• ঢাকা
  • শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা

মুজিববর্ষ
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৪, ২০২০, ১২:২০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ২৪, ২০২০, ১২:২৫ পিএম

অপ্রতিরোধ্য করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বিশ্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অপ্রতিরোধ্য করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বিশ্ব

ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। চীন থেকে ছড়িয়ে পরা এই ভাইরাসে দেশটিতে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে ৮শ’তে। সংক্রমণ ঠেকাতে হুবেইসহ পাঁচটির বেশি প্রদেশের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে চীন সরকার। হংকং, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম এবং সিঙ্গাপুরে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে।

এরইমধ্যে দাবি করা হচ্ছে কিং কোবরা বা গোখরা সমগোত্রীয় চীনা কালাচ সাপ এই ভাইরাসের অন্যতম বাহক। ডিএনএ পরীক্ষায় প্রাপ্ত গবেষণা তথ্যেরভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন ধারনার কথা জানিয়েছে বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউ অ্যাটলাস। তবে বিশেষ এক প্রকার সামুদ্রিক মাছ থেকেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   

নিষিদ্ধ উহান শহর এখন প্রায় জনশূন্য

১ কোটির বেশি মানুষের শহর উহানের রাস্তাঘাট এখন একরকম জনশূন্য বলা চলে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস আতঙ্কে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না কেউই। নতুন এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বৃহস্পতিবার হুবেই প্রদেশের বিমান, ট্রেনসহ সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া মানুষের চলাফেরা এবং একে অপরের সংস্পর্শে আসতে না দেয়ার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করেছে স্থানীয় সরকার। আগাম টিকিট নিয়ে রাখা পর্যটক ছাড়া অন্য কোনো ফ্লাইটের বিমান ছেড়ে যায়নি প্রদেশটি থেকে।

মহামারি ঠেকাতে হুবেই প্রদেশ জুড়ে একের পর এক শহরে গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উহান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে শহরের মিউনিসিপাল গভর্নমেন্ট। ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে হুবেই প্রদেশের পাশাপাশি হুয়াংগ্যাং, এঝু, সিয়ানতাও, চিবিসহ আরো বেশ কয়েকটি প্রদেশে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে চীন সরকার।

চীনজুড়ে পশু থেকে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেই দেশটির বিশেষ অঞ্চল হংকংয়ে প্রাথমিকভাবে দু’জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ দফতর। করোনার উপসর্গ দেখা দেয়া ২১ ব্যক্তি ভাইরাসমুক্ত বলেও নিশ্চিত করে দক্ষিণ কোরিয়া।

ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জাপান। বৃহস্পতিবার উহান থেকে দুটি বিমান এসে পৌঁছানোর পর চীন ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে দেশটি। তাইপেই থেকে আসা বিমানের যাত্রীদের স্ক্রিনিং পরীক্ষার পরই কেবল প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে ফিলিপিন্সের বাসিন্দাদের।

উহান থেকে আসা সবশেষ ফ্লাইটটির যাত্রীদের পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ইতালি কর্তৃপক্ষ জানায়, এখন পর্যন্ত কোন যাত্রীর মাঝে করোনার উপসর্গ লক্ষ্য করা যায়নি। উহানের ফ্লাইটের যাত্রীদের স্ক্রিনিং টেস্টের পর একইকথা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষ।

এদিকে চীন সফরের পর করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা এক ব্যক্তিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে যুক্তরাজ্য। হাঁচিকাশির মাধ্যমে সংক্রমিত শ্বাসযন্ত্রে অসুখ সৃষ্টিকারী এ ভাইরাস প্রতিরোধে যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

এদিকে চীনের বাইরেও রহস্যময় ভাইরাসটির বিস্তার ঘটায় বিশ্বজুড়ে এটি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় এই ভাইরাসের বিস্তার রোধ ও মৃত্যু ঠেকানোর বিষয়ে আলোচনার জন্য বুধবার জেনেভায় এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) কর্মকর্তারা।

বৈঠকে এর বিস্তার রোধে বিশ্ব জুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই ভাইরাসের উৎস খোঁজার চেষ্টা চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভাইরাসটির প্রাথমিক উৎস প্রাণী হতে পারে। তবে চীনা কর্মকর্তাদের দাবি এই ভাইরাস ছড়ানোর সঙ্গে উহানের একটি সামুদ্রিক খাবারের বাজারের সম্পর্ক রয়েছে। করোনা ভাইরাস ঠেকানোর প্রচেষ্টা জোরদার করেছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো। ভাইরাসটিকে ২০১৯-এসসিওভি নামে ডাকা হচ্ছে।

তবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বিশ্বব্যাপী জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারির মতো পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এসকে

আরও পড়ুন