• ঢাকা
  • সোমবার, ২৪ জুন, ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬
Bongosoft Ltd.
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪, ২০১৯, ০১:৩৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ১৪, ২০১৯, ০১:৩৯ পিএম

আজ পালপাড়ায় বেজায় ভিড়

মাহমুদুল আলম
আজ পালপাড়ায় বেজায় ভিড়
পালপাড়ায় ভিড়-ছবি : জাগরণ

‘একটা সাকিব দেন’- ফরমায়েস বুঝতে কয়েক সেকেন্ড সময় লেগে গেলো দোকানির। পরে ‘না’ সূচক মাথা নাড়তেই ক্রেতার বিকল্প চাহিদা, ‘তাহলে মাশরাফি’। এবার দোকানির আশ্বাস, ‘এখন পহেলা বৈশাখের বেচাকেনা। হপ্তাখানেক পর নতুন কালেকশন আসবে, তখন দেখি।’

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে সাড়ে পাঁচটার দিকে এভাবেই নিজের চাহিদার কথা প্রকাশ করতে দেখা যায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সমীরকে। রাজধানীর রায়ের বাজার পাল পাড়ায় মৃৎশিল্পসামগ্রীর এক দোকানে মায়ের সঙ্গে এসেছিল সে। মা এরইমধ্যে তার জন্য একটি সরস্বতী মূর্তি কিনেছে। পাশেই আরেক ক্রেতা আরবিতে ‘আল্লাহু’ লেখা একটি শোপিস নিলেন।

দোকানে কর্মরত শরাফত উল্লাহ বললেন, ‘কত কাস্টমার, কতরকম কত কী চায়!’ ফুলদানির মতো দেখতে মাটির তৈরি একটি সামগ্রী হাতে নিলেন তিনি। সামগ্রীটির চারপাশ ছাকনির মতো ছিদ্রময়। তিনি বললেন, ‘এটি আগরদানি। কে মন্দিরের জন্য নেয়, আর  কে মাজারের জন্য নেয়, জানি না।’

তিনি জানালেন, শিশুসামগ্রী মাটির তৈরি হাতি, ঘোড়া, পুতুল এগুলো সবাই কেনে। এখানে মুসলমান-হিন্দু ভেদাভেদ নেই। প্রায় সব জিনিস সবাই কেনে।

পহেলা বৈশাখ নববর্ষ এবং তার আগের দিন চৈত্রসংক্রান্তিকে সামনে রেখে পালপাড়ায় চৈত্রের মাঝামাঝি থেকেই ক্রেতা - দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। তবে এই ভিড় চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে আজ পহেলা বৈশাখ। শিশুসামগ্রীর পাশাপাশি কেউবা কিনছেন মাটির হাড়িপাতিলসহ তৈজসপত্র। আবার কেউ কিনছেন হয়ত ফুলের টব, টেরাকোটা, মাটির ব্যাংক বা অন্যকিছু।

অবশ্য আজ নববর্ষের দিনের ক্রেতাদের সঙ্গে গত কয়েক দিনের ক্রেতাদের পার্থক্য আছে। গত কয়েকদিনের মূল ক্রেতাদের অন্যতম ছিলেন যারা পহেলা বৈশাখ পান্তা-ইলিশ বা মৌসুমি ব্যবসায় করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদের জন্য।

শনিবারের মধ্যেই তাদের অনেকে মাটির বাসন ও খোড়া সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন। তাই ওই কয়েকদিন ক্রেতার সংখ্যা আজকের তুলনায় কম হলেও পাইকারি বিক্রি ছিল বেশ।

অবশ্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, আজকের ক্রেতা উপস্থিতির সঙ্গে সারাবছরের বেচাকেনার একটা সম্পর্ক আছে। বুঝিয়ে বললেন, উত্তম পাল। তিনিও একটি দোকানে কর্মরত। একটু দূরে একজনকে দেখিয়ে বললেন, ‘ধরেন ওই লোক ৩৫ টাকা দিয়ে তার হাতের মাটির ব্যাংকটি কিনলেন, আর কিচ্ছু না। কিন্তু দোকানে দেখলেন বড়টালি, ছোট টালি, বিভিন্ন ডিজাইনের টাইলস ইত্যাদি। তিন মাস পর হয়তো তিনি আবার আসবেন। নিজের বা আত্মীয়-স্বজন বা তার অফিসের জন্য হয়তো ৩৫ হাজার টাকার টাইলস বা টেরাকোটার পাইকারি অর্ডার দিয়ে গেলেন।

জানতে চাইলে রোববার (১৪ এপ্রিল) ৮২ নং সুলতানগঞ্জ, রায়ের বাজারের মৃৎ শিল্প বিতানের সত্বাধিকারী গোসাই দাস পাল বলেন, ‘আমরাতো পাইকারি বিক্রি করি। তাই খুচরা বিক্রেতেরা যা কেনার আগেই কিনে নিয়েছে। আজ মূলত তাদের বেচাকেনা। আমাদের ততটা না। তবে আমাদের বেচাকেনা আগামীকালও হবে। কারণ পঞ্জিকা অনুসারে আগামীকাল নববর্ষ। হিন্দুদের অনেকে সে হিসেবেই নববর্ষ পালন করবে।’

 ১১১, রায়ের বাজারের হাজী স্টোরের সত্বাধিকারী সাহাদাত উল্লাহ খান বলেন, বেচাকেনা ভালো নয়। গতবারের অর্ধেক। মনেহয় মানুষের কাছে টাকা-পয়সা নাই।

এমএ/এসএমএম

Space for Advertisement