• ঢাকা
  • বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০, ১২:৫৩ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০, ১২:৫৩ পিএম

বিদ্রোহীদের সঙ্গে বন্দি বিনিময়ে সম্মত ইয়েমেন সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিদ্রোহীদের সঙ্গে বন্দি বিনিময়ে সম্মত ইয়েমেন সরকার
প্রতীকী ছবি

ইয়েমেনে যুদ্ধরত বিদ্রোহীদের সঙ্গে বড় পরিসরে বন্দি বিনিময় করতে সম্মত হয়েছে সরকারি সেনারা। জর্ডানের রাজধানী আম্মানে হুথি বিদ্রোহী ও ইয়েমেন সরকারের মধ্যে সাত দিনব্যাপী চলা বৈঠকের পর অবশেষে এই বন্দি বিনিময়ের ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ইয়েমেনে নিযুক্ত জাতিসংঘ দূত মার্টিন গ্রিফিথ বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দ্রুত বন্দিদের তালিকা বিনিময়ের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি শুরু হবে।

ইয়েমেনে নিযুক্ত জাতিসংঘ দূত বলেছেন, এবার পক্ষগুলো আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে, মাঠ পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ বাড়তে থাকলেও তাদের ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনার আত্মবিশ্বাস রয়েছে। যদিও ঠিক কত সংখ্যক বন্দি বিনিময় করা হবে সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। 

বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৫ সালে ইয়েমেনে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ এখনো চলে আসছে। তখন ইরান সমর্থিত বিদ্রোহী সংগঠন হুথিদের ব্যাপক আক্রমণে রাজধানী সানা ছেড়ে পালিয়ে যান প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদি ও তার মন্ত্রিসভার সকল সদস্য। যদিও সৌদি প্রশাসন ঠিক তখন থেকেই হাদি সরকারকে সমর্থন জানিয়ে আসছে। যার অংশ হিসেবে পরবর্তীকালে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বারংবার বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি সমর্থিত সামরিক জোট।

চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে গত চার বছর যাবত একরকম মানবেতর জীবনযাপন করছে ইয়েমেনের সাধারণ জনগণ। বর্তমানে নারী ও শিশুসহ দেশটির প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি লোক নিরাপত্তা সংকটে ভুগছে। তাছাড়া প্রায় এক কোটির বেশি মানুষ এরই মধ্যে খাবারের জন্য বিদেশি সহায়তার আশায় অপেক্ষা করছে।

জাতিসংঘের ধারণা, একের পর এক বিধ্বংসী হামলার ফলে ২০১৬ সাল থেকে ইয়েমেনে প্রায় ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। তাছাড়া আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন আরও কমপক্ষে লক্ষাধিক লোক।

যার ধারাবাহিকতায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দেশটির উত্তরাঞ্চলে সৌদি আরবের একটি টর্নেডো বিমান ভূপাতিত হয়। হুথি বিদ্রোহীরা বিমানটি ভূপাতিত করার স্বীকারোক্তি দেয়। এর জবাবে ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি জোটের বিমান হামলায় দেশটির অন্তত ৩১ বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানি ঘটে।

মূলত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদির বিমান ভূপাতিতের স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর ভয়াবহ হামলাটি চালানো হয়। তবে সহিংসতা বৃদ্ধি সত্ত্বেও সংকট নিরসনে আলোচনা অব্যাহত রাখে দুই পক্ষ।

এসকে