• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০, ১০:২১ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০, ১০:৩০ পিএম

অনুসন্ধানি প্রতিবেদন- পর্ব: ১

কোভিড-১৯: মহাপ্রলয়ের অশনি সংকেত ‍‍‘ডিজিজ-এক্স‍‍’

এস এম সাব্বির খান
কোভিড-১৯: মহাপ্রলয়ের অশনি সংকেত ‍‍‘ডিজিজ-এক্স‍‍’

বিশ্বজুড়ে মহামারি আকার ধারন করেছে নোভেল করোনাভাইরাসজনিত প্রাণঘাতী সংক্রামক ব্যাধি কোভিড-১৯। রহস্যময় এই ভয়াবহ ব্যাধির উৎস্থল চীনের উহান শহর হতে তা ক্রমেই বিস্তার লাভ করছে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে। এর সংক্রমণে  আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭০ জনে। আর আক্রান্তের সংখ্যা ৭১ হাজারের বেশি। কিন্তু কোথা থেকে এই মৃত্যুমুখী অশুভ শক্তির উত্থান? এই অজানা রহস্যের সূত্রপাত কীভাবে? আর কী-ই বা অপেক্ষা করছে অদূর ভবিষ্যতের অজানা আগামীর মাঝে? চলুন তবে দৈনিক জাগরণের সঙ্গে সেই অজানা সত্যের সন্ধানে। জেনে নেয়া যাক অজ্ঞাত 'ডিজিজ-এক্স' থেকে নরখেকো কোভিড-১৯ এর উত্থানের কথা।  

প্রায় পাঁচ বছর পূর্বে, ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ- পৃথিবীর বুকে মহামারির প্রাদুর্ভাব ঘটাতে পারে এমন বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত সংক্রামক ব্যাধির একটি তালিকা গঠন করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে এ সকল ব্যাধি সম্পর্কে অনুসন্ধান ও গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে তালিকাটি প্রকাশ করে সংস্থাটি। এরপর ২০১৭, ২০১৮ ও সর্বশেষ ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ তালিকাটির একাধিক পরিবর্তীত সংস্করণ ও আরএন্ডডি ব্লুপ্রিন্ট প্রকাশ করা হয়।এই তালিকার মাঝে ছিল ক্র্যাইমেন-কঙ্গো (সিসিএইচএফ), নিপা ও হেনিপাভাইরাল, ইবোলা ও মারবার্গ, রিফট ভ্যালি ফিভার, সার্স, মার্স ও লাসসার মত আরও বেশ কয়েকটি ভাইরাসজনিত প্রাণঘাতী সংক্রামক ব্যাধির নাম।

২০১৭ সালের মাঝামাঝি সংস্থার বিশেষজ্ঞরা তাদের গবেষণায় এ প্রসঙ্গে স্বল্প পরিসরে কিছু নিশ্চিত তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। যার ভিত্তিতে জানা যায় যে, বিশেষ ধরণের ভাইরাসের সংক্রমণের মাধ্যমে এসকল ব্যাধির বিস্তার ঘটবে। যার মধ্যে অন্যতম- 'করোনাভাইরাস' নামের বিশেষ এক ধরণের ভাইরাস। যা একাধিক দুরারোগ্য ব্যাধির প্রাদুর্ভাব ঘটাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

তবে এদের মাঝে কেবল একটি মাত্র ভাইরাস এমন ছিল যা রয়ে যায় আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সম্পূর্ণ ধরা ছোঁয়ার বাইরে। অজ্ঞাত এই প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত অজানা ভয়াল ব্যাধিটিকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে বিবেচনায় নিয়ে নামকরণ করা হয় 'ডিজিজ এক্স'। যার বর্ণনায় বলা হয়, 'ডিজিজ এক্স- অনির্ধারিত ও রহস্যময় বিশেষ ধরণের প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত দুরারোগ্য সংক্রামকব্যাধি যা অদূর ভবিষ্যতে সারা বিশ্বব্যাপী প্রাদুর্ভাব সৃষ্টির মাধ্যমে মহামারির রূপ ধারণ করবে।'

