• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২০, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭
প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২০, ১১:৫২ এএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ৩, ২০২০, ১১:৫২ এএম

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন

প্রথম ধাপে মডার্না ভ্যাকসিনের সাফল্য, বাড়ছে আশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রথম ধাপে মডার্না ভ্যাকসিনের সাফল্য, বাড়ছে আশা
প্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি মডার্না উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের প্রথম ধাপের পরীক্ষায় চমকপ্রদ ফল পাওয়ায় দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরুর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এক বিবৃতিতে করোনা ভ্যাকসিন এমআরএনএ-১২৭৩ এর ব্যাপারে এই আশার খবর মডার্না দিয়েছে বলে সোমবার (২ জুন) জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল।
করোনাভাইরাসের লড়াইয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি ও শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিরলস কাজ করে চলেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থমকে যাওয়া বিশ্বে করোনার সংক্রমণ ঠেকিয়ে মানুষের কর্মক্ষেত্রে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফেরার জন্য একটি ভ্যাকসিনই হতে পারে মোক্ষম হাতিয়ার।
করোনার সম্ভাব্য একটি ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়ে এগিয়ে আছে মার্কিন কোম্পানি মডার্না। মানবদেহে প্রথম ধাপের পরীক্ষায় চমৎকার ফল পাওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর মে মাসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পায়।
যদিও মডার্নার এই ভ্যাকসিনের ফল নিয়ে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, ভ্যাকসিনের ফল অতিরঞ্জিতভাবে ঘোষণা দিয়েছে মডার্না। যে কারণে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানিটির ১৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি হয়ে যায়।
সমালোচকরা বলছেন, প্রথম ধাপের পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল ভ্যাকসিনটি নিরাপদ কিনা তা জানা। কিন্তু ভ্যাকসিনটির কার্যকরিতার তথ্য দিয়েছে তারা। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় ভ্যাকসিনটি আদৌ কাজ করবে কিনা তা জানা যাবে।
ভ্যাকসিনটির ইতিবাচক ফল পাওয়ার এই তথ্য মডার্না প্রকাশ করে গত ১৮ মে। মাত্র ৮ জন স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে প্রয়োগে অ্যান্টিবডির যে সাড়া পাওয়া গেছে, সেটি প্রকাশের পর কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্য ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রথম ধাপের পরীক্সায় আট স্বেচ্ছাসেবীর নিষ্ক্রিয় অ্যান্টিবডির মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এই অ্যান্টিবডিই করোনাভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম। করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের দেহের অ্যান্টিবডির সঙ্গে তুলনা করে এই তথ্য পাওয়া যায়।
ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল বলছে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যাওয়া মাত্র এক তৃতীয়াংশ ওষুধই চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষায় যায়। যে কারণে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফল বিশাল ঘোষণা দিয়ে প্রকাশ করা খুবই স্বাভাবিক।
ইউনিভার্সিটি অভ টেক্সাসের ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ ডা. পিটার হটেজ এক টুইটে বলেছেন, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে- সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর প্ল্যাজমায় পাওয়া অ্যান্টিবডি ভাইরাসটিকে নিষ্ক্রিয় করতে যথেষ্ট নয়।
তিনি বলেন, যে কারণে বহুল প্রতীক্ষিত ট্রায়ালের ফল দরকারি সু-সংবাদ নয়। প্রথম ধাপের পরীক্ষার ফল বিশাল করে প্রচার করায় অনেকেই মডার্নার ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বর্তমানে পড়ে গেছে।
এছাড়া কেন মডার্না অতিরিক্ত উত্তেজনাপ্রবণ হয়ে প্রথম ধাপের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করলো সেটি নিয়ে বিজ্ঞানীরাও প্রশ্ন তুলেছেন। ভ্যাকসিনটিকে অত্যধিক নিরাপদ হিসেবে মনে করা হয়েছে; যদিও প্রথম ধাপের পরীক্ষার উদ্দেশ্য ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা জানা নয়।
বর্তমানে মডার্না এই ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় যাওয়ার পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। এবার অন্তত ৬০০ সুস্থ স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে ভ্যাকসিনটি দুই ভাগে প্রয়োগ করা হবে: যাদের প্রথম ধাপের বয়স ১৮ থেকে ৫৫ এবং দ্বিতীয় ধাপের ৫৫ বছরের বেশি।
শুক্রবার (২৯ মে) মডার্নার এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক গ্রুপের স্বেচ্ছাসেবীদের ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ ইতোমধ্যে প্রয়োগ করা হয়েছে। এই পরীক্ষায় অংশ নেয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকে দুই ডোজ দেয়া হবে। এর একটি হবে কম মাত্রার এবং অন্যটি উচ্চমাত্রার ডোজ। পুরো এক বছর ধরে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে; চিকিৎসকরা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখবেন।
মডার্না তাদের ভ্যাকসিনটির তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা আগামী জুলাই মাসে চালানোর পরিকল্পনা করছে। এই পরীক্ষায়ও কম মাত্রার এবং উচ্চমাত্রার ডোজ প্রয়োগ করা হবে।
যদিও আগামী বছরের আগে মডার্নার এই ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল আসবে কিনা, সেটি এখনও পরিষ্কার নয়। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজের সদস্যরা ২০২০ সালের জানুয়ারির আগে একটি ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা সম্ভব হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সূত্র : ডেইলি মেইল।

এসকে