• ঢাকা
  • শনিবার, ০৬ জুন, ২০২০, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
প্রকাশিত: মে ১৪, ২০১৯, ০৯:৪০ এএম
সর্বশেষ আপডেট : মে ১৪, ২০১৯, ০৯:১৪ পিএম

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের গবেষণা

২০৩০ সাল নাগাদ ভারতীয়দের চেয়ে ধনী হবে বাংলাদেশিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০৩০ সাল নাগাদ ভারতীয়দের চেয়ে ধনী হবে বাংলাদেশিরা

আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মানদণ্ডে বিশ্বের এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর ঊর্ধ্বমুখী সূচকের প্রেক্ষাপটে ২০২০ সাল থেকে পরবর্তী দশ বছর-হতে যাচ্ছে এশীয় দশক। এমন তথ্যই দিয়েছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, এ সময় বিশ্বায়ণের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনীতিতে দাপটের সাথে অবস্থান করবে ভারত, বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, ভিয়েতনামের মত এশীয় রাষ্ট্রগুলো।
 
মঙ্গলবার (১৪ মে) আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড-এর এক গবেষণা প্রতিবেদনের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় এই বিশেষ তথ্য। পাশাপাশি প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয় যে,  ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের চেয়ে ধনী দেশে রূপান্তরিত হবে বাংলাদেশ। আর আর্থিক অবস্থানের দিক থেকে গড়ে ভারতীয়দের চেয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশিরা।

গবেষনা প্রতিবেদনে প্রদর্শিত অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গ্রাফ  সূত্র: ব্লুমবার্গ   

প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময়ে ভারতীয়দের চেয়ে বাংলাদেশিদের মাথাপিছু আয় ৩০০ ডলার বেড়ে যাবে। গবেষণা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্স জানিয়েছে, অর্থনীতির বিচারে আগামী দশক হবে এশিয়ার এবং শীর্ষ ৭ অর্থনীতির দেশের মধ্যে থাকবে মহাদেশের ৫টি দেশ: বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইন। ওই ৫ দেশের প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৭ শতাংশে পৌছবে এবং তা স্থিতিশীল থাকবে।

এর আগে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের ভারতীয় প্রধান মধুর  ঝাঁ ও বিশ্ব-অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ডেভিন মান এই বিশেষ গবেষণা প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন। এতে বলা  হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার পাঁচ ভাগের এক ভাগেরই বসবাস হবে এশিয়া অঞ্চলে। জনতাত্ত্বিক এই সুবিধা ভারতের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসবে। বাংলাদেশেও স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের বিনিয়োগের উৎপাদনশীলতা বাড়বে। যার ফলে ভারতীয়দের চেয়ে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকবে বাংলাদেশিরা। সেসময় ভারতের মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ৫ হাজার ৪০০ ডলারে। একই সময়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় আরও ৩০০ ডলার বেড়ে দাঁড়াবে ৫ হাজার ৭০০তে।

২০১০ সালে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড প্রথম এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে তখন থেকেই এশীয় আধিপত্য শনাক্ত করতে সক্ষম হন তারা। সে সময় এশিয়া ও আফ্রিকার ১০ দেশ: চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, তাঞ্জানিয়া, উগান্ডা ও মোজাম্বিকের মধ্যে কারা শীর্ষ ৭ অবস্থান দখল করবে, তা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ছিলেন গবেষক দলের সদস্যরা। 

এশিয়া ছাড়াও আফ্রিকার ইথিওপিয়া ও আইভরি কোস্টও ২০৩০ সাল নাগাদ ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশের তালিকায় স্থান পেতে পারে। অর্থাৎ প্রতি ১০ বছরে ওই দুই দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধির হার দ্বিগুণ। মাথাপিছু আয়ও বাড়ছে দ্রুতগতিতে।  গত বছর যেখানে ভিয়েতনামের মাথাপিছু আয় ছিলো আড়াই হাজার ডলার, ২০৩০ সালে গিয়ে তা দাঁড়াবে ১০  হাজার ৪০০ ডলারে।


এসকে