• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭
প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২০, ০৫:৫০ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ১৬, ২০২০, ০৬:১৪ পিএম

ইতিহাসের ভয়াবহ স্যোসাল মিডিয়া হ্যাকিং

ওবামা-বাইডেনসহ মার্কিন প্রভাবশালীদের টুইটার হ্যাকড 

এস এম সাব্বির খান
ওবামা-বাইডেনসহ মার্কিন প্রভাবশালীদের টুইটার হ্যাকড 

‘১০০০ বিটকয়েন পাঠালে ২০০০ ফেরত দেব।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এমনই অদ্ভুত বার্তা যখন মার্কিন মুলুকের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারেক ওবামা ও আগামী নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বই জো বাইডেনের মতা ব্যক্তিদের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো হয়, তখন তোলপাড় শুরু না হয়ে উপায় কি!

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে জানা যায়, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট থেকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রতিদ্বন্দ্বী, সেলিব্রিটি গায়ক থেকে শিল্পপতিসহ বহু প্রভাবশালী মার্কিন নাগরিকের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে প্রচার করা এমন টুইট ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্য সৃষ্ট হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে। টুইটারের ইতিহাসে এত বড় পর্যায়ের হ্যাকিংকাণ্ড আর হয়নি বলেই মত সাইবার বিশেষজ্ঞদের। 
পরবর্তীতে অবশ্য এই টুইট পোষ্টগুলো মুছে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার মাধ্যমে টুইটারের মত জনপ্রিয় এই স্যোসাল মিডিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতার ইস্যুটি বিরাট ধাক্কা খাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা যায়, এ যাবত স্যোসাল মিডিয়া ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত এই হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় অংশের রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি, সেলিব্রিটি ও প্রভাবশালীরা। তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, বর্তমান ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন, শিল্পপতি জেফ বেজোস, ওয়ারেন বাফেট, বিল গেটস, মাইক ব্লুমবার্গ, এলন মাস্ক, সঙ্গীত তারকা কেনে ওয়েস্টের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিখ্যাত ও বিশ্বনন্দিত সব ব্যক্তিবর্গ। 

প্রায় একই বক্তব্য সামান্য ভাষাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে আলোচিত এসকল ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টুইট করা হয়েছে। ওই সব পোস্টে বলা হয়েছে, ‘করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় আমি সমাজের জন্য কিছু করতে চাই। আমার অ্যাকাউন্টে আপনারা ১০০০ বিটকয়েন দিলে আমি ২০০০ বিটকয়েন ফেরত দেব।’ এমন প্রতিটি পোষ্টের নীচে বিটকয়েন পাঠানোর একটি ঠিকানাও জুড়ে দেয়া।

তবে হ্যাকিংয়ের এই ভয়াবহ ঘটনার চেয়ে বেশি বিপত্তি সৃষ্টি হয়েছে টুইটারের দায়িত্ববোধ ও গ্রাহক পরিসেবা প্রদানের ক্কঝেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা নিয়ে। সমালোচনার মূল বক্তব্য হচ্ছে, এই ধরনের পোষ্টগুলো যাদের টুইটার ব্যবহার করে করা হয়েছে, পোষ্টের বক্তব্য বিবেচনা করলেই এটা যে হ্যাকিংকাণ্ড তা অনুমান করা যায়। তাছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরেও কেন সেগুলো সরিয়ে নিতে এত দীর্ঘ সময় নিলো টুইটারা কর্তৃপক্ষ!

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় অনুসারে বুধবার সকালে টুইটগুলি করা হয়। আর সেগুলো ডিলিট করা হয় সেদিন দুপুর নাগাদ। সাইবার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টুইটারের কন্ট্রোল পেজের অ্যাকসেস পেয়ে গিয়েছিল এই হ্যাকিংকাণ্ডের হোতা। সেই কারণেই পর পর বহু মানুষের টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রায় একই রকম পোস্ট করতে পেরেছে। আর সেগুলো নজরেও এলেও তাৎক্ষনিক ডিলিট করা সম্ভব হয়নি।  

সমস্যার সূত্রপাত হয়েছিল অবশ্য বুধবার সাত সকালেই। বহু মানুষ অভিযোগ জানাতে শুরু করেন যে তারা টুইট ব্যবহারে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এমন কি পাসওয়ার্ডও পাল্টানো যাচ্ছে না। টুইটার কর্তৃপক্ষের তরফেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে হয়েছিল, ‘‘আমরা জানি, নিরাপত্তাজনিত কিছু কারণে অনেকেই টুইট করতে পারছেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে জানানো হবে।’’ কিন্তু তার সমাধান হওয়ার আগেই এই বিশাল হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘোতে যায়।

তবে এই সব প্রভাবশালীদের অ্যাকাউন্ট হ্যাকের পরেও যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাজনিত কোনও সমস্যা হয়নি বা কোনও ভুল তথ্য দেওয়া হয়নি, সেটা কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞ তথা ‘সোশ্যাল প্রুফ সিকিউরিটি’-র সিইও রাচেল টোবাক বলেছেন, এটা বিরাট ঘটনা। আমরা দেখা অন্যতম বড় সাইবার হানা। আমরা ভাগ্যবান যে এই সব হ্যাকাররা মূলত আর্থিক ভাবে লাভবান হতে চেয়েছেম রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা সমাজে কোনও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজটি করা হয়নি, সেটা হলে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারতো।’’

তবে এতে যে টুইটারের ভাবমূর্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা বিরাট ধাক্কা খাবে, তেমনটাই মত বড় অংশের বিশেষজ্ঞদের। রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি থেকে ব্যবসায়ী— সবাই টুইটারের মাধ্যমে বার্তা দেন এবং এত দিন পর্যন্ত এটা নিশ্চিত ছিল যে ওই টুইট, অ্যাকাউন্টের ইউজারই করেছেন। এই ঘটনার পর থেকে সেটা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। ২০১২ সালে বারাক ওবামার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারের মুখ্য তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তা তথা মার্কিন উদ্যোগপতি হার্পার রিড মনে করেন, সমস্যা হল, আমরা সবাই টুইটারকে নিরাপদ ও নিশ্চিত বলে মনে করতাম। জো বাইডেন কোনও টুইট করলে সেটা যে তিনিই করেছেন, সেটাও নিশ্চিত ছিলাম। কিন্তু টুইটার প্রমাণ করল, সেটা নাও হতে পারে। যা ভবিষ্যতে ভোগান্তি সৃষ্টি করবে।

এসকে