• ঢাকা
  • সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭
প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০২০, ১১:০৭ এএম
সর্বশেষ আপডেট : অক্টোবর ১৬, ২০২০, ১১:০৭ এএম

জরুরি অবস্থা সত্ত্বেও ব্যাংকক বিক্ষোভকারীদের দখলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জরুরি অবস্থা সত্ত্বেও ব্যাংকক বিক্ষোভকারীদের দখলে
ব্যাংককের রাজপথে লাখো প্রতিবাদীর সম্মেলন - রয়টার্স

জরুরি অবস্থা উপেক্ষা করে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের পথে পথে উঠছে  গণতন্ত্রকামীদের বিক্ষুব্ধ স্লোগান। আর রাজপথ দখলে রয়েছে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি প্রালনকারী শিক্ষার্থীদের। চলমান বিক্ষোভ দমনে আরোপিত সরকারি নিষেদ্ধাজ্ঞা চাপা পড়েছে হাজার হাজার প্রতিবাদীর স্লোগানে।

বৃহস্পতিবার সকালেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল থাইল্যান্ডে। পাঁচজনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তারপর ব্যাংককের রাস্তায় পুলিশে ছেয়ে গেছিল। তিন ছাত্রনেতাকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ছাত্র-জনতার সম্মিলিত গণতন্ত্রকামী বিক্ষোভ ঠেকানো গেল না। জরুরি অবস্থায় কড়া ব্যবস্থা নেয়ার হুমকিকে অগ্রাহ্য করে প্রায় দশ হাজার বিক্ষোবকারী ব্যাংককের রাস্তায় নামেন। তারা তাদের দাবি থেকে একচুলও সরতে রাজি নন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে হবে এবং রাজার ক্ষমতা কমাতে হবে।

ছাত্র ও যুবদের মনোভাব স্পষ্ট হয়ে গেছে ২৬ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী ডেজকুনচর্নের কথায়। তিনি বলেছেন, আমি ভয় পাচ্ছি না। কারণ, জরুরি অবস্থা জারি থাকুক বা না থাকুক, আমাদের কোনো স্বাধীনতা নেই। আমি নিজের দেশে স্বাধীনতা চাই, অধিকার চাই। দেশকে দুষ্ট চক্রের হাত থেকে বাঁচাতে চাই।

বিক্ষোভকারীরা এখন গ্রেপ্তার করা তিন ছাত্রনেতাকে মুক্তির দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে যে বিরোধী নেতা ও প্রতিবাদকারীদের ধরা হয়েছে, সকলকে ছেড়ে দেয়ার দাবি করেছেন। তাঁদের হিসাব, এখনো পর্যন্ত ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যংককে গত কিছুদিন ধরে ছাত্র আন্দোলন চলছে৷ ১৯ আগস্ট কিং মংকুট’স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে৷ এ সময় তিন আঙুলের স্যালুট প্রদর্শন করেন তারা৷ ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা ক্ষমতা দখলের পর গণতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠে এই স্যালুট৷

জরুরি অবস্থা জারির পরই দাঙ্গারোধী পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়, তারা যেন কড়া হাতে বিক্ষোভের মোকাবিলা করে। সেই মতো সকালে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের সামনে থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। এই বিক্ষোভকারীরা সারারাত প্রধানমন্ত্রীর অফিসের সামনে বসেছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আগে সেনা প্রধান ছিলেন। ২০১৪ সালে তিনি ক্ষমতা দখল করেন। গত বছর বিতর্কিত নির্বাচনে জিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। ছাত্ররা তাঁকে মানতে নারাজ।

প্রধানমন্ত্রীর অফিসের সামনে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু বেলা গড়াতেই যে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী পথে নামলেন, তাঁদের সরানো সম্ভব হয়নি। ফলে জরুরি অবস্থার প্রথম দিনে ব্যাংকক বিক্ষোভকারীদের দখলেই ছিল।

এসকে