• ঢাকা
  • সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯, ১১:৪০ এএম
সর্বশেষ আপডেট : সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯, ১২:১৬ পিএম

৯/১১ : যে দুঃস্বপ্নের ভয়াবহতা আজও ভুলেনি বিশ্ব

এস এম সাব্বির খান
৯/১১ : যে দুঃস্বপ্নের ভয়াবহতা আজও ভুলেনি বিশ্ব
ট্রেড সেন্টারে আঘাত হানার আগ মুহূর্তে ধাবমান দ্বিতীয় বিমানটি- ছবি: স্যাটেলাইট ভিত্তিক সিকিউরিটি এক্সেস ক্যামেরার

আজ সেই ‘কালো দিন’। আজকের এই দিনে পৃথিবীর বুকে একদিকে যখন কথিত উগ্র-সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদ দমনের নামে সিরিয়া আর ফিলিস্তিনে চলছে মানবতার হত্যা, অন্য দিকে আফ্রিকা, ইউরোপ, এশিয়ায় আজও নরহত্যার নামে সাম্প্রদায়িকতার আড়ালে চলছে ধর্ম ও মানবতার লাঞ্চনা। অথচ ইতিহাসের এই দিনটির জন্য এই যুদ্ধবাজদের জঙ্গি দমন নীতি বা প্রকৃত জঙ্গিদের ধর্মের নামে নরহত্যার ভীতি- কোনোটিই করতে পারেনি সভ্যপৃথিবী।

বিশ্বব্যাপী চলছে আইএস নির্মূল অভিযানের প্রস্তুতি, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখার চ্যালেঞ্জ। লাদেন নেই, কিন্তু আছে তার ভাবশিষ্যরা!

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর, আজ থেকে ঠিক ১৮ বছর আগের এই দিনেটিকে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ভুলতে পারবে না সারা বিশ্বের মানুষ। সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদের বীভৎস উগ্রতা আর মৃত্যুমুখী ভয়াল আগ্রাসনের প্রতীক হয়ে ওঠা- যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এক যোগে সেদিন চালানো হয়েছিল চার-চারটি আত্মঘাতি বিমান হামলা। আর সে নারকীয় হামলায় নিহত হয় প্রায় ৩ হাজার মানুষ। 

|| যা ঘটেছিলো সেই অভিশপ্ত দিনে

১১ সেপ্টেম্বর ২০০১। ভোরের আলো ফুটতেই প্রাণ চাঞ্চল্যে ভরে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহর। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড়তে থাকে নগরীর ব্যস্ততা। ঘড়িতে সময় তখন সকাল প্রায় ৯ টা। হঠাৎ এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো নিউইয়র্ক শহর। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আরো একট বিস্ফোরণ, এরপর আরো একটি। আর এভাবেই চারটি বিধ্বংসী বিস্ফোরণের সেই উৎস হিসেবে যা দেখা গেল, তাতে স্রেফ স্তব্ধ হয়ে পড়ে সারা বিশ্ব! এই বিস্ফোরণে যে চারটি যাত্রীবাহী মার্কিন বিমান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের গায়ে আছড়ে পড়ে তা হয়তো দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি কেউ।

৯/১১ স্মরণে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের 'দ্য লাইটেনিং ট্রিবউট'

তথ্য মতে, তৎকালীন সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি সংগঠন আফগানিস্তানের আল-কায়েদার তালেবান জঙ্গিরা চারটি মার্কিন যাত্রিবাহী বিমান ছিনতাই করে নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সেদিন এ আত্মঘাতি বিমান হামলা চালায়। এ সময় দুটি বিমান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর ও দক্ষিণ টাওয়ারে আঘাত হানে। নিমেষে ধসে পড়ে ভবন দুটি। আরেকটি বিমান নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে হামলা চালায় জঙ্গিরা। তবে চতুর্থ বিমানটি নিয়ে জঙ্গিরা পূর্ব নির্ধারিত স্থানে হামলা চালাতে চাইলেও যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিমানে থাকা দেশপ্রেমিক মার্কিনিরা সেদিন বাধ্য করেছিলেন জঙ্গিদের, পেনসিলভেনিয়ার আকাশেই সেই বিমানটির বিস্ফোরণ ঘটাতে। পরিকল্পিতভাবে চালানো নারকীয় এ ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞের জন্য ইসলামি জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদাকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগ।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-কায়েদার তখনকার নেতা ওসামা বিন লাদেনই ছিলেন হামলার রূপকার। ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে আত্মগোপন করে থাকা লাদেনকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ‘নেভি সিল’।

বিধ্বস্ত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কয়েকটি খণ্ড চিত্র

লাদেনের মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে একরম বিজয়ীই ঘোষণা করেছিলেন বারাক ওবামা। তিন বছর পরও কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। এখনো বিশ্বের এখানে-ওখানে চলছে জঙ্গি হামলা।

জঙ্গি গোষ্ঠী আল-কায়েদা দৃশ্যত কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও আফ্রিকায় স্কুল থেকে দুই শতাধিক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে বোকো হারাম। বুর্কিনা ফাসোতে এক হামলায় মুহূর্তে শেষ ১৪০ প্রাণ, বিধস্ত শ্রীলঙ্কার বুকে স্তব্ধ দাঁড়িয়ে রক্তাক্ত যিশু! বাণিজ্যিক বিপনীতে অতর্কিত হামলায় প্রাণ যাচ্ছে মানুষের। ইরাকের বেশ বড় একটা অংশ দখল করে নিয়ে বিশ্বজুড়ে ইসলামি খেলাফত কায়েমের ঘোষণা দিচ্ছে ইসলামিক স্টেট (আইএস বা আইসিস)। আইএস-এর বিরুদ্ধেও ‘যুদ্ধ পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে।

টুইন টাওয়ারের ধ্বংসস্তুপ

সব মিলিয়ে নতুন এক বার্তা বরণেই নাইন ইলেভেনের ১৮তম বার্ষীকিতে ৩ হাজার নিহত, অসংখ্য আহত এবং তাদের পরিবার-পরিজনের প্রতি শ্রদ্ধা, সমবেদনা জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে শোকার্ত মানুষের প্রিয় হারানো সেই মুহূর্তের প্রতি সারা পৃথিবী জানাচ্ছে নিরব শ্রদ্ধাঞ্জলি।
নিউ ইয়কের্র ‘দ্য ন্যাশনাল সেপ্টেম্বর ইলেভেন মেমোরিয়াল মিউজিয়াম’-এ জমবে হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়। গত মে মাস থেকে উন্মুক্ত করে দেয়া ‘সেপ্টেম্বর ইলেভেন মেমোরিয়াল মিউজিয়াম’-এ গিয়ে এ পর্যন্ত ৯ লাখেরও বেশি দর্শনার্থী ১৮ বছর আগে নিহত হওয়া মানুষের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আজ দর্শনার্থীর সংখ্যা ১৫ লাখ হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউইয়র্কে ৯/১১র মেমোরিয়াল

আজও হয়তো কর্মব্যস্তত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দপ্তরগুলোতে জমবে হাজারো মানুষের ভিড়। আজও প্রাণ চাঞ্চল্যে ভরে থাকবে পৃথিবীর অন্যতম কর্মব্যস্ত নগরী, নিউইয়র্ক। কিন্তু এই সবকিছু ছাপিয়ে হয়তে হৃদয়ের কোনে একটুকরো আতঙ্কের অস্বস্তি আজও নিঃশ্বাস ভারি করে রাখবে তাদের।

সূত্র : ফক্স নিউজ


টিএফ

আরও পড়ুন

Islami Bank