• ঢাকা
  • সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০১৯, ০৮:৪৩ এএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২, ২০১৯, ০৯:০৫ এএম

বিএসএমএমইউ

আদৌ কি চালু হবে সাধারণ জরুরি বিভাগ!

রিকু আমির
আদৌ কি চালু হবে সাধারণ জরুরি বিভাগ!
সাধারণ জরুরি বিভাগের জন্য নির্মিত টিকিট কাউন্টার-ছবি : রিকু আমির

বি শে ষ প্র তি বে দ ন

.............................................

শুধু আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে গেছেন ভিসিরা’

সব কিছু ঠিক-ঠাক শুধু উদ্বোধনের পালা। কিন্তু ‘উদ্বোধন হবে হবে বা এক মাসের মধ্যে হবে’— এমন আশ্বাসের মধ্যে কেটে গেছে গত কয়েকটি বছর। তারপরেও উদ্বোধনের উদ্যোগ নেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাধারণ জরুরি বিভাগের। সাম্প্রতিককাল ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ জরুরি বিভাগের স্থানে ‘ডেঙ্গু ওয়ার্ড’ চালু করা হয়েছে। এর ফলে আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়ে গেছে সাধারণ জরুরি বিভাগ উদ্বোধনের। কবে উদ্বোধন হবে বা চিকিৎসা সেবা চালু হবে সঠিক করে কেউ বলতে না পারছেন না। তবে বিএসএমএমইউতে হৃদরোগ, গাইনি ও অর্থোপেডিকস বিভাগে সীমিত পর্যায়ে জরুরি বিভাগ চালু রয়েছে।

২০১৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিএসএমএমইউ’র কেবিন ব্লকের নিচতলায় জরুরি বিভাগের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান খান। তারপরেই ভিসি হন অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া। কামরুল হাসান খান ভিসি থাকাবস্থায় একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছেন সাধারণ জরুরি বিভাগ এক মাসের মধ্যে বা খুব দ্রুত চালু হবে। কিন্তু তা আর হয়নি তার আমলে। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়াও সাবেক উপাচার্য কামরুল হাসান খানের মতো আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সে আশ্বাসের কোনও বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। 

২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রাক্তন ভিসি অধ্যাপক কামরুল হাসান খান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল্টন হলে অনুষ্ঠিত সার্জারি অনুষদের রেসিডেন্সি অনুষ্ঠানে জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘রোগীদের সুবিধার্থে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) এক মাসের মধ্যে সাধারণ জরুরি বিভাগ চালু করা হবে।

চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল (সোমবার) বিএসএমএমইউর ডা. মিল্টন হলে ২২তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান ভিসি অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়াও জোর দিয়েই বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর বিএসএমএমইউ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ চালু হবে। গত ২৯ জুনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি একই কথা বলেছিলেন গণমাধ্যমের কাছে। ব্যক্তিপর্যায়েও সাংবাদিকদের কাছে এক মাসের মধ্যে জরুরি বিভাগ উদ্বোধনের কথা বলেছিলেন কামরুল হাসান খান ও কনক কান্তি বড়ুয়া।

তবে সূত্র বলছে, জরুরি বিভাগ চালু করা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনও ভিসিই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। শুধু আশ্বাসের মধ্যেই আছেন তারা। কথা ছিল প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্তের আমলেই জরুরি বিভাগ চালু করা হবে। কিন্তু তিনি কয়েকটি বিভাগে সীমিত আকারে জরুরি বিভাগ চালু করে দায়মুক্ত হয়ে চলে গেলেন। তারপর কামরুল হাসান উপাচার্য হয়ে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ছাড়া আর কিছু করতে পারেননি। তার সময়কালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তাদের মধ্যে রেষারেষি প্রকট আকার ধারণ করে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে জরুরি বিভাগ চালুসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে।

জরুরি বিভাগের স্থানে বর্তমানে চালু রয়েছে ডেঙ্গু ওয়ার্ড- ছবি : রিকু আমির

২০১৮ সালের ২৪ মার্চ তিনবছরের জন্য ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান বর্তমান ভিসি কনক কান্তি বড়ুয়া। তিনি এখন পর্যন্ত পারেন নি উদ্বোধনের ব্যবস্থা করতে। তার মেয়াদ আছে আর সাত মাস। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  এই স্বল্প সময়ের কোনোভাবেই সম্ভব নয় জরুরি বিভাগ উদ্বোধনের। তার ওপর জরুরি বিভাগের স্থানে বর্তমানে চালু রয়েছে ডেঙ্গু ওয়ার্ড। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপ-উপাচার্য দৈনিক জাগরণকে বলেন, মাঝখানে নার্সের ঘাটতি ছিল, বর্তমানে সেটা নেই। জরুরি বিভাগের জন্য আমদানি করা যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে ঠিকাদাররা সমস্যা করেছিল। সেটাও সমাধান হয়েছে। তারপরও যে কেন জরুরি বিভাগ উদ্বোধন আটকে রাখা হয়েছে, সেটা ভিসিই ভালো জানেন। আদৌ কি সহসা উদ্বোধন হবে সাধারণ জরুরি বিভাগে— এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রোগী থেকে শুরু করে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে।

মন্তব্যের জন্য নানা মাধ্যমে একাধিকবার ভিসি অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলেও, তিনি ব্যস্ততার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। সরাসরি সাক্ষাৎ চেয়েও সময় পাওয়া যায়নি। 

আরএম/এসএমএম

আরও পড়ুন

Islami Bank