• ঢাকা
  • শনিবার, ০৬ জুন, ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২০, ০৩:২০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ৮, ২০২০, ০৩:৪১ পিএম

কোভিড-১৯

সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে ঢাকা

এসএম মুন্না
সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে ঢাকা
ঢাকা শহর ● সংগৃহীত

দেশে ক্রমেই বাড়ছে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী সংখ্যা। সে সঙ্গে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ঢাকা।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন যে ৫৪ জন শনাক্ত হয়েছে তার মধ্যে ৩৯ জনই ঢাকার অধিবাসী। এমতাবস্থায় সংক্রমণ রোধে ঢাকা শহরের ৫০টির বেশি এলাকার রাস্তার ও বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। 

গত ৮ মার্চ প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের এক মাসের মাথায় এসে বুধবার (৮ এপ্রিল) পর্যন্ত দেশে মোট ২১৮ জন এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২৩ জনই রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

ফলে কোনও এলাকায় রোগী শনাক্ত হলেই ওই এলাকা লকডডাউন করছে পুলিশ।

বুধবার (৮ এপ্রিল) অন্যান্য দিনের তুলনায় ঢাকা শহরের রাস্তা অনেকটাই ফাঁকা। তবে অনেকেই বের হয়েছেন রাস্তায়। জরুরি কাজ যাদের রয়েছেন তাদের চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে পুলিশ।

যারা প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের হয়েছেন তাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সচেতনতামূলক বার্তা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন। অনেককে মামলাসহ জরিমানা করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকা থেকে বের হওয়া ও ঢাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরেও মানুষজনকে ঢাকায় ঢুকতে ও বের হতে কোনও নিবারণ করা যাচ্ছে না। নানা উছিলা ও ভিন্ন পন্থায় আসা-যাওয়া চলছেই।

দেশে কোভিড আক্রান্তের আগের দিনের সর্বোচ্চ রেকর্ড ভেঙেছে। একদিনেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪  জন। দেশে গত ৮ মার্চ প্রথমবারের মতো কোভিড  সংক্রমণ ধরা পড়ার পর এটাই ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া নতুন রোগীর সর্বোচ্চ সংখ্যা।আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২১৮ জন ও মৃত্যু ২০জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩৩ জন।

সারা দেশে নমুনার সংখ্যা ও পরীক্ষার আওতা বাড়ানোর পর থেকেই রোগী শনাক্ত হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলামের জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশে কোভিড-১৯ দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। কারণ আমরা এখনও পজিটিভ রোগীদের শনাক্ত করতে পারছি না। তারা ছড়াচ্ছে।

এই বিশেষজ্ঞের মতে, সরকার কোভিড সংক্রমণের পাঁচটি ক্লাস্টার (এলাকা) চিহ্নিত করেছে। যার মধ্যে ঢাকায় দু’টি। এর একটি হচ্ছে বাসাবো ও মিরপুর। কিন্তু কোন এলাকা সবচেয়ে বেশি কোভিড পজিটিভ, সেটা কিছুতেই জানা যাচ্ছে না, বের করা যাচ্ছে না। সেই জায়গাটা চিহ্নিত করা না গেলে সংক্রমণ বাড়তেই থাকবে। আবার এই এলাকায় কে পজিটিভ, কার মাধ্যমে ছড়াচ্ছে, তাদের সঙ্গে কাদের সংযোগ বা তারা কাদের সান্নিধ্যে গেছেন, তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে। সেটা করা না গেলে ক্লাস্টারেও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। ক্লাস্টারের মধ্যে কোভিড  বাড়বেই। কেউ মারা যাবে, কেউ সুস্থ হয়ে যাবে। সুতরাং এসব বিষয় ভাবতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেছা বলেন, করোনা বাড়ছে, বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। অনেক উন্নত দেশেও এই পরিস্থিতি। কিন্তু আমরা সেটা কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছি, সেটাই বিষয়। লকডাউন দেয়া হচ্ছে লোকজনকে ঘরে রাখতে, যাতে নতুন সংক্রমণ না ঘটে। লকডাউন বাস্তবায়নে সরকারের যেমন ভূমিকা নিতে হবে, তেমনি মানুষজনকেও সচেতন হতে হবে। নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। অসুস্থ হলে আইইডিসিআরসহ স্বাস্থ্য বিভাগকে জানাতে হবে। কিছুতেই তথ্য লুকানো যাবে না।

আইইডিসিআর জানায় , রাজধানীর ২৯টি এলাকায় এরই মধ্যেই রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বাসাবো ও মিরপুরের টোলারবাগকে ‘ক্লাস্টার’ বা এলাকাভিত্তিক সংক্রমণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাসাবোতে ৯ জন ও টোলারবাগে ৬জন আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যান্য এলাকার মধ্যে সোয়ারীঘাটে তিনজন, বসুন্ধরা, ধানমন্ডি, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর-১০, মোহাম্মদপুর, পুরানা পল্টন, শাহআলীবাগ ও উত্তরাতে দু’জন করে, আশকোনা, বুয়েট এরিয়া, সেন্ট্রাল রোড, ইস্কাটন, গুলশান, গ্রিন রোড, হাজারীবাগ, জিগাতলা, কাজীপাড়া, লালবাগ, মিরপুর-১১, মগবাজার, মহাখালী, নিকুঞ্জ, রামপুরা, শাহবাগ, উর্দু রোড ও ওয়ারীতে একজন করে আক্রান্ত হয়েছেন।

এসএমএম