• ঢাকা
  • রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১, ২০১৯, ০৮:২৫ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ডিসেম্বর ১, ২০১৯, ০৮:২৭ পিএম

তেলঙ্গানায় ধর্ষণকাণ্ড

চিৎকার বন্ধ করতে মুখে ঢেলে দেয়া হয়েছিল মদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চিৎকার বন্ধ করতে মুখে ঢেলে দেয়া হয়েছিল মদ
ধৃত চার অভিযুক্ত -ছবি : সংগৃহীত (আনন্দবাজার)

তেলঙ্গানার চিকিৎসককে ধর্ষণের সময় চিৎকার বন্ধ করতে মুখে হুইস্কি ঢেলে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। ধর্ষণের পর নিজেদের ট্রাকে করেই মৃতদেহ অন্যত্র নিয়ে গিয়েছিল তারা। রাস্তায় কিনেছিল পেট্রোল। ধৃত চার অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের পর এমনই রিপোর্ট শনিবার (৩০ নভেম্বর) আদালতে জমা দিয়েছে তেলঙ্গানার সাইবারাবাদ পুলিশ। তাতেই উঠে এসেছে এমনই সব ভয়ঙ্কর তথ্য। পাশাপাশি গোটা ধর্ষণকাণ্ড কখন, কীভাবে ঘটিয়েছিল লরিচালক ও খালাসিদের চার জনের দলটি, তারও প্রায় পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ আদালতে জমা দিয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সকালে হায়দ্রাবাদের অদূরে চাতানপল্লির কাছে একটি কালভার্টের নিচে থেকে উদ্ধার হয় ওই তরুণী চিকিৎসকের অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ। ধর্ষণ ও পুড়িয়ে মারার অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমে চার অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার (৩০ নভেম্বর) তাদের আদালতে তোলা হয়। ধৃতদের ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

গ্রেফতারের পর থেকে আদালতে পেশ করার আগে পর্যন্ত পুলিশের জিম্মায় থাকাকালীন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বয়ান নেয় পুলিশ। পুলিশের দাবি, ধৃতদের বক্তব্য অনুযায়ী পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ মেলানো হয়েছে। তার পরেই ঘটনাক্রম সাজিয়ে আদালতে জমা দেয়া হয়েছে।

রোববার (১ ডিসেম্বর) তার কিছু অংশ উঠে এসেছে সংবাদ মাধ্যমে। পুলিশের সেই তথ্য অনুযায়ী, ধর্ষণের সময় চিকিৎসক চিৎকার করছিলেন। সেটা আটকাতে মূল অভিযুক্ত জুল্লু নবীন তার মুখে মদ ঢেলে দিয়েছিল। জুল্লু নবীন ছাড়া বাকি অভিযুক্তরা হল লরি চালক মহম্মদ আরিফ, জল্লু শিবা এবং চিন্তাকুনটা চেন্নাকেশাভুলু।

পুলিশের জমা দেয়া ওই বিবরণেই উঠে এসেছে গোটা ধর্ষণকাণ্ডের সময় সারণি এবং বিবরণ। কী ভাবে পরিকল্পনা করেছিল অভিযুক্তরা, কী ভাবে ধর্ষণের পর দেহ লোপাট এবং পোড়ানো হয়েছিল— সবই উল্লেখ করা হয়েছে পুলিশের ওই রিপোর্টে।

গণধর্ষণের ঘটনাক্রম

● ২৭ নভেম্বর, বিকেল ৫.৩০ — মূল অভিযুক্ত জুল্লু নবীন এবং লরি চালক আরিফ কয়েক বোতল মদ কেনে। সামসাবাদ টোল প্লাজার কাছে লরির কেবিনের মধ্যে বসে মদ্যপান করছিল চার জন।

● সন্ধ্যা ৬.০০— চার দুষ্কৃতী দেখে, তাদের লরির পাশেই একটি স্কুটি দাঁড় করিয়ে রাখছেন এক তরুণী। তারপর তিনি একটি ক্লিনিকে ঢুকে যান। তখনই চার জন ধর্ষণের পরিকল্পনা করে। স্কুটির পিছনের চাকা পাংচার করে দেয় নবীন।

● রাত ৯.০০— এর পর চার দুষ্কৃতী তাদের লরিটি প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে থোণ্ডাপল্লির কাছে নিয়ে যায়। গাড়ি চালাচ্ছিল আরিফ।

● রাত ৯.১৮— নির্যাতিতা তরুণী স্কুটির কাছে এলেন। কিন্তু দেখলেন স্কুটি পাংচার।

● রাত ৯.৩০ থেকে ভোর ৪— এক অভিযুক্ত শিবা তরুণীকে সাহায্যের নাম করে স্কুটিটি এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে এসে তাকে বলে, সমস্ত মেরামতির দোকান বন্ধ। এরপরেই সমূর্তি ধারণ করে ওই চারজন। তরুণীকে জাপটে ধরে টেনে হিঁচড়ে লরির পিছনে একটি পরিত্যক্ত এলাকায় নিয়ে যায়। মূল অভিযুক্ত নবীন তরুণীর মোবাইল কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে দেয়।

তারপরেই তরুণী চিকিৎসক চিৎকার করতে শুরু করলে নবীন তার মুখে মদ ঢেলে দেয়। তার পর চলে নৃশংস অত্যাচার ও ধর্ষণ। তার জেরে তরুণী সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরলে ফের চিৎকার করতে শুরু করেন। তখনই দুষ্কৃতীরা তাকে খুনের পরিকল্পনা করে।

আরিফ তার মুখ ও নাক চেপে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দমবন্ধ হয়ে ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তরুণী। নবীন তার ফোন, ঘড়ি ও পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে নেয়।

এরপর শুরু হয় দেহ লোপাটের কাজ। চারজন মিলে দেহটি তাদের ট্রাকে তোলে। শিবা ও নবীন তরুণীর স্কুটি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়। রাস্তায় শিবা একটি বোতলে পেট্রোল কিনে নেয়। এর পর লরি চালিয়ে ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর চাতানপল্লির কাছে কালভার্টের নিচে নিয়ে যায়। মৃতদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।

● ২৬ নভেম্বর, ভোর ৪— ভোর ৪ টা নাগাদ চারজন আরামগড়ে পৌঁছায়। সেখান থেকে শিবা, নবীন ও চেন্নাকেশাভুলু নিজের নিজের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়।

পুলিশের বিরুদ্ধেও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করতে গেলে তাদের একাধিক থানায় ঘোরানো হয় বলে অভিযোগ। ফলে তারা অভিযোগ দায়ের করতেই পারেননি। প্রথমে অভিযোগ সাইবারাবাদের পুলিশ কমিশনার ভি সি সজ্জানর বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ওই চারজনকে শনাক্ত করেন তদন্তকারী অফিসাররা। সিসিটিভিতে নির্যাতিতার ছবিও ধরা পড়ে। সারারাত মহিলার সন্ধানে চলে তল্লাশি। স্থানীয় সব কটি পাংচারের দোকানে খোঁজ নেয়া হয়। অবশেষে সকাল ৭টায় উদ্ধার হয় মৃতদেহ। বিকেল ৩টা নাগাদ পরিবারের লোকজনকে অভিযোগ দায়েরের জন্য ডেকে আনা হয়।

এসএমএম

আরও পড়ুন