• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০, ১ শ্রাবণ ১৪২৭
প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২০, ০৯:০৭ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুন ৪, ২০২০, ০৯:০৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সহিংস বিক্ষোভে নিহত ১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সহিংস বিক্ষোভে নিহত ১১

যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার হাতে মাঝবয়সী কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভ-সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১১ জন নিহত ও কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে রাশিয়ার একটি বার্তা সংস্থা এই খবর জানিয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক কেটিএলএ টিভির বরাতে রুশ বার্তাসংস্থা তাস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জর্জ ফ্লয়েড (৪৬) হত্যার পর শুরু বিক্ষোভে নিহতদের মধ্যে শিকাগো, ডেট্রয়েট, ওমাহা, ডেভেনপোর্ট, ওকল্যান্ড, ল্যুইভিলের বাসিন্দারা রয়েছেন। যারা মারা গেছে তাদের বেশিরভাগই আফ্রিকান-আমেরিকান।
কেটিএলএ টিভির অনলাইন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওকল্যান্ডে ফেডারেল প্রোটেকটিভ সার্ভিস অফিসার ৫৩ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ ডেভ প্যাট্রিক আন্ডারউড গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এসময় আরেকজন অফিসার গুরুতর আহত হন।
এছাড়া ওমাহায় ২২ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ জেমস স্কারলক নিহত হয়েছেন। তিনি ও তার দল একজন শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তিকে মারধর করছিলেন। এই সময় ওই ব্যক্তি স্কারলককে লক্ষ্য করে গুলি করলে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া, বিক্ষোভে সহিংসতায় কয়েকশ মানুষ আহত হলেও তাদের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মার্কিন সংবাদ সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, টানা নয়দিন ধরে চলা বিক্ষোভে গোটা দেশে প্রায় দশ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে দুই হাজার ৭০০ এবং নিউইয়র্কের দেড় হাজার বিক্ষোভকারীও রয়েছেন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে লুট, কারফিউ ভঙ্গসহ নানা অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে শহরে চারজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকে আটক করে। এ সময় এক পুলিশ কর্মকর্তা হাঁটু দিয়ে তার গলা চেপে ধরে তিনি মারা যান। এই ঘটনার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে মিনিয়াপোলিস ও পরে গোটা দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
টানা নবম দিনের মতো এই বিক্ষোভ চলছে দেশজুড়ে। সহস্রাধিক শহরের বাসিন্দা রাস্তায় নেমে যুক্তরাষ্ট্রে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা বর্ণবৈষম্যের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তবে বিক্ষোভ মাঝখানে সহিংস রুপ ধারণ করলে অর্ধশতাধিক শহরে কারফিউ জারি হয়। অবশ্য বিক্ষোভে এখন সহিংসতা কমেছে।
প্রথমেপুলিশি সহিংসতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হলেও এখন তা বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ রুপ নিয়েছে। বিক্ষোভ দমনে ২০ হাজারের বেশি ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বিক্ষোভকারীদের ‌‘গুন্ডা’ অভিহিত করে সামরিক বাহিনীকে মাঠে নামানোর হুমকি দিয়ে রেখেছেন।

এসকে