। তিনি বলছেন, গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলের দেশ হওয়ায় শীতের সময়ে হিমালয়ের পরের সব দূষণ এদিকে চলে আসে। কিন্তু তার সঙ্গে যোগ হয় আমাদের নিজেদের অনেক দূষণ। দূষণ রোধে কর্তৃপক্ষের জোরালো পদক্ষেপের অভাবে বায়ু দূষণের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে তিনি মনে করেন।তিনি বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠা, ঢাকার মতো বড় শহরের চারপাশে ইটভাটা, শহরের মধ্যে নানা কারখানা স্থাপন তো বায়ু দূষণের একটি কারণ। সেই সঙ্গে শহরের প্রচুর ধুলা এবং নির্মাণ কাজের বায়ু দূষণ হচ্ছে। ট্রাফিক জ্যামের কারণে গাড়িগুলো রাস্তায় অতিরিক্ত সময় ধরে চলছে, সেগুলো অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ করছে, এসবও বায়ু দূষণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলছেন, বায়ু দূষণের কারণে পরিবেশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে, সেই গরম ঠাণ্ডা করার জন্য মানুষ অতিরিক্ত এসি ব্যবহার করছে, আবার তাতে বায়ু দূষণ আরো বাড়ছে।

এক হিসেবে দেখা গেছে, বায়ু দূষণের কারণে প্রতি বছর ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। পৃথিবীর ৯১ শতাংশ মানুষ এমন জায়গায় বসবাস করে যেখানে বায়ু দূষণের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি। পৃথিবীর যে ২০টি শহর সবচেয়ে বেশি বায়ু দূষণের মধ্যে আছে তার মধ্যে ভারতের ১৪টি শহর রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের কানপুর শহর এ তালিকায় সবচেয়ে উপরে। বিশ্বজুড়ে প্রতি ১০জনের মধ্যে ৯ জন দূষিত বায়ু গ্রহণ করে।

গবেষকরা বলছেন, যেসব বয়স্ক মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কম তারা সবচেয়ে বেশি বায়ু দূষণের ঝুঁকিতে আছেন। কারণ তারা প্রায়ই ঘরের বাইরে নানা ধরনের কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকেন। 

এসএমএম

আরও পড়ুন