• ঢাকা
  • সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২০, ০৩:১৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ১৩, ২০২০, ০৩:২৭ পিএম

কোভিড-১৯

সতর্কভাবে এগোচ্ছে স্পেন সরকার

বকুল খান, স্পেন থেকে
সতর্কভাবে এগোচ্ছে স্পেন সরকার
প্রতীকী ছবি

অস্থির সময় পার করছে ইউরোপ দেশগুলো বিশেষ করে ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্স। ইতালির পর কোয়ারান্টাইনের পথে মাদ্রিদ তথা স্পেন।

আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ঘরমুখী হয়ে পড়ছে স্পেন। চারদিকে ভয় আর আতঙ্ক। প্রতিদিন এক দেশ থেকে আরেক দেশে ছড়িয়ে পড়ছে কোভিড-১৯। এরই মধ্যে সীমানা পেরিয়ে বিস্তার লাভ করেছে প্রায় ১২৪টি দেশে। গত সপ্তাহ থেকে পুরো ইতালি কোয়ারান্টাইনে আছে। খুব আতঙ্কিত না হলেও নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েই চলছে। ১১ মার্চ (বুধবার) থেকে মাদ্রিদের সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বয়স্ক কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

১৬ মার্চ (সোমবার) থেকে বন্ধ কাতালুনিয়ার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। মাদ্রিদে বন্ধ ঘোষণা হয়েছে মিনিসিপালটি অফিস। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালেই সুপারমার্কেট মার্কাডোন, কেয়ারিফোর থেকে খাদ্য এবং স্যানিটেরিজ সামগ্রী নিমেষেই শেষ হয় যায়।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মার্কাডোনার প্রেসিডেন্ট লুইস গ্রিক বলেন, ক্রেতাদের চাহিদা মেটানোর পর্যাপ্ত সুব্যবস্থা আছে তাদের।

পর্যটকদের আনাগোনা কমে গেছে। বাতিল হচ্ছে একের পর এক হোটেল এবং অবকাশ যাপন বুকিংও।

তবে উৎসবমুখর স্প্যানিশরা মনোবল শক্ত করে বিশ্বাস করছেন খুব দ্রুত তারা করোনাভাইরাসকে জয় করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।

স্পেনে নতুন আক্রান্তের সর্বশেষ সংখ্যা ২ হাজার ২০০। মারা গেছে ৫৫ জন। সংক্রামণের অর্ধেক ঘটনা মাদ্রিদের কমিউনিটিতে।

মাদ্রিদ ছাড়াও আক্রান্ত পাইসবাস্ক, লা রিওজা এবং কাতালুনিয়ার মানুষ।  সিউটা এবং মেলিলার মতো স্বায়ত্তশাসিত শহরগুলোতে এখনও রোগ নির্ণয় করা যায়নি। মাদ্রিদেই ১৫০ জন্য ছিল সপ্তাহখানেক আগে। এখন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে আক্রান্তদের সংখ্যা।

স্পেন সরকারের প্রেসিডেন্ট পেদ্রো সানজেস ঘোষণা দিয়েছেন এই মহামারি ঠেকাতে সবরকম প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।

বাংলাদেশি অধ্যুষিত লাভাপিয়েছ লোকাল হাসপাতালে দু’জন করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

বেশি পরিমাণে মাস্ক, হাইজেনিক, সেনিটাইজিন জেল কিনে আগাম সংগ্রহ রাখায় মাদ্রিদসহ অন্যান্য শহরে তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে এসব পণ্যের। যদিও পাবলিক প্লেস, মেট্রো, বাস, অফিস অহরহ কেউ মাস্ক পড়তে দেখা যায়না।

এশিয়াটিক চীন, জাপান, ফিলিপিন্সসহ চায়নিজ গড়নের লোকদের অনেককে মাস্ক পড়তে দেখা যাচ্ছে। তাদের দিকে অনেকের কৌতুহলি চাহনি থাকে, এরাই বুঝি আক্রান্ত। তবে হেলথ এক্সপার্ট বারবার সতর্ক বলছেন এই ভাইরাস বাতাসে ছড়ায় না, ছোঁয়াচে এবং আক্রান্ত মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসে সংক্রামিত হয় দ্রুত। তাই প্রথমেই হ্যান্ডশেক থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে এবং বারবার হাইজেনিক জেল কিংবা সাবান দিয়ে জীবাণু মুক্ত থাকতে হবে। 

৬০ এর অধিক শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিরাই বেশি ঝুঁকির মধ্যে আছেন বলে করোনাভাইরাস পর্যবেক্ষকদের অভিমত। এ ঘটনায় স্পেন প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যেও উৎকণ্ঠা এবং ভয় বিরাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও বাংলাদেশি প্রবাসী আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

চলবে...

এসএমএম