• ঢাকা
  • রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২০, ১২:১৮ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ১৭, ২০২০, ১২:১৮ পিএম

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আজ মিয়ানমার যাচ্ছেন

জাগরণ ডেস্ক
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আজ মিয়ানমার যাচ্ছেন
অং সান সুচি ও শি জিনপিং - ফাইল ছবি

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুদিনের সফরে আজ শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) মিয়ানমার যাচ্ছেন। চীন-মিয়ানমার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান।

রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে অভিযোগে মিয়ানমার থেকে পশ্চিমাবিশ্ব যখন মুখ ফিরিয়ে ‍নিচ্ছে, ঠিক তখনই বড় বিনিয়োগ নিয়ে কোটি কোটি ডলারের অবকাঠামো চুক্তি করতে দেশটিতে সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং। ১৯ বছরের মধ্যে তিনিই প্রথম কোনো চীনা প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিয়ানমার যাচ্ছেন। ২০০৯ সালেও শি জিনপিং মিয়ানমার সফরে গিয়েছিলেন, তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। 

সফরের প্রথম দিন রাজধানী নেপিদোতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি, সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন শি জিনপিং। এরপর চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরের আওতায় উভয় দেশ বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করতে পারে।

এ সফরে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে ১৩০ কোটি ডলারের গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, পূর্বদিকে দ্রুতগামী ট্রেন এবং বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র ইয়াঙ্গুনে আরো কিছু শিল্প গড়ে তোলা নিয়ে চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।

রাখাইনে কিয়াউকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে চীন নাগালে পেতে চায় বঙ্গোপসাগর এবং এর মাধ্যমে সরাসরি ভারত মহাসাগরকে। তা ছাড়া, দ্রুতগামী ট্রেনের মাধ্যমেও চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের ওই বন্দরকে জোড়ার পরিকল্পনা রয়েছে বেইজিংয়ের।

এ পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর প্রকল্পের পথ সুগম করা এবং মিয়ানমারে সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে চীনের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করাই শি জিনপিংয়ের সফরের লক্ষ্য।

কিয়াউকফিউ বন্দর প্রকল্পের জন্য চীন ৭২০ কোটি ডলার বিনিয়োগে ইচ্ছুক ছিল। কিন্তু চীনা লগ্নিতে ঋণের ফাঁদে পড়ে দেশ বিকিয়ে যাওয়ার ভয়ে সেই বিনিয়োগ ১৩০ কোটি ডলারে নামিয়ে এনেছে মিয়ানমার। বন্দর নির্মাণ ছাড়াও বিস্তীর্ণ শস্যভূমি ও বন এলাকায় চীনের বিনিয়োগে গার্মেন্টস ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা গড়ে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে।

মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক অতীতে কখনো কখনো সমস্যাশঙ্কুল থাকলেও রোহিঙ্গা প্রশ্নে চীন মিয়ানমারের পাশে দাঁড়ানোর পর থেকে দুদেশের সম্পর্ক অনেকটাই উষ্ণ হয়েছে।

নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থেই মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমর্থন দিয়ে আসছে চীন। সম্প্রতি মিয়ানমারে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর কোনো চাপ সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছিলেন। 

রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। এ মামলার অন্তবর্তীকালীন আদেশ ২৩ জানুয়ারি।

এফসি