• ঢাকা
  • সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯, ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০১৯, ০১:০৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : এপ্রিল ২২, ২০১৯, ০১:০৬ পিএম

খাবারের প্লেট হাতেই বিস্ফোরণ ঘটায় আত্মঘাতী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
খাবারের প্লেট হাতেই বিস্ফোরণ ঘটায় আত্মঘাতী
বিস্ফোরণের পর সিনেমন গ্র্যান্ড হোটেলের বুফে রেস্তোরাঁ।

 

শ্রীলঙ্কার সিনামোন গ্র্যান্ড হোটেলের বিস্ফোরণটি ছিল আত্মঘাতী। ইস্টার সানডে উপলক্ষে সিনামোন গ্র্যান্ড হোটেলে জড়ো হয়েছিলেন অসংখ্য পর্যটক। এরমধ্যেই বোমা হামলা চালানো হয় হোটেলটিতে। হামলাকারী হোটেলে সকালের বুফে নাস্তার জন্য সবার সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে ইস্টার সানডে ব্রেকফাস্ট বুফের লাইনে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন আত্মঘাতী হামলাকারী। খাবার নেওয়ার আগমুহূর্তে তিনি পিঠে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটান।

হাতে প্লেট নিয়ে খাবারের অপেক্ষায় থাকার ভান করা এই ব্যক্তি শনিবার রাতে কলম্বোর এই পাঁচ তারকা হোটেলটিতে উঠেছিলেন, তখন নিজের নাম মোহাম্মদ আজম বলে জানান তিনি। লাইনের সামনে আসার পর যখন তার প্লেটে খাবার দেওয়া হবে ঠিক তখনই হোটেলটির জনাকীর্ণ রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটান, জানিয়েছেন সিনামন হোটেলের এক ম্যানেজার। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে আন্তর্জাতিক একটি বার্তা সংস্থাকে তিনি বলেন, “তখন সাড়ে ৮টা বাজে। ব্যস্ত সময়। অনেক পরিবার ছিল। সেখানে অনেকেই সপরিবারে এসেছিলেন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে হামলাকারী লাইনের শেষ প্রান্তে উপস্থিত হন এবং লাইনের সামনে আসার পরই সে বিস্ফোরণ ঘটায়। রোববার সাপ্তাহিক ছুটি ও ইস্টার সানডের পরব থাকায় সিনামন গ্রান্ডের ট্যাপ্রোবেন রেস্তোরাঁয় তখন বহু লোকের ভিড়। তাৎক্ষণিকভাবে যারা নিহত হন তাদের মধ্যে আমাদের যে ম্যানেজার অতিথিদের স্বাগত জানাচ্ছিলেন তিনিও আছেন,” বলেছেন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের মধ্যে আত্মঘাতীও আছেন। পুলিশ তার শরীরের কিছু অংশ অটুট অবস্থায় পেয়ে সেগুলো নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, এ হামলায় ২০ জনেরও বেশি গুরুতর আহত হন। আমরা তাদের ন্যাশনাল হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এই আত্মঘাতী শ্রীলঙ্কান ছিলেন বলে জানিয়েছেন হোটেলটির ম্যানেজাররা। হোটেলের রেজিস্টারে তার দেওয়া ঠিকানাটি ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। ব্যবসার কাজে সে কলম্বো এসেছে বলে তাদের জানিয়েছিল। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের কাছের এই হোটেলটিতে বোমা বিস্ফোরণের পরপরই স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের কমান্ডোরা ঘটনাস্থলে চলে আসেন।

কলম্বোর অন্য দুই পাঁচ তারকা হোটেল শাংরি-লা ও কিংসবারিতেও প্রায় একই সময় হামলা চালানো হয়। ওই সময়েই কলম্বোসহ তিনটি শহরের তিনটি গির্জায় ইস্টার সানডের প্রার্থনারত কয়েক হাজার লোকের মধ্য আরও তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। কলম্বোর ঐতিহাসিক ক্যাথলিক গির্জা সেন্ট অ্যান্থনির শ্রাইনে ঘটা বিস্ফোরণটির প্রচণ্ড ধাক্কায় ছাদের অধিকাংশ উড়ে যায়। গির্জার মেঝেতে ছাদের টাইলস, ভাঙা কাঁচ ও ছিন্নভিন্ন কাঠের টুকরা রক্তে মাখামাখি হয়ে মেঝেতে পড়ে ছিল।  

কারা এ হামলাগুলো চালিয়েছে শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ তা জানায়নি। নিহত ২৯০ জনের মধ্যে ৩৫ জন বিদেশি। এদের অধিকাংশই হোটেলগুলোতে ঘটা বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। তবে, কারা এ হামলা করেছে তা এখনো জানাতে পারেনি দায়িত্বশীলরা।

সূত্র : বিবিসি

এসজেড