• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২০, ০৫:৪৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২০, ০৫:৪৩ পিএম

পার্লামেন্টে দুই বাংলাদেশি নেতাকে স্মরণ মোদীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পার্লামেন্টে দুই বাংলাদেশি নেতাকে স্মরণ মোদীর
বক্তব্য রাখছেন নরেন্দ্র মোদী ● ইন্টারনেট

ভারতের লোকসভায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুইজন প্রয়াত বাংলাদেশি নেতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন। তারা হলেন– ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত ও যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল।

বক্তব্যে এ দুই নেতাকে নিয়ে ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন মোদী।

তিনি বলেন, ভূপেন দত্ত আর যোগেন মণ্ডল ছিলেন সেই বিরল হিন্দু রাজনীতিবিদদের অন্যতম, যারা দেশভাগের সময় পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশ) থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

মোদী তার ভাষণে আরও বলেন, পরে তাদের দুজনকেই পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে চলে আসতে হয় আর তাদের মৃত্যুও হয় ভারতেই। ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও হন।

৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) পার্লামেন্টে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে এ দুই প্রয়াত বাংলাদেশি নেতার ইতিহাস টেনে আনেন মোদি।

ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত যশোরের সন্তান ও স্বাধীনতা সংগ্রামী এক নেতা। যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের জন্ম বরিশালে। তিনি দেশভাগের পর পাকিস্তান সরকারের প্রথম আইনমন্ত্রী ছিলেন।

হঠাৎই মোদী এ দুই বাংলাদেশির নেতাকে কেন স্মরণ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী? এ প্রশ্ন ছুড়েছেন অনেকে।

বিশ্লেষকদের মন্তব্য, বির্তকিত এনআরসি সংশোধনী আইনের সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়েই মোদী এ দুই নেতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন।

সে সময় পাকিস্তান গঠন পর্বে সংবিধান প্রণয়নসহ মন্ত্রিসভায় ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত ও যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

এরপর পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন নীতিতে দ্বিমত পোষণ করে এ দুই নেতা প্রতিবাদ করেন ও সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত পাকিস্তানের সংবিধান সভা থেকে আর যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল সে দেশের প্রথম মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

ব্রিটিশ তাড়াও বা ভাগাও আন্দোলনের সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত। বিপ্লবী সংগঠন অনুশীলন সমিতির সক্রিয় সদস্যও ছিলেন ভূপেন্দ্র। জীবনের প্রায় ২৩ বছর জেলে কাটিয়েছেন তিনি। জেলে টানা ৭৮ দিন অনশনের ইতিহাস এ রাজনীতিবিদেরই রয়েছে।

এসএমএম