• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২০, ২২ আষাঢ় ১৪২৭
প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২০, ০৬:৪২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : মার্চ ১৪, ২০২০, ০৭:১৮ পিএম

সরেজমিন

কোভিড-১৯ আতঙ্কে ইতালি যেন মৃত্যুপুরী (ভিডিও)

রাজন হাজারী, মলফালকন (ইতালি) থেকে
জনশূন্য মলফালকন নগরী ● রাজন হাজারী

প্রবাসীর বর্ণনায় ইতালির করোনা পরিস্থিতি

.........

রোম থেকে তুরিন, ফ্লোরেন্স থেকে মলফালকন— মহামারি কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবে ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প আর প্রসাধনের দেশখ্যাত ইউরোপীয় রাষ্ট্র ইতালি যেন এখন এক মৃত্যুপুরী। সেখানকার জনাকীর্ণ নগরের রাস্তা-ঘাটগুলো এখন প্রাণহীন-জনশূন্য।

করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ আর আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন সেখানকার নাগরিক ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা। 

চীনের উহান শহর থেকে সারাবিশ্বের বুকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট মহামারি কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে বর্তমানে সবচেয়ে সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে ইতালি।

তথ্য মতে, ইতালিতে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ৬৬০ জনে পৌঁছেছে। এরইমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ২৬৩ জন।

সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে সেখানকার মানুষ। রোম, মিলান, ভেনিস, তুরিন, মলফালকন, ফ্লোরেন্সসহ প্রতিটি নগরীতে একই পরিস্থিতি। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে প্রতিটি জনাকীর্ণ কর্মস্থল। শুধু জনসাধারণের বিশেষ প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে খোলা রয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি সুপারমল আর লেনদেনের জন্য ব্যাংক বুথ। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ।

এক প্রবাসী বাঙালি জানান, আমার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। ২৪ মার্চ তার ডেলিভারি কথা থাকলেও এই পরিস্থিতিতে কীভাবে কি করণীয় তা নিয়ে বেশ বিচলিত তিনি।

মলফালকনে বসবাস করেন কয়েকটি বাংলাদেশি পরিবার। করোনা আক্রান্ত হওয়ায় ভয়ে তার কেউেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। তাদের কর্মস্থলও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সরকারের ঘোষণায়। 

মলফালকনের এক জনশূন্য সড়কে রাজন হাজারী

জনসাধারণের কথা চিন্তা করে প্রতিটি ক্ষেত্রেই যথাসম্ভব স্বাস্থ্যগত সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে ইতালি সরকার। সেই সঙ্গে ইতালিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশনের পক্ষ থেকেও প্রবাসীদের নিয়মিত খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। যে কোনও পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে আশ্বাস দিয়েছে হাই কমিশন।

প্রয়োজনী পদক্ষেপ ও নিয়মিত খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে প্রবাসীরা।

সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিটি সুপারশপে জনসাধারণের জন্যে পর্যাপ্ত সামগ্রীর মজুতও রয়েছে।

প্রবাসীদের মধ্যে অনেকেই দেশে ফিরতে চান। আবার কেউ কেউ বলছেন, আতঙ্কিত হবার কোনও কারণ নেই। তবে এই মুহূর্তে দেশে ফিরে যাওয়া মানে কোটি কোটি বাংলাদেশিকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। তাই এই সময়ে দেশে ফিরতে চাচ্ছেন না অনেকেই। যদিও বাংলাদেশে থাকা পরিবার-পরিজন খুবই উৎকণ্ঠিত। প্রবাসীদের বিশ্বাস, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে অবশ্যই বাংলাদেশ সরকার দেশে ফেরার ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।

বিশ্বের প্রায় ১৩৬ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে মহামারি কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব। সর্বশেষ তথ্য মতে, সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত  প্রায় দেড় লাখ মানুষ। মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ হাজার ৫৪৪ জন।

 

এসকে