• ঢাকা
  • বুধবার, ২৫ মে, ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২২, ১২:৩৩ এএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ২৭, ২০২২, ০৬:৩৩ পিএম

জরিপ

ঢাকায় কিউলেক্স মশা ৯৫ শতাংশ

ঢাকায় কিউলেক্স মশা ৯৫ শতাংশ
ফাইল ফটো

রাজধানীতে এইডিস মশা ৫ শতাংশ আর কিউলেক্স ও অন্যান্য মশা ৯৫ শতাংশ। নির্মাণাধীন ভবনে ৪২ দশমিক ১১ শতাংশ এবং বহুতলা ভবনে ৩১ দশমিক ৫৮ শতাংশ মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এইডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত দুই বছরের তুলনায় এবার রাজধানীতে মৌসুমের আগেই বেড়েছে এইডিস মশার ঘনত্ব। ওয়ারী, মহাখালী, লালমাটিয়া ও পল্লবীতে এই মশা বেশি। বর্ষার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কীটতত্ত্ববিদরা।

দেশে প্রতিবছর ডেঙ্গু রোগী বাড়ে জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে। পরিস্থিতি জানতে বর্ষা শুরুর আগেই উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফত। উত্তর ও দক্ষিণ ঢাকার ৯৮টি ওয়ার্ডের ১১০টি স্থানে চালানো হয় জরিপ। এতে দেখা যায়, উত্তর ঢাকার ৯টি ও দক্ষিণের ১৪টি ওয়ার্ডে এডিসের ঘনত্ব বেশি। সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে ওয়ারীতে, ২৩ দশমিক তিন-তিন শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল বলেন, ২০১৯ সালে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা এবার হতে দেয়া যাবে না। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে।

“এজন্য মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হতে দেয়া যাবে না। মশা যদি ডিম না পাড়ে তাহলে ডেঙ্গু ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এমনিতেই কমে আসবে। আমরা এই জায়গায়টায় সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই।”

জরিপকালে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪০টি করে ৮০টি স্থানে পূর্ণাঙ্গ মশার ধরার ফাঁদ পাতা হয়।

উত্তর ঢাকায় ২০২০ সালে এইডিসের ঘনত্ব ছিল এক দশমিক আট-সাত শতাংশ, ২০২১ সালে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৪ দশমিক আট-চার। আর দক্ষিণে ২০২০ সালে ছিল ৩ শতাংশ, ২০২১ সালে তা হয় ৪ দশমিক শূন্য সাত। এ বছর মৌসুম শুরুর আগেই এডিসের ঘনত্ব ছাড়িয়েছে ৫ শতাংশ।

প্রাক-মৌসুম জরিপে এডিসের ঘনত্ব বেশি পাওয়া গেছে নির্মাণাধীন ভবনের মেঝেতে জমে থাকা পানিতে, যা ২৪ শতাংশ, প্লাস্টিক ড্রামে ২১ ও বালতিতে ১৪ শতাংশ। সিটি করপোরেশন বলছে, সচেতনতা না বাড়লে শুধু ওষুধ ছিটিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনই প্রতিরোধ করতে না পারলে স্বাভাবিক স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হবে। এমনকি, পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্বাস্থ্য মহাপরিচালক বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমরা জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করেছি। কারণ, ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধির বেশিরভাগ কারণই হলো মানুষের তৈরি। ডেঙ্গু প্রকোপের প্রকৃতিগত যেসব কারণ রয়েছে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কষ্টসাধ্য। তবে আমরা মনে করি, সচেতনতা আমাদের অনেকাংশেই মুক্তি দিতে পারে।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণে আমরা এখন ভালো পরিস্থিতিতে আছি। সেটি আমাদের অবশ্যই ধরে রাখতে হবে। এ মুহূর্তে যদি আবার ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়ে, তাহলে পুনরায় আমাদের স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হতে পারে। তাই এর আগাম প্রতিরোধ করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা এবার হতে দেয়া যাবে না। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে।

জরিপে দেখা গেছে, রাজধানীতে এইডিস ৫ শতাংশ আর কিউলেক্স ও অন্যান্য মশা ৯৫ শতাংশ। ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি এইডিস মশা মিলেছে কক্সবাজারে।

জাগরণ/স্বাস্থ্য/কেএপি