• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২১, ০৫:৫৯ পিএম
সর্বশেষ আপডেট : জানুয়ারি ২০, ২০২১, ০৬:০৩ পিএম

জো বাইডেনের অভিষেক

বয়স কিংবা জীবনযুদ্ধে হার না মানা প্রেসিডেন্ট

বয়স কিংবা জীবনযুদ্ধে হার না মানা প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বয়স্ক সরকারপ্রধান হিসেবে শপথ নিচ্ছেন দেশটির ৪৬তম প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ২০০৯ সাল থেকে দুই দফায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন ৭৮ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট নেতা। রাজনৈতিক জীবনের মতো তার ব্যক্তিগত জীবনও কম রোমাঞ্চকর নয়।

সিনেমার গল্পকেও যার জীবন হার মানায়
পেনসিলভানিয়ার স্ক্রানটনে ১৯৪২ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন জোসেফ রবিনেট বাইডেন। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। ছোটবেলা কেটেছে স্ক্রানটনেই। এরপর নিউ ক্যাসল কাউন্টি ও ডেলাওয়ারে বেড়ে ওঠা।

বাবা হলেন জোসেফ রবিনেট বাইডেন সিনিয়র আর আইরিশ বংশোদ্ভূত মা ক্যাথরিন ইউজেনিয়া ফিনেগান। ১৯৫০ সালে গাড়ি কোম্পানিতে কর্মরত বাবার চাকরি চলে যাওয়ায় পেনসিলভানিয়া ছেড়ে ডেলাওয়ারে চলে যায় বাইডেন পরিবার। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে ডেলাওয়ার ইউনিভার্সিটিতে ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করেন বাইডেন। এরপর তিনি সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটি থেকেও ডিগ্রি নেন আইন বিষয়ে।

১৯৬৬ সালে নেইলিয়া হান্টারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বাইডেন। তবে ১৯৭২ সালে তার স্ত্রীসহ এক বছর বয়সী কন্যা নাওমি ক্রিসমাস সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তখন দুই ছেলেকে নিয়ে শুরু হয় বাইডেনের নতুন জীবনযুদ্ধ। ১৯৭৫ সালে জিল জ্যাকবের সঙ্গে পরিচয় হয় বাইডেনের। ১৯৭৭ সালে বিয়ে করেন তারা। বাইডেন-জিল দম্পতির ঘর আলো করে আসে কন্যাসন্তান। বড় ছেলে বিউ রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরই ২০১৫ সালে ব্রেন ক্যানসারে মারা যান। ছেলে হারানোর শোকে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পদ থেকে সরে দাঁড়ান বাইডেন। অন্যদিকে আরেক ছেলে হান্টার নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তবে হাল ছাড়েননি বাইডেন।

সেবার নির্বাচনে হান্টারকে নিয়ে বাইডেনকে কটাক্ষ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে যেন সেই আক্রমণেরই জবাব দিলেন তিনি।

বাইডেনের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন
১৯৬৯ সাল থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় বাইডেন। ১৯৭০ সালে কৃষ্ণাঙ্গ শিশুদের আলাদা স্কুলে ভর্তির প্রথার বিরোধিতা করে ডেমোক্র্যাটদের নজরে আসেন। একই বছর বাইডেন নিউ ক্যাসেল কাউন্টির ডেমোক্র্যাট কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭২ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে ষষ্ঠ সর্বকনিষ্ঠ সিনেটর নির্বাচিত হয়ে পার্লামেন্টে চমক দেখান এই নেতা।

৩০ বছরের বেশি সময় সিনেটর ছিলেন বাইডেন। ২০০২ ও ২০০৩ সালে ইরাকে সামরিক অভিযান পরিচালনার প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছিলেন তিনি। তবে ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনা মোতায়েন বাড়ানোর বিরোধিতাও করেন। ২০০৭ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাইডেনকে ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন দেন বারাক ওবামা। বিপুল ভোটে জয়ী হয় এই জুটি। ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিনের রাজনীতি জীবনের সেরা অর্জন হিসেবে এবার দায়িত্ব নিচ্ছেন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে।

মহামারি করোনা আর বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় চ্যালেঞ্জ রেখে গেলেও বাইডেনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ওপরেই ভরসা রাখছে ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্র্যাট।

আরও পড়ুন