• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০১৯, ০৬:৫৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ২৬, ২০১৯, ০৮:৩৩ পিএম

ভোটের উত্তাপ নিয়ে পথে কেন্দ্রীয় বাহিনী

ভাস্কর সেনগুপ্ত
ভোটের উত্তাপ নিয়ে পথে কেন্দ্রীয় বাহিনী

আইন-শৃঙ্খলা জাতীয় কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনও জারি হয়নি। তবু কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় প্রথম দফার ভোট শুরুর ২৫দিন আগে থেকেই রুটমার্চ শুরু করে দিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরনে জলপাই রঙের পোশাক, হাতে অত্যাধুনিক রাইফেল নিয়ে এলাকায় এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর পদচারণায় রাজ্যে ভোট-যুদ্ধের পারদ চড়তে শুরু করেছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, এবারে রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ডিউটিতে থাকবে।

লোকসভা থেকে পঞ্চায়েত- সব নির্বাচনেই রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণ নতুন কোন ঘটনা নয়। অভিজ্ঞতা বলছে, যে কোনও ভোটের কয়েক দিন আগে রাজ্যে এসে পৌঁছয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোটপর্ব মিটলে তারা আবার ফিরে যায়। কিন্তু এবার ১১ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট শুরুর তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে ভোটের ডিউটিতে চলে এসেছে বাহিনী। শুক্রবার কলকাতা ও বিভিন্ন জেলায় আচমকা রাস্তায় বাহিনীর জওয়ানদের দেখে খুবই অবাক হয়েছেন পথচারীরা।

সন্দেহ নেই, এত আগে বাহিনী পাঠিয়ে নির্বাচন কমিশন বিরোধীদের অভিযোগকেই মান্যতা দিয়েছে। কিন্তু কেন? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের ভোটে শাসক দলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ প্রায় সব আমলেই শোনা গিয়েছে। কিন্তু ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচন অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। ভোটের মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে শুরু করে নির্বাচন পর্যন্ত কার্যত অবাধে সন্ত্রাস চালিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল। পঞ্চায়েত ভোট আগত কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বসিয়ে রাখার অভিযোগও উঠেছে। 

নির্বাচন কমিশন এবার এই পরিস্থিতির বদল চায়। রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে তাই নজিরবিহীনভাবে সাত দফায় ভোট হচ্ছে। যাতে বেশি সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী পাওয়া যায়। এবার কার্যত কেন্দ্রীয় বাহিনীর চাদরে রাজ্যকে মুড়িয়ে ফেলতে চাইছে কমিশন। এত আগে বাহিনীকে পাঠিয়ে দেওয়া তারই ইঙ্গিত।

কমিশনেই এই ভূমিকা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে শাসক দলের সঙ্গে বিরোধীদের চাপান-উতর অবশ্য তুঙ্গে উঠেছে. বিরোধীদের বক্তব্য, রাজ্যে ভোট হোক কেন্দ্রীয় বাহিনীর তত্ত্বাবধানে। রাজ্য পুলিশ থাকবে সহযোগীর ভূমিকায়। শাসক দল প্রত্যাশিতভাবেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর খবরদারি মানতে নারাজ। বাহিনীকে কীভাবে, কার নির্দেশে ব্যবহার করা হবে, তাই নিয়ে দু-পক্ষই সরব।

ইতিমধ্যে রাজ্যের প্রায় ৮০ হাজার বুথকে অতিরিক্ত স্পর্শকাতর হিসাবে ঘোষণার দাবি তুলেছে বিজেপি, কংগ্রেস ও সিপিএম। তাদের এই দাবিকে রাজ্যের পক্ষে অপমানজনক বলে অভিযোগ তুলে কলকাতায় ধরনায় বসেছে তৃণমূলের মহিলা সেল, আবার, ভোটে গণতন্ত্র ফেরাতে শহরে ধরনা শুরু করেছে রাজ্যের প্রাক্তন আইপিএস অফিসাররা।

সব মিলিয়ে একটা যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব। তৃণমূল প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করলেও বিজেপি ও কংগ্রেস এখনো কিছু করেনি। আর বামেরা আংশিক তালিকা দিয়েছে। ফলে সেইভাবে এখনও প্রচার তুঙ্গে ওঠেনি। কিন্তু রোজকার স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে বাহিনীর জওয়ানদের ভারী বুটের শব্দ আচমকা যেন পরিবেশটাই বদলে দিয়েছে! ভোট বড় বালাই।

আরআই