• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০১৯, ০৭:১২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ২৪, ২০১৯, ০৭:১৪ পিএম

দেশের সব উপজেলায় অ্যান্টি-ভেনম দেয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাগরণ প্রতিবেদক
দেশের সব উপজেলায় অ্যান্টি-ভেনম দেয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক -ছবি : জাগরণ

সাপের কামড় থেকে আরোগ্য লাভে খুব দ্রুত দেশের সব উপজেলা হাসপাতালে অ্যান্টি-ভেনম দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রূপসী বাংলা বলরুমে নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম আয়োজিত সর্প দংশন বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী তিনি এ কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতি বছর ৬-৭ হাজার মানুষ সাপের কামড়ে মারা যাচ্ছে। সে হিসেবে প্রতিদিন সাপের কামড়ে গড়ে অন্তত ১৬ জন মানুষের মৃত্যু ঘটে। হিসাব অনুযায়ী সর্প দংশনে প্রতি দেড় ঘণ্টায় ১ জন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। বর্তমানে দেশের সব জেলা শহরের হাসপাতালে অ্যান্টি-ভেনম দেয়া হচ্ছে। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে এখনো সব জায়গায় অ্যান্টি-ভেনমের অভাব রয়েছে। এ কারণে খুব দ্রুত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের সব উপজেলা হাসপাতালে অ্যান্টি-ভেনম দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম এর লাইন ডাইরেক্টর ডা. নূর মোহাম্মদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশের অ্যান্টি-ভেনম আনা হয় ভারত থেকে। কিন্তু ভারতের সাপের ধরন বাংলাদেশের সাপের ধরন থেকে কিছুটা ভিন্নতর লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ কারণে এখন থেকে আমাদের দেশের সাপের ধরনের কথা ভেবে দেশের অ্যান্টি-ভেনম উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে।

উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রথমবারের মত Snakebite Envenoming: A Strategy for Prevention and Control প্রণয়ন করে ৪টি কর্মকৌশলের মাধ্যমে তিন ধাপে ২০৩০ সাল নাগাদ শতকরা ৫০ ভাগ মৃত্যু ও অক্ষমতার কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কমিউনিটিকে ক্ষমতায়ন ও নিয়োগ করা, কার্যকর নিরাপদ চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে অধিকতর সফল করা, অংশীদারিত্ব, সমন্বয় ও সংস্থান বৃদ্ধি করা।

সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এন্টি-ভেনম তৈরির প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ‘ভেনম রিসার্স সেন্টার’ প্রতিষ্ঠিত হয়। সেন্টারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত নিয়মে বিষধর সর্পদংশনের চিকিৎসার জন্য দেশের প্রধান বিষধর সাপের বিষ সংগ্রহ করে এন্টি-ভেনম তৈরি আবশ্যিক বিবেচনা করে, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষধর সাপ সংগ্রহ করে বিজ্ঞানভিত্তিক সংরক্ষণ, লালন-পালন, বিষ সংগ্রহ, ভেনম-এন্টিভেনমের বিভিন্নমুখী আবশ্যিক পরীক্ষা ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে এন্টি-ভেনম তৈরিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে সর্পদংশনে একটিও অকাল মৃত্যু যেন না হয় তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করণে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা প্রণীত কৌশলপত্রের আলোকে জরুরিভাবে বাংলাদেশে সর্পদংশনের কৌশলপত্র ও অর্থের ব্যবস্থাসহ সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উপর অতিথি ও বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার রিজিওনাল অ্যাডভাইজার ডা. অপর্ণা শাহ, কর্মকৌশল উপস্থাপনা করেন ও  ‘ভেনম রিসার্স সেন্টার’ এর কর্মকাণ্ড উপস্থাপন করেন ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন সেক্টরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এনায়েত হোসেন ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম. এ. ফয়েজ উপস্থিত ছিলেন।

আরএ/একেএস

আরও পড়ুন