• ঢাকা
  • রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬
প্রকাশিত: জুন ১১, ২০১৯, ০৮:৪৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ১১, ২০১৯, ০৮:৪৬ পিএম

‍‍`ফণী‍‍`র পর এবার ধেয়ে আসছে ‘বায়ু’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
‍‍`ফণী‍‍`র পর এবার ধেয়ে আসছে ‘বায়ু’

 

ফণীর বিষাক্ত ছোবলের রেষ না কাটতেই এবার দক্ষিন এশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বায়ু। গত সপ্তাহান্তে আরব সাগরের উষ্ণ জলরাশির বুকে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ক্রমশ ঘনীভূত হয়ে এই ঘূর্ণিঝড়ের রূপ ধারন করেছে। আর সময়ের সঙ্গে সেটি প্রবল থেকে প্রবলতর হয়ে ওঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে ১২ জুন ঘূর্ণিঝড়টি প্রকট রূপে নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের উপকূলীয় অঞ্চলে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে।

এবারের ঘূর্ণিঝড়টির ‘বায়ু’ নামকরণ করেছে ভারত। হিন্দি ‘ভায়ু’ শব্দ থেকে এর নামকরণ করা হয় যার অর্থ ‘বাতাস’।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যের বরাতে জানা যায়, ১৩ জুন নাগাদ উৎপত্তি স্থল হতে ১০২ কিমি প্রতি ঘন্টা বেগে ক্রমশ উত্তর দিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের গুজরাটের পোরবন্দর ও মহৌভার এলাকার মধ্যবর্তী অঞ্চলে আছড়ে পড়তে পারে। আর যদি নিজের বর্তমান গতিপথ হতে সেটি কিছুটা উত্তর-পূর্ব দিকে সরে যায় তবে তা ভারতসহ পাকিস্তানের কয়েকটি এলাকায় প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। এ সময় এর গতিবেগ থাকবে ঘন্টায় ১২০-১৪০ কিমি।

কিছুদিন আগেই তাণ্ডব দেখিয়েছে ফণী। ভারতীয় উপকূলে ১২০ কিলোমিটার বেগেই আছড়ে পড়েছিল ঘূর্ণিঝড়টি। যার ফলে তছনছ হয়ে গিয়েছিল ওড়িশা উপকূল। আজও সেখান থেকে সম্পূর্ণ ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ওড়িশা। চেষ্টা চলছে এখনও। তবে শুধু গুজরাট উপকূলই নয়, লাক্ষাদ্বীপ ও আমিনদিভিতেও এর প্রভাব পড়বে বলে তথ্যত পাওয়া গেছে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তি সঞ্চয় করে ২ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় থেকে ৩ মাত্রায় উন্নীত হতে পারে।  

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস মতে ১৩ ও ১৪ জুন সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছ এলাকায় ১২০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টিপাতসহ ঝড় বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেশটির গুজরাট সংলগ্ন ভেরাভল ও দিউ এলাকাতেও ১১০-১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়াবিদরা।  এরইমধ্যে মৎসজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যারা ইতিমধ্যেই সমুদ্রে চলে গিয়েছে, তাদের ফিরে আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ জুন) বিকেলে পূর্ব ও মধ্য ভারতের দিকে ঘূর্ণিঝড়টি ধেয়ে আসতে পারে। আরব সাগরের সংলগ্ন এলাকায় ৯০-১০০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া।  এছাড়া কেরল, কর্ণাটক ও দক্ষিণ মহারাষ্ট্রেও বায়ুর প্রভাব পড়বে বলে জানা যায়। বুধবার (১২ জুন) আরও শক্তি সঞ্চয় করে গুজরাটের দিকে ধেয়ে যাবে বায়ু। তখন তার গতিবেগ হবে ১১০-১২০ কিলোমিটার। অনুমান করা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৩৫-১৪- কিলোমিটার। তবে মহরাষ্ট্র উপকূলে ৭০ কিলোমিটারের বেশি বেগে বইবে না ঝোড়ো হাওয়া।

বায়ু থেকে বাঁচতে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালের মধ্যে সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছ উপকূলে পৌঁছে গিয়েছে জাতীয় বিপর্ষয় মোকাবিলা দপ্তরের ১০ জন সদস্যের একটি দল। এছাড়া সেনা, নৌসেনা ও উপকূলরক্ষী বাহিনীকেও সতর্ক করা হয়েছে। হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে গুজরাটের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে। একাধিক এলাকায় স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যেই বৈঠকে বসেছেন।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

 

Islami Bank