সে সময় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়ে ছিল যে, তালিকাভুক্ত প্রত্যেকটি ব্যাধিই ম্যালাডাইজ প্রকৃতির সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ এবং এদের প্রতিরোধক বা প্রতিষেধক সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত চিকিৎসা বিজ্ঞান। আর তাই জরুরিভিত্তিতে সারা বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও গবেষকদের প্রতি তালিকাভূক্ত মরণ ব্যাধিগুলোর মোকাবিলায় প্রাক-প্রস্তুতি গ্রহণের জোরালো আহ্বানও জানানো হয়।

এর পরপরই বিষয়টি আমলে নিয়ে বিশ্বের বেশ কয়েকটি সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিজেদের অনুসন্ধানি তৎপরতা  শুরু করে। যাদের মাঝে অন্যতম, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংক্রান্ত গবেষণা সংস্থা ইকো হেলথ অ্যালায়েন্স। সংস্থাটি অনুসন্ধানি কার্যক্রম পরিচালনের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত এই সংক্রামক ব্যাধিগুলো পৃথিবীর কোন কোন অঞ্চলে প্রাদুর্ভাব ঘটাতে পারে সে সম্পর্কে আনুমানিক একটি ধারণা প্রকাশ করে। এক্ষেত্রে তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করে অজ্ঞাত সেই 'ডিজিজ এক্স' সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে।

সংস্থাটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য মতে জানা যায়, অজ্ঞাত 'ডিজিজ এক্স'-এর সংক্রমণ সৃষ্টিকারী অজানা সেই ভাইরাসের সন্ধানে নামার সময় তারা শুধু এটুকুই জানতেন যে, সচরাচর কোন ধরণের প্রাণী এ প্রকৃতির সংক্রামক ভাইরাসের বাহক হয়ে থাকে এবং এই অজ্ঞাত মরণব্যাধির সংক্রমণ সৃষ্টিকারী ভাইরাসটি সম্ভাব্য কোন বিশেষ ভাইরাস গোত্রের হতে পারে। এখান থেকেই অজানা শত্রুর খোঁজে মাঠে নামে ইকোহেলথের ভাইরাস হান্টাররা।

প্রাথমিক পর্যায়ে নিজেদের অত্যাধুনিক হটস্পট ম্যাপ প্রযুক্তির মাধ্যমে ইকোহেলথের ভাইরাস শিকারীরা খুঁজে নেয়ার প্রয়াস চালান, সাম্প্রতিক বিশ্বের কোথায় মৃত্যুপ্রলয় সৃষ্টিকারী এই অজ্ঞাত 'ডিজিজ এক্স'-এর প্রাণঘাতী অজানা ভাইরাসের উৎপত্তি ও বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ থাকতে পারে। এক পর্যায়ে অদূর ভবিষ্যতে মহামারির প্রাদুর্ভাব সৃষ্টির সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে তারা খুঁজে পান দক্ষিন ও দক্ষিন-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলকে। মাত্র দু'দশকে বিচিত্র ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের লীলাভূমি পৃথিবীর এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য হারে বনাঞ্চল হ্রাস, বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রতিকূল জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্যের দ্রুত বিলুপ্তির মত বিষয়গুলো যেন জানান দেয় অজানা প্রলয়ের অশনি সংকেতের।

সূত্র- ইকোহেলথ অ্যালায়েন্স

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করতেই  বিশেষজ্ঞদের ধারণা হয়, এই অঞ্চলের পরিত্যক্ত কোনো পাহাড়ি গুহা, গহীন বনের স্যাঁতস্যাঁতে অন্ধকার, দগদগে কাদা-পানির জলাভূমি বা সমুদ্রের অজানা তলদেশের কোথাও সবার অন্তরালে ঘাপটি মেরে আছে অজ্ঞাত কোনো এক ভয়াল অশুভ শক্তির কালো ছায়া।

চলবে......