• ঢাকা
  • বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০, ১২:০৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০, ১২:০৭ পিএম

কভিড ভাইরাস নিয়ে নিবন্ধ লিখে বিপাকে অধ্যাপক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কভিড ভাইরাস নিয়ে নিবন্ধ লিখে বিপাকে অধ্যাপক
সুনসান নীরবতায় চীনের একটি ব্যস্ততম সড়ক ● ইন্টারনেট

কভিড-নাইনটিন (করোনাভাইরাস) সঙ্কট নিয়ে প্রেসিডেন্ট শি চিনফিংয়ের ভূমিকার সমালোচনা করে একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন চীনা অধ্যাপক শু ঝানগ্রান। সেটি ছাপাও হয়েছিল। তারপর থেকেই গৃহবন্দি তিনি।

চিনা সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বস্তুত শুয়ের বন্ধুরা জানাচ্ছেন, এখন ইন্টারনেট পরিষেবাও পাচ্ছেন না অধ্যাপক।

এ মাসেই প্রকাশিত হয়েছিল শুয়ের নিবন্ধ— ‘ভাইরাল অ্যালার্ম : হোয়েন ফিউরি ওভারকামস ফিয়ার।’

নিবন্ধে শু খোলাখুলি আক্রমণ করেছিলেন সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও কণ্ঠরোধের বিরুদ্ধে।

৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) মারা যান হুইসলব্লোয়ার চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াং। তিনিই প্রথম সহকর্মীদের ভাইরাস নিয়ে সতর্ক করতে চেয়েছিলেন। নিরাপত্তা বিভাগ তার পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করে বলে অভিযোগ। শাস্তিও পেতে হয় তাকে। তারপর থেকেই সরকারি নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে জনমত জোরালো হয়েছে। 

দেশের বাইরে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ইতিহাসবিদ হং ঝেনকুয়াই বলেছেন, পার্টির শাসন এবং নিয়ন্ত্রণের নেতিবাচক দিকগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে লিয়ের মৃত্যু। মানুষের মনে এর সাংঘাতিক প্রভাব পড়েছে। 

তবুও দেশের বিশিষ্টজন এবং আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি— এই সঙ্কটে সরকারের বিরুদ্ধে আপত্তি উঠলেও ভাবার কোনও কারণ নেই যে চীনা কমিউনিস্ট পার্টিতে মূলগত কোনও পরিবর্তন ঘটবে।

অধ্যাপক শু যখন নিবন্ধটি লিখেছিলেন, তিনিও জানিয়েছিলেন, শাস্তি পাওয়ার জন্য মনে মনে প্রস্তুত তিনি। এরই মধ্যেই তাকে শিক্ষকতা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এক বছর আগেও কিছু সমালোচনা লেখায় করায় তার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয় বলে দাবি।

সাম্প্রতিক নিবন্ধের শেষে শু লিখেছিলেন, সহজেই বুঝতে পারছি যে ফের শাস্তি পেতে হবে। হয়তো বা এটাই শেষ লেখা!। 

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শুয়ের এক বন্ধু  জানান, চীনা নববর্ষের ছুটি কাটিয়ে বেজিংয়ে ফিরে আসার পরেই পুলিশ শু-কে গৃহবন্দি করেছে। বন্ধুর কথায়, ওরা বলেছে, বাইরে থেকে এসেছে বলে শু-কে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হচ্ছে।প্রথম দিকে শুয়ের বাড়ির বাইরে দু’জন রক্ষীকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। গত সপ্তাহের শেষে কড়াকড়ি কমানো হলেও শুয়ের ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। উইচ্যাট, ওয়েইবো ইত্যাদি চীনা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এই অধ্যাপককে। আর এক বন্ধু কোনওমতে এসএমএসে যোগাযোগ করতে পেরেছেন শুয়ের সঙ্গে। তিনিও নাম জানাতে ভয় পাচ্ছেন। বলেছেন, ও এখনও নজরদারিতে আছে বলেই আমার আশঙ্কা। আমার প্রশ্নের সরাসরি উত্তরও দেয়নি। শুধু বুঝিয়েছে, উদ্বেগের কিছু নেই।  

ইতিহাসবিদ হং ঝেনকুয়াইয়ের কথায়, বাকস্বাধীনতার কোনও জায়গা নেই চীনে। ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণের নানা উপায় রয়েছে। কখনও বেঁচে থাকাটাও অসম্ভব করে দেয়া হবে, শিক্ষাবিদরা চাকরি খোয়াবেন, লেখকরা লিখতে পারবেন না, কেউ আপনাকে চাকরি দেয়ার সাহসও দেখাবে না। সমাজের মূলস্রোত থেকে সরিয়ে দেয়া হবে আপনাকে। বন্ধু থাকবে না। ব্যক্তিস্বাধীনতা তো ভুলেই যান। এই জন্যই চীন ছেড়ে চলে গিয়েছেন অনেক বিশিষ্টজন। 

শি চিনফিংয়ের আমল থেকে সেই প্রবণতা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। আনন্দবাজার।

এসএমএম