• ঢাকা
  • বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০, ০৪:১৪ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০, ০৪:১৪ পিএম

ইতালিতে করোনায় মৃত্যু ১২ জনের, সতর্ক বাংলাদেশিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইতালিতে করোনায় মৃত্যু ১২ জনের, সতর্ক বাংলাদেশিরা

দ্রুত মহামারিতে রূপ নেওয়া করোনা ভাইরাসের প্রভাবে প্রতিদিন বিশ্বব্যাপী শতাধিক লোকের প্রাণহানি ঘটছে। প্রাণঘাতী ভাইরাসটির শনাক্তস্থল চীনের সীমানা পেরিয়ে এর প্রাদুর্ভাব আরও অন্তত ৩৫টি রাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়েছে। 

গোটা বিশ্ব যখন মহামারি এই ভাইরাস নিয়ে উদ্বিগ্ন, ঠিক তখনই চীনকে মৃত্যুপুরী বানিয়ে ভয়াবহ ভাইরাসটি থাবা বসিয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালিতে। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল পর্যন্ত রহস্যময় এই ভাইরাসে দেশটিতে প্রাণ গেছে অন্তত ১২ জনের। তাছাড়া আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৬ শিশুসহ কমপক্ষে ৩৭৮ জন।

দেশটির ন্যাশনাল সিভিল প্রোটেকশন সার্ভিসের প্রধান অ্যাঞ্জেলো বোরেলি বলেন, ইতালির পাঁচটি অঞ্চলে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। গোটা দেশে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৭৮ জন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, দেশটির লোম্বারদিয়া অঞ্চলে ২৪০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়া ভেনেতো, পিওমন্ত, সিসিলি, লিগুরিয়া, আদ্রিজে, লাছিও, এমিলা রোমানিয়া এবং তোস্কানো অঞ্চলে বেশকিছু লোক আক্রান্ত হয়েছেন। 

এ দিকে ইতালিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস দেশটিতে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার জানান, ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দূতাবাসের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ পোষণ করলেই রোম দূতাবাসের হেল্প ডেক্স নাম্বারে (333 744 1690, 389 475 6902) জানাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, মিলান (329 4305 ও 320 224 4829)তে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছেন।

উল্লেখ, দেশটিতে বর্তমানে ২ লক্ষাধিক বাংলাদেশি বসবাস করছেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ ভাইরাস মানুষ ও প্রাণীদের ফুসফুসে সংক্রমণ করতে পারে। ভাইরাসজনিত ঠান্ডা বা ফ্লুর মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। এ ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো- শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।

ভাইরাসটির সংক্রমণ থেকে বাঁচার উপায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা। তাই মানুষের শরীরে এমন উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা।