• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৭ আগস্ট, ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯, ১০:১৪ এএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯, ১০:১৪ এএম

ঢাকায় বায়ূ দূষণ : ক্ষয়ে যাচ্ছে শ্বাসতন্ত্র

রিকু আমির
ঢাকায় বায়ূ দূষণ : ক্ষয়ে যাচ্ছে শ্বাসতন্ত্র

বায়ুদূষণের প্রভাবে দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে অ্যাজমা, শ্বাসতন্ত্রে জটিল সংক্রমণ (সিওপিডি) ও অ্যাকিউট রেসপারেটরি ইনফেকশন (এআরআই) সহ শ্বাসতন্ত্রের নানা ধরণের সমস্যা। গত ৫ বছরে ধুলাবালিজনিত দূষণের কারণে অ্যাজমায় আক্রান্তের হার বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার বেড়েছে ১০ শতাংশের বেশি। একই সময়ে সিওপিডিতে আক্রান্তের হার বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার বেড়েছে ১৯ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার জানান, ২০১৫ সালে বিভিন্ন ধরনের অ্যাজমায় সারা দেশে আক্রান্ত হন ৩৩২৬ জন, মৃত্যু হয় ৫৬ জনের। ২০১৬ সালে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২২ হাজার ৮৩ জন এবং ১০৯ জন, ২০১৭ সালে আক্রান্ত ছিল ৬৩ হাজার ৬০৮ জন এবং মৃত্যু ৩২৮ জনের, ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৭ হাজার ৭২২ জন এবং মৃত্যু ৬১৪ জন।

এ বছর এখন পর্যন্ত আক্রান্ত রোগী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৮০৬ জনে এবং মৃত্যু হয়েছে ৫৮৮ জনের। 

অন্যদিকে, ২০১৫ সালে সিওপিডিতে আক্রান্ত হন মাত্র ১৬১০ জন এবং মৃত্যু হয় ৩১ জনের। ২০১৬ সালে আক্রান্ত ৮৮০৪ জন এবং মৃত্যু ২০৬ জন। ২০১৭ সালে আক্রান্ত ৩২ হাজার ৪০৮ জন এবং মৃত্যু ৬৮৫ জন। ২০১৮ সালে আক্রান্ত ৭৭ হাজার ৭২২ জন এবং মৃত্যু ৬১৪ জন।

এ বছর এখন পর্যন্ত সিওপিডিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৮০৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫৮৮ জনের।

মহাখালীতে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটে কথা হচ্ছিল গৃহিনী ফারহানার সাথীর সাথে। তিনি বলেন, ইদানিং শ্বাসকষ্ট এতো বেড়েছে, বলার বাইরে। প্রতিদিন বাচ্চাদের স্কুলে আনা-নেয়া করি, হাট-বাজারে যাই আর সারাদিন তো বাসাতেই। এরপরেও এই অবস্থা। মাস্ক ব্যবহার করেও টিকতে পারি না। ডাক্তার বলেছে আমার নাকি অ্যাজমা হয়ে গেছে।

শুধু ফারহানাই নন, এ ইনস্টিটিউটে এমন বহু রোগীর আগমন ঘটছে, যারা ঢাকার বাসিন্দা এবং নতুন করে শ্বাসতন্ত্রের নানা জটিলতার শিকার হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও অসংক্রামক ব্যাধি শাখার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক এনায়েত হোসেন জানান, রোগীর চিকিৎসা প্রদান আমাদের কাজ। কিন্তু দেশের সামগ্রিক পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে প্রয়োজন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগ। বায় দূষণের বিষয়ে আমরা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ূদুষণজনিত কারণে মানুষের শ্বাসনালীগুলো অনেক সংকুচিত হয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করে। এ পর্যায়কে সিওপিডি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এআরআই হল শ্বাসযন্ত্রের ইনফেকশন। এগুলো থেকে হতে পারে ফুসফুস ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আব্দুল মতিন বলেন, বায়ূদূষণ ঢাকার পুরাতন সমস্যা। এটা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ কখনই নেয়া হয় না। গাড়ির কালো ধোঁয়া, সনাতনী ইটভাটা, উন্নয়ন কাজের নামে অপরিকল্পিতভাবে সারা বছর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, ভবন নির্মাণ সামগ্রী- এসবের উপর যদি কড়াকড়ি নজর না দেয়া হয়, কখনই ঢাকার বায়ূ দূষণমুক্ত হবে না। পরিবেশ অধিদফতরকে এ নিয়ে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করা উচিত। এসব নিয়ে আমরা বহু সভা, মানববন্ধন করেছি।

আরএম/বিএস