• ঢাকা
  • বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২০, ০১:৩৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২০, ০৩:৪২ পিএম

করোনাভাইরাস

তালাবদ্ধ চীনের আরও এক শহর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তালাবদ্ধ চীনের আরও এক শহর
চীনের মোট ১৯টি শহর এখন ‘তালাবন্ধ’ ● সংগৃহীত (আনন্দবাজার)

আরও একটি শহরকে তালাবন্ধ করল চীন। করোনাভাইরাসের উৎসস্থল উহান থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জেঝিয়াং প্রদেশের ওয়েংঝউ শহরকে এবার তালাবন্ধ করেছে চীন। এই নিয়ে চীনের মোট ১৯টি শহর এখন ‘তালাবন্ধ’। সব মিলিয়ে ‘আটক’ অন্তত ৬ কোটি বাসিন্দা। পরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়ে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে ওই শহরগুলোর। ঠিক যেন ‘জরুরি অবস্থা’ জারি হয়েছে চীনে।

উহানের পর চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে, ওয়েংঝউ শহরেই। জেঝিয়াং প্রদেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬১ জন। তার মধ্যে এই ওয়েংঝউ শহরেই আক্রান্ত হয়েছেন ২৬৫ জন। সে কারণেই এই শহরকেও তালাবন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন সরকার।

একটি পরিবারের যে কোনও একজন সদস্য প্রতি দু’দিন অন্তর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য শহরের বাইরে বেরুতে পারবেন। এমনই নির্দেশ দিয়েছে সরকার। আগেই অবশ্য শহরের প্রতিটি পাবলিক প্লেস যেমন- সিনেমা হল, মিউজিয়াম বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। ৯০ লাখ মানুষের বাস এই শহরে। তালাবন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

কিন্তু এত সব করেও মৃত্যুমিছিল থামছে না। রোবারই অন্তত ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এই ভাইরাসের হানায়। ফলে চীনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬০। তেমনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এই মুহূর্তে যা প্রায় ১৬ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। ২০০২-০৩ সালে চীন ‘সার্স’-এর ভয়াবহতা দেখেছে। ওই সময় চীনের মূল ভূখণ্ডে ৩৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তার পর ফের এমন এক ভয়ঙ্কর ভাইরাসের হানা। এই ভাইরাস ক্রমশ চীন ছাড়িয়ে অন্যদেশে পাড়ি দিয়েছে। ভারত, ইংল্যান্ড সহ বিশ্বের ২৫টি দেশে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ফিলিপিন্সে এক আক্রান্তের মৃত্যুর খবর মিলেছে।

রোগের উৎস বলে সন্দেহ করা হচ্ছে সি-ফুড ও মাছ-মাংসের বাজারকে। অভিযোগ বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণির মাংস বেআইনিভাবে বিক্রি করা হতো এই সব বাজারে। সবচেয়ে বেশি সন্দেহ, কালাচ ও কোবরা থেকে নোভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে। বিশ্বজুড়েই ভাইরাসকে রোধের গবেষণা চলছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিশ্বের কোনও প্রান্তের চিকিৎসকেরাই কোনও প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারেননি। তবে ব্যাংককের রাজাভিথি হাসপাতালের চিকিৎসকরা দাবি করেছেন, তারা ইনফ্লুয়েঞ্জা ও এইচআইভির ওষুধ একসঙ্গে মিশিয়ে তা দিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত চীনের বয়স্ক এক ব্যক্তির চিকিৎসা করেছেন এবং এতে তার অবস্থার নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসা দেয়ার ৪৮ ঘণ্টা পর ওই ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি।

এসএমএম

আরও পড়ুন