• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০১৯, ০৯:৫৬ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : নভেম্বর ৬, ২০১৯, ০৯:৫৬ পিএম

লংমার্চে বাম ও কংগ্রেস

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অভিনব দৃশ্যের অপেক্ষা

দীপঙ্কর দাশগুপ্ত, কলকাতা 
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অভিনব দৃশ্যের অপেক্ষা
যৌথ বৈঠকে সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী, সিপিআইর ডি রাজা, মঞ্জকুমার মজুমদার, কংগ্রসের সোমেন মিত্র, প্রদীপ ভট্টাচার্য প্রমুখ - ছবি : জাগরণ

গত কয়েক মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যে কয়েকটা উল্লেযোগ্য ঘটনা হয়েছে এর মধ্যে অন্যতম হল চিরবিবদমান দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের কাছাকছি আসা। শুধু কাছাকাছি আসাই নয়, দুটি রাজনৈতিক সংগঠনের সমঝোতা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে একসঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচিও চূড়ান্ত করে ফেলেছে তারা। প্রদেশ কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট উভয় সূত্রের খবর অনুযায়ী চলতি মাসের শেষে (৩০ নভেম্বর) তারা দীর্ঘ ২৮৩ কিলোমিটার পথে লংমার্চ করবে। 

রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছে, বাম ও কংগ্রেসের বৈরিতা স্বাধীনতার পর থেকেই গোটা ভারতের কাছে অতি পরিচিত একটি রাজনৈতিক দৃশ্য। এর মধ্যে রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে বেশ কয়েকবার দুটি দল কাছাকাছি এলেও, তা করেছে তাদের নীতি এবং আদর্শগত দূরত্ব বজায় রেখেই। তবে এই প্রথম দুটি দল একযোগে লংমার্চের মতো কর্মসূচি হাতে নেয়ায় নতুন এক রাজনৈতিক অবস্থানের সম্ভাবনার দেখা মিলতে পারে। সেক্ষেত্রে দৃশ্যটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যে অভিনব একটা ব্যাপার হতে চলেছে তাতে কোনো সন্দেহই নেই।

দুই দলের নেতারাই বলেছেন, রাজ্যে বর্তমানে শাসক দল তৃণমূল এবং তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলা বিজেপি, উভয়ই সংবিধানের প্রতি বিশ্বস্ততার কোনো প্রমাণ রাখতে পারেনি। পাশাপাশি দুটি দলই ধর্ম এবং জাতপাতের রাজনীতি করে রাজনৈতিক এলাকা দখলের চেষ্টায় ব্যস্ত। ফলে দুটি প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং সংবিধানবিরোধী দলের বিরুদ্ধে বিরোধী (ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক এবং প্রগতিশীল মনোভাবাপন্ন) দলগুলোর জোট বাঁধা একরকম রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা ছিল। সময়ের দাবিতে সেটাই বাস্তব রূপ পেয়েছে মাত্র।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র যেমন বলেছেন, রাজ্যে তৃণমূল এবং দিল্লিতে বিজেপি, দুটি দলই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে চলেছে। এ রাজ্যে ওপরে ওপরে কুস্তি করছে এমন ভাব দেখালেও আসলে দুটি দলই তলায় তলায় দোস্তি করে রেখেছে। একই মন্তব্য করেছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান তথা সিপিআইএম পলিটব্যুরোর সদস্য বিমান বসু। তার মতে, সাধারণ মানুষের জনজীবনের যন্ত্রণা থেকে নজর ঘুরিয়ে রাখতেই এই দুটি শাসক দল একদিকে উগ্র ধর্মান্ধ রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, আবার অন্যদিকে নিজেদের মধ্যে লোকদেখানো লড়াইও করছে। মাঝখান থেকে সারা দেশে তৈরি হচ্ছে অস্থির, দমবন্ধ করা একটা পরিবেশ। এ থেকে মুক্তির সন্ধানেই বাম ও কংগ্রেস একসঙ্গে যৌথ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আসন্ন তিনটি আসনে উপনির্বাচনেও সেই মতো আসন ভাগাভাগি করে নিয়েছে তারা। সোমেন মিত্র এবং বিমান বসু দুজনেই বলেছেন বাম ও কংগ্রেস তাদের রাজনীতির বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই যৌথ আন্দোলন করবে। শুধু উপনির্বাচন পর্যন্তই নয়, এই জোট অটুট থাকবে দিল্লি থেকে বিজেপি এবং পশ্চিমবঙ্গের শাসনক্ষমতা থেকে তৃণমূলকে উৎখাত করা পর্যন্ত।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাঁচানোর দাবিসহ দিল্লি ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আর্থিক নীতি সম্পর্কিত নানা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রেলকারখানা চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভের গেট থেকে ২৮৩ কিলোমিটার পথ হাঁটার কর্মসূচি নিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। বিজেপি ও তৃণমূল বিরোধী এই সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম হল সিপিআই(এম)-র শ্রমিক সংগঠন সিআইটিইউ এবং কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসি। এই শ্রমিক সংগঠনগুলোর পদযাত্রায় রাস্তায় নামতে চলেছে বাম ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। বামেরা তো আছেই, তাদের অনুরোধে কংগ্রেসও তাদের সমস্ত শাখা সংগঠনগুলোকে এই মিছিলে (লংমার্চ) অংশগ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে। চিত্তরঞ্জন থেকে আগামী ৩০ নভেম্বর লংমার্চ শুরু হয়ে কলকাতায় পৌঁছবে ১১ ডিসেম্বর। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে কোচবিহার থেকে এক পদযাত্রা শুরু হয়ে শিলিগুড়িতে আসবে ১০ ডিসেম্বর। 
সিপিআই(এম) পশ্চিমবঙ্গ সম্পাদক সূর্য মিশ্র বলেছেন, আসন সমঝোতার পাশাপাশি গণআন্দোলনেও তারা এবার একসঙ্গেই চলবেন।
কিছুদিনের মধ্যেই ভারতের সুপ্রিম কোর্টে অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার কথা। রায় বেরনোর পরে পরিস্থিতি বুঝে কলকাতাসহ গোটা রাজ্যে বাম ও কংগ্রেস নিজেদের পতাকা নিয়ে দ্রুত যেন পথে নামতে পারে, সেই আলোচনাও হয়ে রয়েছে দুপক্ষের মধ্যে। আর এ সবের মধ্যেই তিনটি কেন্দ্রে উপনির্বাচনে যৌথ প্রচারের মঞ্চও তৈরি হয়ে আছে। এমনকী প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতেও দুই পক্ষের নেতারা একসঙ্গেই গেছেন। প্রচারেও এক মঞ্চে দেখা যাবে উভয় শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের।

এফসি

আরও পড়ুন