• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০১৯, ০৯:৪৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ১৮, ২০১৯, ০৯:৪৯ পিএম

শিশুদের মাঝে জ্বরের প্রাদুর্ভাব, বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

জাগরণ প্রতিবেদক
শিশুদের মাঝে জ্বরের প্রাদুর্ভাব, বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুর যত্নে মা ; ছবি- ফাইল ফটো


টানা ২দিন প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত ছিল ফারিহা (৪)। চিকিৎসকের দেয়া সাধার‌ণ প্যারাসিটামল সেবনের ২ দিনের প্রান্তে জ্বর সেরে যায়। এর ঠিক ৩ দিনের প্রান্তে জ্বর উঠে আবার। কিন্তু এবারের জ্বরের তীব্রতা প্রথম দফার জ্বরের চেয়েও বেশি। বৃহস্পতিবার (১৮এপ্রিল) শিশু হাসপাতালে চিকিৎসায় ধরা পড়ে ফ্লু-এর প্রভাবে ফারিহার এই জ্বর।

ফারিহার বাবা আসলাম রহমান দৈনিক জাগরণকে বলেন, খুব ভয় পেয়ে গেছি। জ্বরে ওর চেতনা যায় যায় অবস্থা ছিল। আমার পরিচিত বহু শিশু এমন জ্বরের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেছে। বুঝে উঠতে পারছি না, শিশুদেরই এমন কেন হচ্ছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রাক্তন পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান দৈনিক জাগরণকে বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত কারণে এই অসুস্থতায় শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। এই মৌসুমে সাধারণত শিশু নানা ধরণের ফ্লু-তে আক্রান্ত হয়। তাছাড়া পানিবাহিত রোগ টাইফয়েডসহ বিভিন্ন রোগের কবলেও পড়ে যায় শিশুরা। বাংলাদেশে মে-জুন মাস পর্যন্ত ফ্লু এর প্রাদুর্ভাব থেকে যায়।

ঢাকা শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এর শিশু বিভাগসহ বিভিন্ন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারেও ফারিহার মতন জ্বরে আক্রান্ত শিশুর আগমন বেড়েছে। এসব শিশুদের কেউ ফ্লু, টাইফয়েড, জন্ডিস কেউবা ডেঙ্গুজ্বরেও আক্রান্ত। এর বাইরেও সাধারণ জ্বর আছে কোনো কোনো শিশুর।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন- দাবদাহের প্রভাবে শিশুরা যখন প্রচণ্ড তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠে, তখন এটা-সেটা মুখে দিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করার চেষ্টা করে বা অস্বাস্থ্যকর উৎস থেকে পানি পান করে ফেলে। এটা থেকে শিশুরা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। তাছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তি থেকেও কোনো কোনো সময় সংক্রমিত হয়ে পড়ে। কিছু শিশুর পরিবার অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন, তাদের বাসস্থানও অস্বাস্থ্যকর, খাবারেও সমস্যা থাকে, এসব থেকেও পানিবাহিত রোগের বীজ অনুপ্রবেশ করে শিশুর দেহে।

এছাড়া তীব্র গরম, রোদ থেকে শিশুর দেহ খনিজ লবণের শূন্যতায় আক্রান্ত হয়। যা থেকে দুর্বলতা, জ্বরসহ আরও কিছু অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ দৈনিক জাগরণকে বলেন, প্রাপ্ত বয়স্কদের মতন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শিশুদের তো নেই। সেজন্য শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের খুব সতর্ক ও যত্নশীল হতে হবে। তা কী খাচ্ছে, কোথায় ঘুমাচ্ছে, কী মুখে দিচ্ছে, হাত দিয়ে কী ধরছে- সবকিছু খেয়াল রাখতে হবে। তারা যেন তীব্র রোদে না যায়, বিশুদ্ধ পানি পান করে- এসব বিষয়ও দেখতে হবে।

কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের সাবেক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নাজমুল হাসান দৈনিক জাগরণকে বলেন, এ ধরণের জ্বরের ক্ষেত্রে অবশ্যই আবহাওয়ার প্রভাব আছে। এই দেখা যায় দুপুরে তীব্র রোদ। আবার ভোরের দিকে দেখা যায় ঠাণ্ডা। এসবের একটা প্রভাব পড়ে শিশুস্বাস্থ্যে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান জাগরণকে বলেন, গরমে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। পুরান খাবার গ্রহণ থেকেও শিশুরা পেটের অসুখসহ নানা অসুখে আক্রান্ত হতে পারে। কাজেই এ দিকে খেয়াল রাখা দরকার। তাছাড়া সার্বিকভাবে শিশুদের যত্নআত্তি সঠিকভাবে করা তো অবশ্যই প্রয়োজন।

ঢাকার কলাবাগানে ব্যক্তিগত চেম্বার ডা. মোজাম্মেলের। তিনি বলেন, গত ২ সপ্তাহ ধরে শিশু রোগী মানেই জ্বরের রোগী। একদিনে ১০জন রোগী দেখলে ৬-৭ জনেরই জ্বরের পাচ্ছি। তবে জ্বরের প্রভাবে মারাত্মক কিছু এখন পর্যন্ত পাইনি। বড়জোর টাইফয়েড পেয়েছি। এটাও সংখ্যায় কম।

আরএম/টিএফ