• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯, ০৯:২০ এএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯, ০৯:২০ এএম

এডিস মশার দাপট : জিকা ভাইরাসের ভয়াবহ ঝুঁকি বাংলাদেশে

রিকু আমির
এডিস মশার দাপট : জিকা ভাইরাসের ভয়াবহ ঝুঁকি বাংলাদেশে
জিকা ভাইরাস বনকারী এডিস মশা

চলতি বছর ঢাকাসহ সারাদেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরের ব্যাপকতা সৃষ্টি হওয়ায় জিকা ভাইরাসের ঝুঁকি বাংলাদেশে বেড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কেননা, এই এডিস মশা-ই জিকা ভাইরাসের বাহক। তাছাড়া প্রতিবেশি দেশ ভারতেও পাওয়া গেছে জিকার অস্তিত্ব।

মানবদেহে সংক্রমিত জিকা শনাক্ত করার ব্যবস্থা দেশের হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নেই। শুধুমাত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তরাধীন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে জিকা শনাক্তের ব্যবস্থা আছে। ডেঙ্গুর ব্যাপকতা সৃষ্টির পর তা নিয়ে সরকার যতটা সতর্ক, সে ধরণের সতর্কতা কী জিকা নিয়ে আছে? সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে- জিকা নিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেই।

ব্রাজিলে জিকার ব্যাপক প্রাদুর্ভাবকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা জনস্বাস্থ্য বিষয়ক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছিল। ভারতেও জিকার অস্তিত্ব পেয়েছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা পর্যন্ত। সে হিসেবে বাংলাদেশও রয়েছে জিকার ঝুঁকিতে।

কয়েক বছর আগে সিলেটে জিকা ভাইরাসের নমুনা পাওয়া গিয়েছিলো। তখন ব্রাজিলে জিকার প্রার্দুভাব চলছিল। সিলেটে পাওয়ার পর বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বিমানবন্দর, নৌ-বন্দর, স্থলবন্দরসহ বৈদেশিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোয় কড়া নজরদারির আওতায় আনে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, দেশের শহর-গ্রামগুলোয় এডিস মশার ঘনত্ব বেড়ে গেছে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার সঙ্গে এই ভাইরাস বাংলাদেশে চলে আসলে ভয়ংকর আকার ধারণ করতে পারে। প্রতিবেশি দেশ নেপাল, ভারত ও মিয়ানমারে জিকা পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ বড় ঝুঁকিতে থাকবে।

জিকা ভাইরাসের আদ্যপান্ত

জিকা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়েছিল উগান্ডায় ১৯৪৭ সালে। এটি পাওয়া যায় এক প্রজাতির বানরের দেহে। ১৯৫৪ সালে মানবদেহে প্রথম শনাক্ত হয়েছিল নাইজেরিয়ায়। এরপর আফ্রিকা সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের কিছু দ্বীপে এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেখা দেয়। এর বড় প্রাদুর্ভাব হয়েছে ২০১৫ সালে ব্রাজিলে। এর লক্ষণগুলো হল হালকা জ্বর, চোখে ব্যথা ও লালচে রঙ, মাথা ব্যথা, গিঁটে গিঁটে ব্যথা এবং শরীরে র‍্যাশ। কিন্তু ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে- মশাবাহিত জিকা ভাইরাস অনেক ভয়ানক।

এর ফলে স্নায়ু বিকল হয়ে যেতে পারে যাতে অস্থায়ী পক্ষাঘাত দেখা দিতে পারে। আরও ভয়াবহ হলো- গর্ভবতী নারী এতে আক্রান্ত হলে গর্ভের শিশু মাইক্রোসেফালিতে আক্রান্ত হতে পারেন। এতে শিশুর মস্তিষ্ক সঠিক আকারের হয় না। এমন শিশুদের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ২০১৫ ও ২০১৬  সালের দিকে ব্রাজিলে কয়েক হাজার শিশু এমন সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং রোগতত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রাক্তন পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান দৈনিক জাগরণকে বলেন, প্রতিবেশি দেশ ভারতে জিকার অস্তিত্ব মেলায় আমাদের বড় ধরণের ঝুঁকিই রয়েছে। সাবধান থাকা উচিৎ। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে আনা খুবই জরুরি। যদি একবার জিকার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ে, সেটা হবে ভয়াবহ।

জিকা মোকাবিলায় সরকারের কী পদক্ষেপ আছে, জানার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করায় যোগাযোগ করা যায়নি।

রোগতত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা কেন্দ্রের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।

তবে আইইডিসিআরের একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, কোথাও জিকা হচ্ছে কি-না, এ বিষয়ে নিয়মিত মনিটরিং করা ছাড়া জিকা নিয়ে সরকারের আর কোনো কার্যক্রম চলমান নেই।

আরএম/বিএস 

আরও পড়ুন