• ঢাকা
  • শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১, ০৭:৪২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১, ০১:৪২ পিএম

বুড়িগঙ্গা রক্ষায় নাগরিক সভা

বুড়িগঙ্গা রক্ষায় নাগরিক সভা

অর্থনীতি সচল রেখেই আমাদের পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। উন্নয়নের পাশাপাশি নদীকেও বাঁচিয়ে যাতে রাখা যায় আর পরিবেশও রক্ষা পায় এমন পরিকল্পনা করতে হবে। পরিবেশ একা রক্ষা করা যায় না। আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে বুড়িগঙ্গা রক্ষায়।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়ামের দূষণবিরোধী অ্যাডভোকেসি প্রকল্পের আয়োজনে বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষায় ‘বুড়িগঙ্গা নদী দূষণ ও প্রতিকার’ শিরোনামে এক নাগরিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। লালবাগের নবাবগঞ্জ পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিত নাগরিক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
 
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নাগরিক সভায় বক্তব্য রাখেন ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি’র পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান বাবুল, ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মকবুল হোসেন, ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোকাদ্দেস হোসেন জাহিদ, ২৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম বাবুল, ৫৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেনসহ আরও অনেকে। 

হুমায়ুন কবীর বলেন, বুড়িগঙ্গাকে আগের জায়গাতে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হলে ব্রিটিশ সময়ের সিএসএ রেকর্ড ধরে জমি মাপতে হবে। আদালতের রায় সঠিকভাবে মানলেই আমাদের বুড়িগঙ্গাকে তার পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। আমরা সারা দেশে নদী রক্ষার কাজ শুরু করবো আর এর শুরু হবে আমাদের এই বুড়িগঙ্গাকে রক্ষার আন্দোলনের মাধ্যমে। 

শরীফ জামিল বলেন, আমরা চাই না আমাদের অর্থনীতি ধ্বংস করতে ট্যানারি বন্ধ হোক। অর্থনীতি সচল রেখেই আমাদের পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। কারখানায় ইটিপি স্থাপন করে বর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে তা নিষ্কাশন করতে হবে, যাতে আমাদের উন্নয়নের পাশাপাশি নদীকেও বাঁচিয়ে রাখা যায় আর পরিবেশও রক্ষা পায়। 

অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান বলেন, সারা পৃথিবীতে খুব কম শহরই আছে যা নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত। প্রকৃতির অপার দান আমাদের ঢাকার চারপাশের নদীকে আমরা রক্ষা করতে পারছি না। পরিবেশ একা রক্ষা করা যায় না। আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে বুড়িগঙ্গা রক্ষায়।

ইলিয়াছুর রহমান বাবুল বলেন, আগে চান্দিঘাটে পানির পাম্প ছিল। সেটার মাধ্যমে আমরা বুড়িগঙ্গার পানি খেতাম। এখন পরিশোধন করেও এই বুড়িগঙ্গার পানি খাওয়া যোগ্য থাকে না। ট্যানারির হতে নির্গত ক্রোমিয়াম পানিতে মিশে পানি দূষিত করছে যা ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগ সৃষ্টি করছে। এ থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে।

জাহাঙ্গীর আলম বাবুল বলেন, পানি ধীরে ধীরে নিচে চলে যাচ্ছে। পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এই পানি হাতে-পায়ে লাগলে সেখানে ঘাঁ হয়ে যায়। বুড়িগঙ্গা আমাদের নদী। একে বাঁচানোর কাজে আমরা সম্পৃক্ত থাকতে চাই।

মো. হোসেন বলেন, সৎকর্ম কখনো বিফলে যায় না। দূষণবিরোধী যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আয়োজন চলছে সেটা দিয়েই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে মেসেজ গিয়েছে যে এটাকে পরিবর্তন করতে হবে। পরিবর্তনের জন্য এলাকার মানুষকে সচেতন করতে হবে।

জাগরণ/এমএইচ