• ঢাকা
  • বুধবার, ০৩ মার্চ, ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১, ০২:৫১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১, ০৩:১২ পিএম

দারুচিনির গুণ, যা বললেন পুষ্টিবিদ

দারুচিনির গুণ, যা বললেন পুষ্টিবিদ

দারুচিনি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ একটি ভেষজ। দেশীয় মসলাজাতীয় গাছের নাম দারুচিনি। এর মিষ্টি স্বাদ এবং সুন্দর ঘ্রাণের জন্য শতাব্দীর পর শতাব্দীর ধরে রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শুধু রান্নায় নয়, শরীর ও ত্বকের জন্যও এর ব্যবহার প্রশংসনীয়। দারুচিনি নানা গুণ, উপকারিতা ও এর ব্যবহার নিয়ে কখা বলেছেন বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ ফারজানা আহমেদ।

পুষ্টিবিদ ফারজানা আহমেদ বলেন, “এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়োয় ক্যালসিয়াম, কার্বোহাইডেট পাওয়া যায়। আরও থাকে ফসফরাস, আয়রন। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যেমন বিটা ক্যারোটিন, আল্ট্রা ক্যারোটিন, বিটা থাইজোথেন্টিন, লাইকোপেন, লুথেন উপাদানগুলো রয়েছে। যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। দারুচিনিতে আরও থাকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি।”

“দারুচিনিতে স্বাস্থ্যরক্ষার কথা বললে প্রথমেই আসবে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ। সুগার নিয়ন্ত্রণে দারুচিনি অনেক কার্যকর।”

“এছাড়া হার্টের রোগ কিংবা হৃদযন্ত্রের যে রোগগুলো হয় তা প্রতিরোধ করতে অল্প পরিমাণ দারুচিনি প্রতিদিন গ্রহণ করা উচিত।”

“স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন ধরনের রোগ যেমন অ্যানজাইমার, পারকিনসন ডিজিজ এগুলো প্রতিরোধ করতে অল্প পরিমাণ দারচিনি প্রতিদিন গ্রহণ করা খুবই কার্যকর হতে পারে।”

“এছাড়া শ্বাসকষ্টের যে রোগগুলো থাকে বিশেষ করে শীতে ছোট কিংবা বয়স্কদের ব্যক্তিদের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। তারা যদি চায়ের সঙ্গে অল্প দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে খায় তাহলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।”

“বিভিন্ন ধরনের গাইনোকোলোজিক্যাল সমস্যা যেমন পলিসিস্টিক ওভারি অ্যান্ড  সিন্ড্রম এবং পলিসিস্টিক ওভারি অ্যান্ড ডিজিজ প্রতিরোধ করতে দারুচিনি ভূমিকা রাখে।”

“আমাদের শরীরে যে খারাপ কোলেস্টরেল থাকে, তা কমাতে দারুচিনি ভূমিকা রাখে।”

“এ ছাড়া আমরা যদি অল্প পরিমাণে দারুচিনি খাবারের আগে গ্রহণ করি তাহলে আমরা পরবর্তী সময়ে যে খাবারগুলো খাই, তা নিউট্রন অ্যাজাভসনে খুব ভালো কাজ করে।”

“যাদের স্বাস্থ্য একটু খারাপ বা ওজন সহজে বাড়ে না বা বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় তাদের জন্য এটি খুব কার্যকর।”

“দারুচিনি ব্যাকটেরিয়া বা ফাংকাল ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে। বিভিন্ন ধরনের ক্রনিক ওন বা খর ছড়াতে দারচিনি ভূমিকা রাখে।”

“যখনই আমরা কার্বোহাইড্রেড জাতীয় খাবার বেশি গ্রহণ করি তখনই ইনসুলিন স্বাভাবিক প্রসেসে আসে এবং ফ্যাট হিসেবে তা শরীরে জমা শুরু করে। আমরা  অল্প পরিমাণে দারুচিনি যদি প্রতিদিন গ্রহণ করি সে ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে এটি কার্বোহাইড্রেটকে মেটাবোলাইট করে খরচ করিয়ে দেয় শরীরের ভেতর থেকে। এজন্য শরীরে ফ্যাট জমতে পারে না। কাজেই ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।”

দারুচিনি ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে পুষ্টিবিদ ফারজানা বলেন, “দারুচিনি চুলায় বেশিক্ষণ রাখা ঠিক নয়। বেশিক্ষণ চুলায় রাখলে এর ঔষধি গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য যারা মেডিকেল সমাধান চাচ্ছেন বা স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য যারা দারুচিনি গ্রহণ করে তাদের জন্য একটি টিপস রয়েছে। চায়ের পানিতে দারুচিনি না ফুটিয়ে চা বানানোর পর এর গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। ঔষধি গুণ ঠিক থাকবে। সে সাথে ঠান্ডা কমাতে বা ওজন কমাতেও কাজ করবে।”

দারুচিনি কীভাবে সংরক্ষণ করা যাবে, সে বিষয়েও জানিয়েছেন ফারজানা আহমেদ। তিনি বলেন, “বাজার থেকে আস্ত দারুচিনি কিনে সংরক্ষণ করুন। দারুচিনির গুঁড়ো না কেনাই ভালো। বরং আস্ত দারুচিনি বাসায় নিজেই গুঁড়ো করে বক্সে রেখে দিন। এটি ভালো থাকবে অন্তত দুই মাস। এর মধ্যেই দারুচিনির গুঁড়ো শেষ করে ফেলুন। তাহলে এর ঔষধি গুণাগুণ ও ঘ্রাণটা ঠিক থাকে।”

দারুচিনির উপকারিতা যেমন রয়েছে তেমনি এটি খেতে সতর্কতাও দিয়েছেন এই পুষ্টিবিদ। তিনি বলেন, “যারা দারুচিনি প্রতিনিয়ত খাওয়া উচিত নয়। এক-দুই মাস বন্ধ রেখে আবারও খাওয়া শুরু করুন।”

ফারজানা আহমেদ আরও বলেন, “দারুচিনি গরম ও শীতের দুই সময়েই ব্যবহার করা যায়। কিন্তু শীতের সময় এটি বেশি কার্যকর। প্রতিদিন যদি আমরা এক চা চামচ বা তার বেশি দারুচিনির গুঁড়া খাবারে ব্যবহার করে তবে তা স্বাস্থ্যকর থাকে না। এক কাপ চায়ে আধা চা চামচ দারুচিনির গুঁড়া দিয়ে খেতে পারি তবে তার ঔষধি গুণগুলো শরীরে ভালোভাবে কাজ করে। তবে কারো ওজন যদি ৭৫ কেজির চেয়ে কম থাকে তাহলে আধা চা চামচের চেয়েও কম দারুচিনি গুঁড়া চায়ে মিশিয়ে খাবেন।”

“আমাদের দেশে যেটা বহুল ব্যবহৃত দারুচিনি তার নাম কাশিয়া। এতে কাওমেনিন থাকে। কাওমেনিন অতিরিক্ত ব্যবহারে লিভারে সমস্যা হতে পারে। এজন্য কাশিয়া দারুচিনির গুঁড়া লিভার রোগীদের জন্য ভালো নয়।”

“আমাদের দেশে শক্ত বাকলের মতো যে দারুচিনি থাকে তা অতিরিক্ত ব্যবহারে  লিভার রোগীদের ক্ষতি হয়। কিন্তু সাইলন দারুচিনি বা পাতলা ধরনের দারুচিনি বেশি সময় ধরে নিলে লিভারে প্রভাব পড়ে না।”