• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯, ০৩:৩৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯, ০৩:৩৩ পিএম

৫০ বছরের পুরান মৌলিক গবেষণা

বিজ্ঞানী ডেভিড বি সাকার পেলেন গোল্ডেন গুজ পুরষ্কার

জাগরণ প্রতিবেদক
বিজ্ঞানী ডেভিড বি সাকার পেলেন গোল্ডেন গুজ পুরষ্কার
ডান দিক পুরষ্কার হাতে ডেভিড বি সাকার- ছবি: জাগরণ।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এর প্রাক্তন বিজ্ঞানী ডেভিড বি সাকার ‘গোল্ডেন গুজ ২০১৯’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আইসিডিডিআর,বি থেকে পাঠানো বার্তায় বলা হয়- গত ১০ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে অবস্থিত লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে আমেরিকান এসোসিয়েশন ফর দ্য এডভান্সমেন্ট অব সায়েন্স এর অনুষ্ঠানে ওই পুরস্কারে ভূষিত করা হয় ডেভিডকে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুদানে মানুষের জীবনে ও সামাজিক প্রয়োজনে সম্পাদিত যুগান্তকারী বিজ্ঞানভিত্তিক অগ্রগতি সাধনে মৌলিক গবেষণাগুলোকে প্রতিবছর এই পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য বিবেচনা করা হয়। অধ্যাপক সাকার এই পুরস্কার পেয়েছেন ঢাকায় (সেসময়কার পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকায়) সম্পাদিত তার পঞ্চাশ বছরেরও পুরোনো মৌলিক গবেষণা ’ব্যাঙের ত্বক যা ৫ কোটিরও অধিক জীবন রক্ষা করেছে’-এর জন্য। এই গবেষণাই পরবর্তীতে ড. ডেভিড নেলিন এবং ড. রিচার্ড এ ক্যাশ-এর খাবার স্যালাইন (ওরাল রিহাইড্রেশন থেরাপি) আবিষ্কারকে সম্ভবপর করেছে।

ষাটের দশকে সদ্য হার্ভার্ড থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসাবিদ ও আন্ত্রিক (ইন্টেস্টাইন) মেকানিজম গবেষক ডেভিড সাকার পূর্ব পাকিস্তানের কলেরা রিসার্চ ল্যাবরেটরি (বর্তমানে আইসিডিডিআর,বি)-তে যোগদান করেন। যেটি আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি)-এর সহায়তায় পরিচালিত হতো। যখন তার অনেক হার্ভার্ড সহপাঠীরা গতানুগতিক ধারায় আমেরিকার বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় গবেষণাগারে যোগদান করেন, তখন ডেভিড সাকার বেছে নিয়েছিলেন ভিন্ন পথ।

অধ্যাপক সাকার বলেন, আমি দেশের সেবা ও একই সাথে বিশ্ববাসীকে সেবা দানে, এবং জনস্বাস্থ্য সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে উদগ্রীব ছিলাম।

১৯৬৬ সালে অধ্যাপক সাকার কোপেনহেগেনে প্রশিক্ষণ গ্রহণকালে অধ্যাপক হ্যান্স আসিংসের গবেষণাগারে ব্যাঙের ত্বকে ইলেকট্রিক পটেনশিয়াল নির্ণয় করার উপায় বের করেন। যেটি পরবর্তীতে মানুষের অন্ত্রে ইলেকট্রিক পটেনশিয়াল নির্ণয় করার একটি সহজ সমাধান বের করতে সহায়তা করে। তিনি কলেরায় আক্রান্ত মানুষের আক্রান্ত থাকা সময়ে অন্ত্রে সোডিয়াম পরিবহনের কার্যক্রম পরীক্ষায় এটি ব্যবহার করেন। প্রফেসর সাকার দেখিয়েছিলেন, তৎকালীন ধারণকৃত কলেরার কারণে সোডিয়াম পাম্প অকার্যকর হয়ে পরার তত্ত্ব ভুল, আক্রান্ত থাকা সময়টুকুতেও অন্ত্রের সোডিয়াম গ্রহণের মাত্রা ঠিক থাকে। শুধু তাই নয় ইন্টেস্টাইনের লুমেনে গ্লুকোজ পৌঁছানো গেলে সোডিয়াম শোষণের মাত্রাকে প্রবলভাবে উদ্দীপ্ত করা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় অধ্যাপক সাকারের সিনিয়র সহকর্মী নর্বার্ট হারস্বর্ন একটি যুগান্তকারী ক্লিনিক্যাল গবেষণা করেন। তিনি দেখান, গ্লুকোজ এবং ইলেক্ট্রোলাইটিস এর মিশ্রণ প্রয়োগের মাধ্যমে কলেরা রোগীর প্রচলিত চিকিৎসা শিরায় স্যালাইনের ব্যবহার কমানো যায় এবং এর ব্যবহার না করেও চিকিৎসা প্রদান সম্ভব। এর দুই বছরের মাথায় ড. ডেভিড নেলিন এবং ড. রিচার্ড এ ক্যাশ চিনি ও ইলেক্ট্রোলাইটিস ভিত্তিক খাবার স্যালাইনের আবিষ্কার করেন।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সহজলভ্যতা ও সুলভ মূল্যের কারণে গত পাঁচ দশকে খাবার স্যালাইন ৫ কোটিরও বেশি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে।

আইসিডিডিআর,বি-র নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক জন ডি ক্লিমেন্স নিজের বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মজীবন কলেরার টিকার উন্নয়ন, মূল্যায়ন এবং প্রচলনে উৎসর্গ করেছেন। তিনি অধ্যাপক সাকারের বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এই আবিষ্কার নিয়ে বলেন, খাবার স্যালাইনের আবিষ্কারের পেছনে অধ্যাপক ডেভিড সাকারের গবেষণা অনবদ্য অবদান রেখেছে। যদিও ৫৩ বছর পরে এই গবেষণার স্বীকৃতি এসেছে তবুও আইসিডিডিআর,বি এর সাফল্যের মুকুটে আরেকটি পালক যুক্ত হলো।

আরএম/টিএফ


 

আরও পড়ুন