• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০, ৮ মাঘ ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০১৯, ১২:৫৮ পিএম

পশ্চিমবঙ্গে বড়মার মৃত্যুতে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে  

ভাস্কর সেনগুপ্ত
পশ্চিমবঙ্গে বড়মার মৃত্যুতে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে  

চলে গেলেন পশ্চিমবঙ্গের মতুয়া সম্প্রদায়ের বড়মা বীণাপানি দেবী। মঙ্গলবার রাত ৯ টা নাগাদ কলকাতার এক সরকারি হাসপাতালে শতবর্ষ পেরোনো এই মহিয়সী মহিলার জীবনাবসান ঘটে। বয়সজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। 

বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে, সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বড়মার মৃত্যু একটা যুগের অবসানের সঙ্গে সঙ্গে একটা রাজনৈতিক প্রশ্নকেও সামনে এনে দিয়েছে। ইতিহাস বলছে, ২০১১ সালের আগে পশ্চিমবঙ্গে মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট পেয়েছে বামেরা। কিন্তু বামেদের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে মতুয়া ভোটও চলে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের ঝুলিতে। কিন্তু আগত লোকসভা ভোটেও সেটাই হবে, তা মনে করছে না রাজনৈতিক মহল।

পরিসংখ্যান বলছে, পশ্চিমবঙ্গে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রায় দেড় কোটি ভোট রয়েছে। রাজ্যের অন্তত ১০টি লোকসভা এবং ৬০-৭০টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটের ভাগ্য নির্ধারিত হয় মতুয়াদের ভোটে। এই বাস্তবতার কারণে মতুয়াদের ভোট কব্জা করতে সব দলই মরিয়া হয়ে ওঠে। এবার লোকসভা ভোটকে কেন্দ্র করে যেমন আস্তিন গুটিয়ে পথে নেমেছে তৃণমূল এবং বিজেপি, তেমনি মতুয়াদের মন পেতে ঠাকুরনগরে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছে রাজ্য সরকার।

বড়মাকে দেওয়া হয়েছে সরকারের সর্বোচ্চ সম্মান বঙ্গবিভূষণ। এদিনই কোচবিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে তাঁকে ডিলিট দেওয়ার কথা ছিল। কয়েকমাস আগে বড়মার শতবর্ষে  পা দেওয়ার অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি এদিন শেষকৃত্য অনুষ্ঠান দেখাশোনার জন্য রাজ্যের ৬ জন মন্ত্রী হাজির ছিলেন। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটের সভা করতে এসে সম্প্রতি বড়মার সঙ্গে দেখা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এই আবহে বড়মার পরিবার ভেঙ্গে দু-টুকরো. বীনাপানি দেবীর বড় ছেলে মারা গিয়েছেন পাঁচ বছর আগে। তাঁর স্ত্রী মমতাবালা দেবী বর্তমানে তৃণমূলের সাংসদ। অন্যাদিকে বড়মার ছোট ছেলে মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর ও তাঁর দুই ছেলে সুব্রত ও শান্তনু রয়েছেন বিজেপি শিবিরে। লোকসভা ভোটকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের ঝগড়া প্রকাশ্যে চলছিলই। বড়মার মৃত্যু হতেই তা তীব্র হয়েছে।

বিজেপি-কে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আজ কেউ কেউ হঠাৎ জুটেছেন। এত বছর বড়মার কোন খবর তাঁরা রাখেননি। পাল্টা মঞ্জুলকৃষ্ণের ছোট ছেলে গুরুতর অভিযোগ এনে বলেছেন, বড়মাকে ষড়যন্ত্র করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
          
আরআই