• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬
Bongosoft Ltd.
প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০১৯, ০৮:১২ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ১১, ২০১৯, ০৮:১৪ পিএম

সংকট কংগ্রেসে, সমাধান দূর অস্ত

ভাস্কর সেনগুপ্ত, কলকাতা
সংকট কংগ্রেসে, সমাধান দূর অস্ত

অস্তিত্ব, নাকি প্রাসঙ্গিকতা-কংগ্রেস দলের সংকটের চেহারাটা আসলে কী, লোকসভায় ভরাডুবির পর তাই নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে রাজ্যে রাজ্যে ভাঙ্গন, অন্যদিকে নেতৃত্ব থাকবে কার হাতে, কংগ্রেস রাজনীতিতে গান্ধী পরিবারের ভুমিকা ঠিক কী হবে, তাই নিয়ে ধোঁয়াশা। অন্যদিকে প্রবল হিন্দু হাওয়ার মধ্যে দলের আদর্শগত স্বচ্ছতা ও নীতি কী হবে, তা নিয়েও দিশেহারা অবস্থা। সব মিলিয়ে ১৩৪ বছরের দলটা যেন হারিয়ে যেতে বসেছে।

অথচ ইতিহাস বলছে, রাহুল গান্ধীর পূর্বসূরীরা পরাজিত হয়েও প্রবল বিক্রমে ফিরে এসেছেন। ১৯৭৭-এ পর্যদুস্ত হওয়ার তিন বছরের মধ্যে ১৯৮০ সালে ক্ষমতায় রাহুলের ঠাকুরমা প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধী। আবার, ১৯৮৯ সালে পরাজয়ে দু-বছরের মধ্যে গদি ফিরে পেয়েছিলেন তাঁর বাবা প্রয়াত রাজীব গান্ধী। একই কথা বিজেপি-র অটলবিহারী বাজপেয়ীর ক্ষেত্রেও খেটে যায়। রাহুল গান্ধী দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে যেন উল্টো পথে হাঁটছেন।

পরপর দু-বার নরেন্দ্র মোদির বিজেপি-র কাছে পরাজয়। এবারে চৌকিদার চোর হ্যায় প্রচার তুলে বাজি জিততে চেয়েছিলেন। ফল হয়েছে উল্টো। আরো বেশি আসন নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। মাত্র ৫২টি আসন আর সরে ১৯ শতাংশ ভোট নিয়ে নৈতিক দায়িত্ব মেনে দলের সভাপতি পদে ইস্তফা দিয়েছেন রাহুল। প্রায় মাস্কানেক ধরে চলা নাটকের যবনিকা পড়েছে। এখন পরিষ্কার, রাহুল আর ফিরছেন না।

পরাজয়ের নৈতিক দায়িত্ব মেনে তাঁর পদত্যাগের পর থেকেই দলে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে যেন। জ্যোতিরাদিয়া সিন্ধিয়া, মিলিন্দ দেওরা, পস্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্যের প্রদেশ সভাপতি পদত্যাগ করেছেন। এটা মুদ্রার একটা পিঠ। অন্যাপিঠে দলও ভাঙ্গতে শুরু করেছে। কর্নাটকে কংগ্রেস বিধাযকেরা পদত্যাগ করেছেন। গোয়ায় ১০ জন দল কংগ্রেস বিধায়ক দল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন। গেরুয়া নেতারা কটাক্ষ করে বলছেন, আগে আগে দেখো, হত হ্যায় কেয়া। ঘটনাও তাই। পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস ও সিপিএমের যা অবস্থা, গোটা দেশে কংগ্রেস দলের সেই অবস্থা হবে কি না, তাই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

প্রশ্ন হল, এই হতচ্ছাড়া দলটার হল ধরবে কে? সোনিয়া, রাহুল না করে দিয়েছেন। আগাগোড়াই দুরে রয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। অর্থাৎ, ১৮৮৫-তে মতিলাল নেহরুর হাতে তৈরী, জওহরলাল-ইন্দিরা-সোনিয়া-রাহুলের পর এবার আর গান্ধী পরিবারের কাউকে কংগ্রেস সভাপতি পদে দেখা যাবে না। কিন্তু কে হবেন সভাপতি, তা নিয়ে ছত্রখান দল। কংগ্রেসের প্রবীন বাহিনী নিজেদের হাতে ক্ষমতা রাখতে চাইছেন। অনেকে আবার নতুন নেতৃত্বে বিশ্বাসী। মজা হল, এসব দেখেও গান্ধী পরিবার চুপ করে রয়েছে। অন্তত প্রকাশ্যে। কিন্তু কংগ্রেসের মুখ হতে পারে, গোটা দেশের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতা কি আছেন? নেই বলেই নানা নাম নিয়ে কাটাছেড়া হচ্ছে।

গাবধি পরিবারের বাইরে সম্প্রীতিক অতীতে দু-জন সভাপতি হয়েছে। নরসিমা রাও ও সীতারাম কেশরী। কিন্তু দু-জনেই ছিলেন গান্ধী পরিবারের পুতুল। তাহলে এবারও কি তেমন কেউ? এই উত্তর পরিষ্কার নয়। তবে যেই হন পরবর্তী কংগ্রেস সভাপতি, দলটার ভবিষ্যত খুব উজ্জ্বল বলে মনে করছেন না কেউই।

এসকে

আরও পড়ুন

Islami Bank
ASUS GLOBAL BRAND