• ঢাকা
  • সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০, ৭ মাঘ ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২০, ০১:১৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৪, ২০২০, ০১:১৪ পিএম

সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি করলেন রাজ্যপাল

দীপঙ্কর দাশগুপ্ত, কলকাতা 
সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি করলেন রাজ্যপাল
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সিদ্ধান্তে আবারও এক নতুন মাত্রায় পৌঁছলো রাজ্যপাল-রাজ্য সরকার সংঘাত। এক বেনজির সিদ্ধান্তে রাজ্যপাল রাজভবনে ডেকে পাঠিয়েছেন সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের। 

আগামী ১৭ জানুয়ারি বেলা ১২টায় রাজভবনে এই সর্বদলীয় বৈঠকের আলোচ্য বিষয় সেই দুটি বিতর্কিত বিল, যা নিয়ে এই রাজ্যে গত কয়েক মাস যাবৎ চলছে রাজ্য-রাজ্যপাল তুমুল সঙ্ঘাত। উল্লেখ্য পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ হওয়া এই দুটি বিল এখনও সই না করে আটকে রেখেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। বিলদুটির ব্যাপারে তিনি রাজ্য সরকারকে কিছু প্রশ্ন করে উত্তর পাননি। দু’পক্ষের অনড় মনোভাবের দরুন গুরুত্বপূর্ণ বিলদুটি কার্যকর করা যায়নি।
 
সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রাজভবনে সর্বদলীয় বৈঠকে আসলে বড় ধরনের এক সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি করলো, যার কোনও পূর্বনজির নেই স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতবর্ষে।

রাজভবন সূত্রে জানানো হয়েছে, দুটি বিতর্কিত বিল নিয়ে আলোচনা করতেই মূলত এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। তবে এছাড়া আরও কিছু সাম্প্রতিক গুরুতর বিষয়ও উঠে আসতে পারে এই বৈঠকে। বৈঠকের কথা ট্যুইটারেও জানিয়েছেন রাজ্যপাল। সোমবার তিনি লিখেছেন, যেহেতু জনসমক্ষে কয়েকটি তথ্য একপাক্ষিকভাবে দেওয়া হচ্ছে এবং আরও কয়েকটি তথ্য অসমর্থনযোগ্য, সে কারণেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।
বিলদুটি হল তপশীলি জাতি-উপজাতি কমিশন গঠন বিল এবং গণপিটুনি প্রতিরোধ বিল। উল্লেখ্য এই দুটি বিল পাশ হওয়ার পরপরই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছিল। রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় এই বিলদুটিতে স্বাক্ষর করেননি। ফলে বিলদুটি পাশ হওয়া সত্ত্বেও কার্যত এখনও ঝুলে রয়েছে। রাজ্যপালের স্বাক্ষর না করার প্রতিবাদে সে সময় বিধানসভায় বিক্ষোভও দেখিয়েছিল শাসকদল তৃণমূল।

এই দুটি বিলের মধ্যে গণপিটুনি প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিলটি নিয়ে রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের বিরোধ চরম মাত্রায় পৌঁছেছিল। রাজ্যপাল সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন, যে বিলটি পাশ করানো হয়েছে আর তাঁর কাছে যে বিলটি পাঠানো হয়েছিল দুটির ভাষ্যে বেশ কয়েক জায়গায় অসঙ্গতি এবং গরমিল রয়েছে। রাজ্য সরকার তা মানতে চায়নি। উল্টে ভাষার হেরফের বলে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চেয়েছে। ক্ষিপ্ত রাজ্যপাল সে ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে বিধানসভার কার্যবিবরণীও চেয়ে পাঠিয়েছিলেন। তাও রাজ্য সরকারের তরফে রাজভবনে পাঠানো হয়নি। এরপরেই ওই বিলে স্বাক্ষর না করে ফেরত পাঠিয়ে দেন রাজ্যপাল ধনখড়। কার্যত তারপর থেকেই চূড়ান্ত পর্যায় পৌঁছয় দু’পক্ষের সঙ্ঘাত। দু’তরফের একের পর এক তীক্ষ্ণ মন্তব্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলও।

বিএস