• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই, ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯
প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২২, ১২:৪১ এএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ২৪, ২০২২, ০৬:৪১ পিএম

‘মাঙ্কিপক্সের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব’

‘মাঙ্কিপক্সের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব’

মাঙ্কিপক্সে বিশ্বজুড়ে আরও মানুষ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও রোগটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কর্মকর্তারা। 

সাথে সাথেই আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও বেশি মানুষের মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হতে দেখার জন্য বিশ্বের দেশগুলোকে প্রস্তুত থাকতেও বলেছেন তারা।

কিন্তু এর মানে এই নয় যে, পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে বা রোগটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বরং স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলেছেন, এ রোগ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণযোগ্য। 

এর পেছনে কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগ যেমন করোনার মতো এটি সহজে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। এটি ছড়াতে খুবই ঘনিষ্ঠ শারীরিক স্পর্শের প্রয়োজন হয়। সাধারণত আক্রান্ত একজনের চামড়ার সঙ্গে অন্যজনের চামড়ার সংস্পর্শ থেকেই এ রোগ ছড়ায়।

এটা করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)-এর মতো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মৃদু বা উপসর্গহীন নয়। বরং মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হলে শরীর খারাপ করবে এবং শরীরে ফোস্কার মতো গোটা দেখা দেবে। তাই কেউ এ রোগে আক্রান্ত কিনা, সেটা জানতে পরীক্ষা পর্যন্ত অপেক্ষাও করতে হবে না।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে, সরাসরি এই রোগের টিকা এখনও সহজলভ্য না হলেও গুটিবসন্তের টিকা দিয়ে এ ভাইরাস প্রায় ৮৫ শতাংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব, কারণ দুই ভাইরাসের মধ্যে মিল রয়েছে।

এমনকি মাঙ্কিপক্স প্রতিরোধের জন্য সবার টিকা নেয়াও প্রয়োজন নেই বলেও মত ডব্লিউএইচও বিশেষজ্ঞদের।

টিকার বিষয়ে ডা. রোসামুন্ড লুইস গণমাধ্যমকে বলেন, বিশ্ব থেকে গুটিবসন্ত বিলুপ্ত হয়েছে। ওই সময়ে কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে গুটিবসন্তের টিকা মাক্সিপক্সের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৫ শতাংশ কার্যকর।

মাঙ্কিপক্সের টিকাও আছে। কিন্তু সেটা তুলনামূলক নতুন এবং সব জায়গায় পাওয়া যায় না। যদিও ডব্লিউএইচও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা টিকা আরও সহজলভ্য করতে কাজ করছেন।

তবে সবার জন্য টিকার প্রয়োজন নেই বলে মত ডব্লিউএইচও বিশেষজ্ঞ ডা. মারিয়া ফন কেরখোভের। তিনি বলেন, এ রোগ শুধু ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় বলে প্রতিরোধমূলক টিকা নেয়া জরুরি নয়। 

দেশে এখনও মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়নি। এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। অসুস্থ ও পোষা প্রাণির ক্ষেত্রে সতর্কতা থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। 

বিশ্বের পনেরটিরও বেশি দেশে শনাক্ত হয়েছে মাঙ্কিপক্স। বাংলাদেশে শনাক্ত না হলেও সব বন্দরে জোরদার করা হয়েছে স্ক্রিনিং।

চিকিৎসকরা বলছেন, মাঙ্কিপক্স হলে জ্বরের সঙ্গে ঘাম, প্রচন্ড মাথাব্যথা, পিঠে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, শ্বাসকষ্ট ও কাশির লক্ষণ দেখা দেয়। ১ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। ফুসকুড়ি প্রায়ই মুখে শুরু হয়। এরপর ছড়িয়ে পড়ে শরীরের বাকি অংশে। স্থায়ী হয় দুই থেকে চার সপ্তাহ ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য শারফুদ্দিন বলেন, করোনাভাইরাস মহামারি বিশ্ব থেকে এখনও শেষ হয়নি। এর মধ্যেই বিশ্বে মাঙ্কিপক্স ভাইরাস জেঁকে বসবার উপক্রম করছে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ ১৫টি দেশে এটি শনাক্ত হয়েছে।

এরই মধ্যে সংক্রামক রোগ ‘মাঙ্কিপক্স’ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি স্থল, নৌ এবং বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। মাঙ্কিপক্স একটি ডিএনএ ভাইরাস। কাউপক্স, ভ্যাক্সিনিয়া এবং ভ্যারিওলা (স্মলপক্স) এই গ্রুপের ভাইরাস।

মাঙ্কিপক্স পশু থেকে মানবদেহে ছড়ায়। এর ধরন দুটি। কঙ্গো স্ট্রেন পশ্চিম আফ্রিকার স্ট্রেইনের চেয়ে বেশি মারাত্মক। এর মৃত্যুহার দশ ভাগ। 

১৯৫৮ সালে বানরের দেহে শনাক্ত হয় মাঙ্কিপক্স। ১৯৭০ সালে ধরা পড়ে মানবেদেহে।

শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সোমবার (২৩ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মাঙ্কিপক্সের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়, যা ছিল নিছক একটি গুজব।

বিষয়টি প্রথমে আমাদের নজরে আনেন গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল কিছুসংখ্যক সাংবাদিক ভাইরা। তাদের এ তথ্যে আমাদের প্রশাসন আরও তৎপর হয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই আমরা খোঁজ নেয়া শুরু করি আসলে কী ঘটেছে।’

গুজব রোধ এবং গুজব রটনাকারীকে খুঁজে পেতে গণমাধ্যমের কর্মীদের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের কাছে মৌখিকভাবে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।

জাগরণ/স্বাস্থ্য/এসএসকে/কেএপি