• ঢাকা
  • সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২১, ০৩:৩৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ৫, ২০২১, ০৩:৩৮ পিএম

অকৃতজ্ঞ জাতি!

জয়দীপ দে শাপলু
অকৃতজ্ঞ জাতি!

দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত। যার নামে কলকাতায় দেশপ্রিয় পার্ক। যে নাম উচ্চারিত না হলে ভারতবর্ষের ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যায়। দুর্ভাগ্যবশত তাঁর জন্মটা চট্টগ্রামে।

আজ থেকে ১০০ বছর আগে এই নামে ভূভারত কাঁপত। চট্টগ্রামের শেষ কথাটা উনিই বলতেন। ছিলেন পাঁচ-পাঁঁচবার কলকাতার মেয়র। সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছিলেন। তাঁর নাম শুনলে ব্রিটিশ আইসিএস আইপিএস অফিসাররা ভয়ে সিঁটিয়ে যেত। চট্টগ্রামের ডিসি এসপির চাকরি চলে গিয়েছিল তাঁর আপিলের মুখে। চট্টগ্রামের এসপি লজ্জার হাত থেকে বাঁচতে সুইসাইড করেছিলেন। চা শ্রমিক, রেল শ্রমিকদের পাশে যখন কেউ ছিল না, তিনি ছিলেন। তীক্ষ্ণ যুক্তি দিয়ে ছাড়িয়ে আনতেন বিপ্লবীদের।

যে লোক লক্ষ লক্ষ টাকা কামাতেন ব্যারিস্টারি করে, দেশ সেবা করতে গিয়ে তিনিই কিনা ১৯৩৩ সালে জেলে মরেছেন বিনা চিকিৎসায়। উপার্জিত অর্থ উজাড় করে দিয়েছেন বিপ্লবীদের। কিছুই রেখে যান নি তাঁঁর উত্তরসূরীদের জন্য। বিদেশী স্ত্রী নেলী সেনগুপ্তও নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন বাংলার মানুষের জন্য। দেশভাগের পর নেলী সেনগুপ্ত ভারত চলে যাননি। এখানে থেকে চট্টগ্রামের মানুষের সেবা করেছেন। আন্দোলন সংগ্রামের পুরোভাগে ছিলেন। ১৯৭০ সালে চিকিৎসার জন্য কলকাতা গেলে পাকিস্তান সরকার তাদের বাড়িটি শত্রু সম্পত্তি ঘোষণা করে। ৭২ সালে তিনি ফিরে এলেও বাড়ি পাননি। তারপর থেকে তাদের বাড়ি ঘিরে দখলের খেলা চলছে। ৭৫ সালে বাড়িটি লিজ দেয়া হয়।

তাঁদের ত্যাগের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা দেখালাম আজ আমরা। সে বাড়িটার একাংশ আজ ভেঙ্গে ফেলা হল। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা বাধা না দিলে আজই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হত হয়তো। জমি চাই, স্মৃতি নয়।

আমি নিশ্চিত, যারা এ কাজটা করেছেন, তারা ইতিহাস পড়েন নি। পড়লে হাত কাঁপত। শ্রদ্ধায় একবার হলেও মাথা নত হত।

...

জেনে রাখা ভালো -

এ সেনগুপ্ত পরিবারের ভূমিতে অথবা উদ্যোগে জে এম সেন হল, জে এম সেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ডাক্তার খাস্তগীর বালিকা বিদ্যালয়, অপর্ণাচরণ বালিকা বিদ্যালয়, কুসুমকুমারী বালিকা বিদ্যালয়, ত্রাহিমেনকা সংগীত মহাবিদ্যালয়, বর্তমান শিশুবাগ স্কুল (যা জে এম সেনের বসতঘর), চট্টগ্রাম সংস্কৃতিক কলেজ, চন্দনাইশস্থ বরমা ত্রাহিমেনকা উচ্চ বিদ্যালয়, বরমা ডিগ্রি কলেজ, বরমা উন্নতমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরমা দাতব্য চিকিৎসালয়, ভারতের কলিকাতা ব্যারিস্টার যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত কলেজ, দুর্গাপুর ব্যারিস্টার যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা, সাংস্কৃতিক, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বুঝতেই পারছেন, চট্টগ্রাম শহর জুড়ে তাঁঁদের কীর্তি। একটা শহরকে আলোকিত করেছে একটি পরিবার।

জে এম সেন বা যাত্রামোহন সেন ছিলেন যতীন্দ্রমোহনের পিতা। ডা. খাস্তগীর তাঁর মাতামহ।

এতো বড় জমিদারদের উত্তরসূরীরা এখন দিন আনে দিন খায়। তাদের ভিটেমাটি নিয়ে সাত ভূতে কাড়াকাড়ি করে। দেশকে ভালোবাসার দারুণ প্রতিদান না?