• ঢাকা
  • রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২১, ৪ মাঘ ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২১, ০৫:৩৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৩, ২০২১, ০৬:৫৯ পিএম

করোনা প্রতিরোধে অতিরিক্ত গোসল নয়!

জাগরণ ডেস্ক
করোনা প্রতিরোধে অতিরিক্ত গোসল নয়!

প্রতিদিন গোসল করছেন? করোনার সময়টাতে সংক্রমণ এড়াতে গোসলও নিশ্চয়ই বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রতিদিন কিংবা এক দিনে কয়েকবার গোসল করা স্বাস্থ্যের জন্য আরো ক্ষতিকর, এমনটাই দাবি করছেন গবেষকরা। 

সুস্বাস্থ্যের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ স্বাস্থ্যবিদদের। ধুলাবালি কিংবা অতিরিক্ত ঘামে শরীরে দুর্গন্ধ এড়াতে গোসল করতেই হয়। প্রতিদিন নিয়ম করে অনেকে গোসল করেন। অনেকে আবার আলসেমিতে প্রতিদিন গোসলের বিষয়ে বেশ উদাসীন। এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, তা নিয়েই গবেষণা করেছেন বিজ্ঞানীরা।

সম্প্রতি গবেষণায় চিকিত্সকরা বলছেন, প্রতিদিন গোসল করাটাই বরং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর পেছনে যুক্তিও দিয়েছেন। গোসল শরীরে সুগন্ধ দিতে পারে, কিন্তু এটি সংক্রমণ রোধে তেমন একটা কাজ করে না। বরং ত্বকের জন্য খারাপ হতে পারে। গোসলে সাবান ব্যবহারে ত্বকের শুষ্কতা বেড়ে যায়। উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোও নষ্ট করে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বলটিমোরের জনস হপকিনস সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ডা. অ্যাডালজা ‘উদীয়মান সংক্রামক রোগগুলোর’ ওপর গবেষণা চালিয়েছেন। তার গবেষণায়ও প্রতিদিন গোসলের বিষয়টিকে উপেক্ষা করেছে।

গবেষণায় ডা. অ্যাডালজা বলেন, “গোসল কম করলে সংক্রমণ বেশি হবে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং গোসলে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল পণ্যগুলো ব্যবহার না করাই উত্তম। কারণ, এগুলো ত্বকের মাইক্রোবায়োম বা ত্বকে থাকা অণুজীবকে ব্যাহত করে।”
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে গবেষণায়। অতিরিক্ত গোসলে ডায়াবেটিস রোগীদের ত্বকের ভাঁজগুলোর মধ্যে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কতটা গোসল প্রয়োজন এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।”

তবে নরম ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে নিয়মিত গোসলের প্রয়োজনের কথাও বলেছেন। তিনি বলেন, “শিশুদের যথাসম্ভব পরিষ্কার রাখতে নিয়মিত গোসল করা যেতে পারে।”

এদিকে নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি স্কুল অব নার্সিংয়ের অধ্যাপক এলেন লারসন বলেছেন, “যারা ঘরেই থাকেন তাদের জন্য নিয়মিত গোসল না করার বিষয়টি ভালো ফল দেবে। এতে আপনার ত্বকের উপকারী জীবাণু ধরে রাখতে সাহায্য করে।”

তিনি সুপারিশ করেন, প্রাপ্তবয়স্করা যারা ঘরেই সময় কাটাচ্ছেন তারা সপ্তাহের ৭ দিনের মধ্যে ৩ দিন গোসল করতে পারেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লারসন আরো বলেন, “৬০ বছর বয়সীরা যাদের ত্বকে আর্দ্রতার সমস্যা রয়েছে তাদের গোসলে উদাসীন হওয়াই শ্রেয়। ঘন ঘন গোসল ত্বকে ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে।“ 

টরন্টোভিত্তিক লেখক ক্যাথরিন অ্যাশেনবার্গের বই ‘দ্য ডার্ট অন ক্লিন: আনসানাইসাইজড হিস্ট্রি’তে বলেছেন, “উত্তর আমেরিকার অনেক লোক নিয়মিত গোসলের পরিবর্তে ডিওড্রেন্ট ব্যবহার করছেন।”

এ ছাড়া হার্ভার্ড স্বাস্থ্য প্রকাশনার সিনিয়র অনুষদ সম্পাদক রবার্ট এইচ শর্মলিং বলেন, “প্রতিদিনের গোসল আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি করে না। বরং ত্বকের সমস্যা বা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। শ্যাম্পু, কন্ডিশনার এবং সাবান ব্যবহারে শরীরে প্রাকৃতিক যে তেল ভাব, সুগন্ধি এবং অন্যান্য সংযোজনগুলোর আছে তা হারিয়ে ফেলতে পারে। এতে অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়াগুলোও দেখা দিতে পারে।”